নির্বাচনী প্রচারে এসে দিল্লির বিজেপি নেতাদের বক্তব্য মাঝেমধ্যে লাগামহীন হয়ে পড়ছে। কেউ কেন্দ্রের নাম ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারছেন না, কেউ শাসকদলকে আক্রমণ করতে গিয়ে শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে ফেলছেন! সেই তালিকায় এবার প্রধানমন্ত্রীর নামও জুড়ল। এদিন বঙ্গের একাধিক কেন্দ্রের ভোটপ্রচারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এলে তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেব।” তাঁর এই মন্তব্য যথেষ্ট আপত্তিকর বলে মনে করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রবিবার তিনি সাগরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী পদের মাহাত্ম্যের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তাঁর কথা, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এসে বলেছেন সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে দেব। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব, আপনি শান্ত হোন, মাথা ঠান্ডা রাখুন। আপনি আমার থেকে বয়সে অনেক বড়। আপনার প্রতি পূর্ণ মর্যাদা ও সম্মান রেখে বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বাংলার সবার মুখ্যমন্ত্রী, আপনিও দেশের সবার প্রধানমন্ত্রী। মাথা ঠান্ডা রাখুন।”
আরও পড়ুন:
রবিবাসরীয় দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার সমর্থনে এক বিরাট জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাগরের কালীগিরি ময়দানের জনসভায় অভিষেক রীতিমতো কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘‘এখন বুঝে গিয়েছে এসআইআর করেও হচ্ছে না। যতই কর এসআইআর, এই বাংলা ফের মমতার। বুঝে গেছে এসআইআর, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রীয় বাহিনী, জাতীয় নির্বাচন কমিশন সকলকে লাগিয়েও ল্যাজেগোবরে হচ্ছে।” আরও ঝাঁজাল সুরে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “এখনও ১০ দিন আছে। কেউ কেউ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনে দাঁত-নখ বার করে লাফিয়ে পড়ছে। পাগল হয়ে যাচ্ছে। পাগলা কুকুরের মত ঘেউ ঘেউ করছে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ। এতেই বোঝা যায় এদের পরাজয় অনিবার্য। কেউ আটকাতে পারবে না।”
এরপর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘‘উনি বলছেন, তৃণমূলের লোকদের বলব থানায় যাও, সবার হিসেব হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব, মাথা ঠান্ডা রাখুন। বাংলাকে যদি সত্যি ভালোবাসেন বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। যদি বাংলার মানুষের জীবনে সত্যিই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান তাহলে ভোটের পর কেন মোদিজি? কেন্দ্রীয় সরকারে তো আপনি রয়েছেন। মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, যুবকদের অ্যাকাউন্টে, মৎস্যজীবীদের টাকা পাঠান। ১৬ টি রাজ্যে তো বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন পরিবারের সকল মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন, বিজেপি শাসিত একটি রাজ্যেও যদি আপনি তা সুনিশ্চিত করতে পারেন, আমি কথা দিচ্ছি রাজনীতি থেকে বিদায় নেব। তৃণমূলের হয়ে আর ভোট চাইতে আসব না।”
আগামী ২৯ তারিখ, দ্বিতীয় দফায় এই কেন্দ্রে ভোট। দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তা সত্ত্বেও আত্মতুষ্টির কোনও স্থান নেই। ভোটের প্রচারে এতটুকুও ঢিলেমি নেই। বরং আরও শান দিচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বেতনের নথি সইয়ে অনীহা প্রশাসকদের! পরিচালন সমিতি ভাঙায় সমস্যায় স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকরা
-
রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে! অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করল যোগীর পুলিশ
-
ছুটছেন এমবাপে-ডেম্বেলেরা, সুইডেনের বিরুদ্ধে নামার আগে দেশঁর মাথাব্যথা নিজের দলই!
-
‘একেবারে মেরুদণ্ডহীন-চটিচাটা’, মোদির প্রশংসা করতেই কেন কটাক্ষের শিকার মাধবন?
-
এখনও জ্বলছে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল, বন্ধ ট্রেন চলাচল, ক্ষোভে ফুঁসছেন শ্রমিকরা