ছাব্বিশের ভোটে ভয়াবহ ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। একশো আসনও আসেনি তাদের ঝুলিতে। ৮০-তেই আটকে গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের জয়ী প্রার্থীদের সংখ্যা। আর দু’শোর বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি, এই প্রথমবার। প্রাক্তন শাসকদলের এই ব্যর্থতা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। নিচুস্তরের নেতা থেকে শুরু করে দলের পুরনো কর্মীদের অনেকের অভিযোগ, এই হতশ্রী ফলাফলের জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইপ্যাক নির্ভরতা। যে মাটি থেকে তৃণমূলের জন্ম, লড়াই সেই মাটিকে ভুলে ‘কর্পোরেট কালচার’ আনার ফলে মানুষের মন পড়তে ব্যর্থ হয়েছে দল, এমন অভিযোগ প্রবীণ নেতাদের একাংশের। আর এই পরিস্থিতিতে কার্যত অভিষেকের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বালিগঞ্জের বিধায়ক বললেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আগে যথেষ্ট খেটেছেন। নির্বাচনের ফলাফলের জন্য নির্দিষ্ট কাউকে বলির পাঁঠা করা ঠিক নয়।”
আরও পড়ুন:
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “অভিষেক অনেক খেটেছেন ভোটের আগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের দলকে বেশ কয়েকটি জায়গায় উত্তরণ ঘটিয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর নবজোয়ার যাত্রা বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবারের নির্বাচনের ফলাফলের কাউকে বলির পাঁঠা করা ঠিক হচ্ছে বলে মনে করি না। অভিষেক কম পরিশ্রম বা কম লড়াই করেননি। তারপরও দলের পরাজয় হয়েছে। এই ফলাফল মেনে নিতে হবে।”

শনিবার রাতেই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এরপর রবিবার তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন দলের ফলাফল নিয়ে। তাঁর কথায়, “অভিষেক অনেক খেটেছেন ভোটের আগে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের দলকে বেশ কয়েকটি জায়গায় উত্তরণ ঘটিয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর নবজোয়ার যাত্রা বেশ সাড়া ফেলেছিল। এবারের নির্বাচনের ফলাফলের কাউকে বলির পাঁঠা করা ঠিক হচ্ছে বলে মনে করি না। অভিষেক কম পরিশ্রম বা কম লড়াই করেননি। তারপরও দলের পরাজয় হয়েছে। এই ফলাফল মেনে নিতে হবে।”
দলের যে সব নেতা, কর্মীরা এখন, হারের পর ঘোর সমালোচনা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে শোভনদেবের অত্যন্ত কৌশলী বার্তা, সন্তান ভুল বা অন্যায় করলে তাকে ঘরের মধ্যে শাসন করতে হয়। বাইরে নিয়ে গিয়ে মাইকে ঘোষণা করে নয়। তাঁর কথায়, “যদি দল নিয়ে মনের মধ্যে কোনও বিরূপতা বা অসন্তোষ ছিল, তা আরও আগে বলা উচিত ছিল। সঠিক জায়গায় বলা উচিত ছিল। এখন দলের পরাজয়ের পর এসব বলার মানে সে দলকে ভালোবাসে না।” ছাব্বিশের ভোটে দলের এই ভরাডুবির জন্য বিশেষ করে প্রবীণ নেতারাই দুষছেন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক নির্ভরতাকে, সেখানে শোভনদেবের ভূমিকা সম্পূর্ণ উলটো। এবং তিনি বোঝালেন, দুঃসময়ে দোষারোপ বাদ দিলে দলের সঙ্গে থেকে লড়াই করাটাই আসল রাজনীতিকের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্বাধীনতা দিবসে ধর্মীয় স্লোগান সংখ্যালঘু ছাত্রীদের! ভিডিও ভাইরাল হতে সাফাই, ‘লাড্ডু খেতে এসেছিলাম’
-
জাদেজার উত্তরসূরি পেয়ে গেল ভারত! শ্রীলঙ্কার কোমর ভেঙে সুথার কৃতিত্ব দিলেন জাড্ডুকেই
-
ইন্দাসে খুন শেখ মাফিক, ‘কাগজপত্র নিয়ে এসো’, ‘আরশোলা’ সমর্থক ছেলেকে ফোন মমতার
-
সরকারের শতদিনে ‘গিফ্ট’ অমিত মেটালিক্স, পুরুলিয়ায় ৪০০০ কোটির কারখানার শিলান্যাস শুভেন্দুর
-
হাতেনাতে গ্রেপ্তার ব্যাঁটরা থানার এসআই, ‘খপ করে ধরেছি’, ‘ঘুষখোর’দের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর