রাজ্যে প্রথম ভোটের বাকি আর হাতে গোনা তিনদিন। ২৩ তারিখ মোট ১৫২ আসনে ভোট। এখন শেষবেলার প্রচার তুঙ্গে। তার আগে শেষ রবিবারে প্রচারের সুর সপ্তমে চড়াতে পিছপা নয় কোনও রাজনৈতিক দলই। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে শেষবেলার প্রচারে গিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। নন্দীগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিপূরণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বললেন, ‘‘এখানে আপনারা পবিত্র করকে জেতালে আমি কথা দিচ্ছি, ৫০ দিনের মধ্যে হলদি নদীর উপর সেতুর শিলান্যাস করে দেব। কথা দিলে আমরা কথা রাখি। আজ কথা দিয়ে গেলাম। ৪ মে-র পরই কাজ শুরু হয়ে যাবে।”
আরও পড়ুন:
অভিষেকের কথায়, ‘‘ আপনারা এবার পবিত্রকে (তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর) জেতান। আমি কথা দিচ্ছি, ৫০ দিনের মধ্যে আপনাদের দাবিমতো হলদি নদীর উপর সেতু তৈরি করে দেব। জানি এটা আপনাদের অনেকদিনের দাবি। কথা দিলে আমরা কথা রাখি। আজ কথা দিয়ে গেলাম। ৪ মে-র পরই কাজ শুরু হয়ে যাবে।”
আসলে হলদি নদীর উপর একটি স্থায়ী সেতু নন্দীগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। গত ৫ বছরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিধায়ক থাকাকালীন এনিয়ে কথা হলেও কাজ এতটুকু এগোয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছুটা চাপা ক্ষোভও ছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনী আবহে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ নেতা পবিত্র করকে প্রার্থী করা নিয়ে যখন তৃণমূলের অন্দরে জোর আলোচনা চলছিল, সেসময় পবিত্র তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে এই সেতুর কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কথা দিয়েছিলেন যে বিজেপির হাত থেকে নন্দীগ্রাম উদ্ধার করলে তাঁর দাবি রেখে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ওই সেতুর কাজ শুরু হবে।
তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র সরকারের দাবি যে সত্যি, রবিবার নন্দীগ্রামের প্রচারে গিয়ে সেকথা প্রমাণ করে দিলেন অভিষেক। শুভেন্দু অধিকারীকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘‘এখানে গত ৫ বছরে যিনি বিধায়ক ছিলেন, কোনও কাজ করেননি। আমাদের নেত্রী সর্বদা নন্দীগ্রামের কথা ভেবেছেন, এখানকার মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবেছেন। নন্দীগ্রাম তৃণমূলের কাছে অন্য আবেগ। এখানকার স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল দশা দেখে আমি যখন সেবাশ্রয় শিবির চালু করলাম, তখনও তিনি (শুভেন্দু অধিকারী) যথেষ্ট বাধা তৈরি করেছিলেন, খোঁচা দিয়েছিলেন। তার সেবাশ্রয় শিবিরের সাফল্য দেখে তিনি নকল করা শুরু করলেন। কী লাভ এসব করে? আপনারা এবার পবিত্রকে (তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর) জেতান। আমি কথা দিচ্ছি, ৫০ দিনের মধ্যে আপনাদের দাবিমতো হলদি নদীর উপর সেতু তৈরি করে দেব। জানি এটা আপনাদের অনেকদিনের দাবি।”
অভিষেকের এই আশ্বাসে আপ্লুত সাধারণ জনতা। আর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মত, ভোটপ্রচারের শেষবেলায় তৃণমূলের এটা মাস্টারস্ট্রোক। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াই আরও জমজমাট হল। তবে দীর্ঘদিনের সেতুর দাবি পূরণ কি হবে তাঁদের? তা স্পষ্ট হবে ৪ মে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ককরোচ’ অভিজিতকে ইংরাজি নিয়ে খোঁচা ‘টুয়েলভথ পাস’ কঙ্গনার, ভাইরাল ভিডিও
-
এবার বল হাতেও ভেলকি বৈভবের! ব্যাটিং ব্যর্থতা ভুলে দলীপ অভিষেকে জোড়া উইকেট, ভিডিও ভাইরাল
-
ফুটপাথে দুধ গরম বিতর্কে বাচ্চা কোলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মহিলা, ‘বাসস্থানের ব্যবস্থা করব’, বললেন শুভেন্দু
-
বহাল তবিয়তে খামেনেই, মৃত্যু জল্পনা উড়িয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে ইরানের সুপ্রিম লিডার!
-
‘ককরোচ’দের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! জনপ্রিয় সৌরভ-আশুতোষদের পদ থেকে সরাল সিজেপি?