সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে বঙ্গ বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু তার আগেই বঙ্গ বিজেপিতে বিদ্রোহ! মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ মহকুমায় চরম গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার বিজেপি নেতৃত্ব৷ বিশেষ করে এসআইআর আবহে সমস্ত দলের নজরে রয়েছে বনগাঁ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই মহকুমা থেকেই প্রায় ৩৭ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই উদ্বাস্তু মতুয়া সমাজের মানুষ। এই অবস্থায় ২৬ এর ভোটে মতুয়াদের ভোট কোনদিকে যাবে তা নিয়ে রয়েছে চর্চা। এর মধ্যেই বিজেপির প্রাক্তন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব দলের বিরুদ্ধেই বোমা ফাটালেন! যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
বিজেপির প্রাক্তন বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মনস্পতি দেব নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্ট করেছেন। তিনি লিখছেন, ‘বনগাঁ জেলাতে আমাদের আদি বিজেপিদের মাথায় উঠে নাচছে টিএমসি খেদানো চিটিংবাজ৷’ আবার বাগদা বিধানসভা প্রসঙ্গে মনস্পতিবাবু লিখেছেন, ‘বাগদায় আদি বিজেপি কর্মীদের গলা টিপে ধরে আছে কিছু তৎকাল বিজেপি৷’ আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি বনগাঁ জেলার প্রথম সভাপতি। ৬ টি বিধানসভা জেতার কারণে আমি আজ কোন দায়িত্বে নেই। সব সিট তৃণমূলকে ছেড়ে দিলে হয়তো অনেক বড় দায়িত্ব পেতাম৷’ প্রবীণ এই বিজেপি নেতার পোস্ট ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর তরজা। উত্তর দিতে গিয়ে রীতিমতো বেকায়দা খোদ জেলা বিজেপি নেতৃত্বও।
মনস্পতিবাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘বনগাঁ জেলাতে আমাদের আদি বিজেপিদের মাথায় উঠে নাচছে টিএমসি খেদানো চিটিংবাজ৷ আবার বাগদা বিধানসভা প্রসঙ্গে মনস্পতিবাবু লিখেছেন, ‘বাগদায় আদি বিজেপি কর্মীদের গলা টিপে ধরে আছে কিছু তৎকাল বিজেপি৷’ আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি বনগাঁ জেলার প্রথম সভাপতি। ৬ টি বিধানসভা জেতার কারণে আমি আজ কোন দায়িত্বে নেই। সব সিট তৃণমূলকে ছেড়ে দিলে হয়তো অনেক বড় দায়িত্ব পেতাম৷’

রাজনৈতিকমহলের একাংশের কথায়, বনগাঁ বিজেপিতে এখন যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা কোনও না কোনও সময় তৃণমূল দল করতেন ৷ পরবর্তীকালে তারা নিজেদের স্বার্থে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে ৷ ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে বনগাঁ মহকুমার চারটি আসনই বিজেপি জয়ী হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাগদা বিধানসভার উপনির্বাচনে অবশ্য তৃণমূল জয়ী হয়৷ ভোটার তালিকা থেকে মতুয়াদের নাম বাদ যাওয়া এবং বিজেপির মধ্যে চরম গোষ্ঠীকোন্দলে উচ্ছ্বসিত তৃণমূল৷
ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার মতুয়া সম্প্রদায়ের নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখেই লড়াইয়ের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে শাসকদল তৃণমূল। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ”বিজেপি একটি উশৃঙ্খলা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার দল। মানুষের উন্নয়ন করে না৷ মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকে না। শুধু নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এরা দল করে। মানুষ এবার ওদের প্রত্যাখ্যান করবে ৷
অন্যদিকে নিজের ফেসবুক পোস্ট সম্পর্কে মনস্পতিবাবু বলেন, ”দলে আমার কোনও পদ নেই। ফলে আমার কোনও দায়িত্বও নেই৷ যা সঠিক মনে হয়েছে তাই লিখেছি।” যদিও এহেন পোস্ট নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ। শুধু বলেন, ”ওনার কথার কোন উত্তর দেবো না ৷ কারণ উনি দীর্ঘদিন নার্ভের রোগে ভুগছেন।”
সর্বশেষ খবর
-
চিনের অনুমতি নেই! মানস সরোবর যাত্রায় আটকে ভারতীয় পুণ্যার্থীরা, সতর্কবার্তা দিল কেন্দ্র
-
ব্রাজিলের কাছে হেরে ইস্তফা প্রবীণ কোচের, বিশ্বকাপের মাঝেই চাকরি যাচ্ছে আর এক হেডস্যরের!
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল