সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পায়ে চামড়ার চটি। গায়ে চাপানো জ্যাকেট। সাইকেলের সামনে একটি বোর্ডে পরিবেশ বাঁচানোর বার্তা। সেই সঙ্গে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ প্রচার। আর সাইকেলের পিছনে পতপত করে উড়ছে ভারতের জাতীয় পতাকা। সেখানেই ব্যাগপত্র, স্লিপিং ম্যাট সব কিছু। এভাবেই সাইকেলে চড়ে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় যাচ্ছেন বাঁকুড়ার যুবক বিপ্লব সিং।
দশ মাস আগে থেকে তাঁর সাইকেল ভ্রমণ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই প্রায় ২২টি রাজ্য ঘুরে এসেছেন। আর এবারের গন্তব্য মহাকুম্ভ মেলায় আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি অমৃতস্নান। সেই লক্ষ্যেই প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০৫ কিমি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সোমবার রাতে ঝাড়খণ্ডের তোপচাঁচিতে রাত কাটান বিপ্লব। মহাকুম্ভ মেলায় পৌঁছতে এখনও তাঁর বাকি ৫০৫ কিমি। হাতে সময় ৭ দিন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাইকেল যাত্রা চলছে। শনিবার ভোর চারটের সময় বিপ্লব বাড়ি থেকে বার হন।
বিপ্লবের বাড়ি দক্ষিণ বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের হলুদকালানির জানলেজা গ্রামে। বয়স মাত্র ২৪। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এই যুবক গত ১০ মাসে সাইকেলে ২৪ হাজার ৩০৭ কিমি ভ্রমণ করেছেন। যদিও প্রয়াগরাজ ভ্রমণের কিলোমিটার এখনও তিনি যুক্ত করেননি। আজ থেকে প্রায় ১০ মাস আগে সামাজিক বার্তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাইকেলে করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিপ্লব। ইতিমধ্যেই তিনি সাইকেলে ঘুরে এসেছেন ভুটান, নেপাল, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, দার্জিলিং, লাদাখ, তিরুপতি, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মুম্বই, দিল্লি, গোয়া, রামেশ্বরম, জম্মু-কাশ্মীর কন্যাকুমারী।
ওই যুবকের সাইকেল ভ্রমণের উদ্দেশ্যই হল বৃক্ষছেদন না করে একের পর এক গাছ লাগানোর বার্তা। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বান। সামাজিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন ইউটিউবারও। সেখানেও তিনি এই বার্তা দিয়ে থাকেন। বিপ্লব বলছেন, “বিশ্ব উষ্ণায়নের থাবায় আমরা জর্জরিত। সেই কারণেই দেশকে সুরক্ষিত রাখতে আমার এই সাইকেল ভ্রমণ। সেই সঙ্গে আমার বার্তা, মদ খেয়ে গাড়ি চালাবেন না। এই কাজের মধ্য দিয়ে আমি ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’কে তুলে ধরছি।” গত শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে বিপ্লব রওনা হয়ে প্রথমে কেন্দা থানায় আশ্রয় নেন। জেলা পুলিশ তাঁর এই সাইকেল ভ্রমণে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেন।
বিপ্লবের কথায়, “পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার আমাকে সাহায্য করেন। এই দীর্ঘ ১০ মাসে আমার সাইকেল ভ্রমণের পথে বহু মানুষের সাহায্য পেয়েছি। কোথাও অসুবিধা হয়নি। থাকা, খাওয়া সব রাস্তাতেই হয়েছে। মানুষজনই সাহায্য করেছেন আমাকে।” এছাড়া রানিবাঁধের এক সমাজসেবী চিত্তরঞ্জন মাহাতো তাঁকে প্রচুর সাহায্য করেছেন এই সাইকেল ভ্রমণে। ঝাড়খণ্ডের তোপচাঁচিতে একটি দোকানের বাইরের চালার নিচে সোমবার রাত কাটান। তবে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন ওই এলাকার মানুষজন। এই কাজের প্রশংসা করছেন সকলে।
সর্বশেষ খবর
-
পাহাড়ে শুয়ে-বসে মেঘ দেখাটাই চাকরি, বেতন মাসে সাড়ে ৮ লাখ, আবেদন করবেন?
-
ফিরল সৌরভের ন্যাটওয়েস্ট জয়ের স্মৃতি, ২৪ বছর পর লর্ডসে জার্সি খুলে সেলিব্রেশন ভারতীয় দলের
-
‘হর হর মোদি’, রাম রূপে প্রধানমন্ত্রী! রাজধানীর প্রেসক্লাবে ‘মোদি চালিশা’র অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক
-
ঝাড়খণ্ডের আদালতে পড়ুয়াদের জয়! সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
-
ট্রাম্প ‘নরম’ হতে চাইলেও কিম স্বমেজাজেই! মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার পরই ‘রহস্যময়’ মিসাইল ছুড়ল পিয়ংইয়ং