PM Modi

প্রচারের মাঝে চাখলেন ‘বাংলার স্বাদ’, ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়ে ও খাইয়ে জনসংযোগ মোদির

রবিবার ঝাড়গ্রাম-সহ বঙ্গে মোট চারটি নির্বাচনী সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এভাবে জনতার মাঝে দেখে ছবি, ভিডিও তুলে রাখলেন বাসিন্দারা।

Advertisement
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ১৯:৪১

options
link
প্রচারের মাঝে চাখলেন ‘বাংলার স্বাদ’, ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়ে ও খাইয়ে জনসংযোগ মোদির
ঝাড়গ্রামে প্রচার শেষে ঝালমুড়ি খেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নিজস্ব ছবি

বাংলার স্বাদ, বাঙালির স্বাদ। সেই স্বাদ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার অর্থ অনেক কিছু হাতছাড়া হয়ে যাওয়া। বাংলায় ঘনঘন প্রচারে এসে অন্তত সেই বোকামি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। প্রথম দফা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে শেষ রবিবার হাইভোল্টেজ প্রচারে তিনি জঙ্গলমহলের চার জায়গায় প্রচার করেছেন তিনি। তৃতীয় সভাটি ছিল আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে। সেখানকার সভা সেরে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে যাওয়ার সময়েই বাঙালির প্রিয় ঝালমুড়ি চাখলেন মোদি! ঝাড়গ্রাম কলেজ মোড়ে একটি ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। তাঁকে দেখে জড়ো হন আশপাশের মানুষজন। নিজে মুড়ি খেয়ে তাঁদের সকলকেও খাওয়ালেন প্রধানমন্ত্রী। এর ফাঁকেই সারলেন জনসংযোগ।

Advertisement

এমন বিরল দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রথমে চমকে যান। পরে অবশ্য সবটা ধাতস্থ হতেই মোবাইল বের করে মোদির ঝালমুড়ি খাওয়া ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তাঁরা। স্বাভাবিকভাবেই এই দৃ্শ্য ভাইরাল হতে বেশি সময় নেয়নি। সকলে ‘মোদি জিন্দাবাদ’ স্লোগানও তুললেন। মোদি নিজেই শুধু ঝালমুড়ির স্বাদগ্রহণ করেননি, উপস্থিত সকলকে ঝালমুড়ি কিনে খাইয়েছেন। এমনকী বিক্রম সাউ নামে মালিকের হাতে মুড়ির দামও তিনি দিয়েছেন জোর করেই। চবনলাল স্পেশাল ঝালমুড়ির দোকান আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠল মোদির আগমনে। এরপর মোদির সভা ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে। সেই সভা সেরে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেন ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি। বাংলার ‘সুস্বাদু পদ’ বলে উল্লেখ করলেন ঝালমুড়িকে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
PM Narendra Modi posted a picture of himself eating jhalmuri on Instagram.
ইনস্টাগ্রামে ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি পোস্ট মোদির।

আসলে প্রচার বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাঝে এভাবে পথেঘাটে থেমে জনসংযোগের চেনা ছবি দেখা যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। কখনও পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে কোনও মোমোর দোকানে ঢুকে  মোমো বানানোর কাজে হাত লাগান। কখনও আবার চায়ের দোকানে ঢুকে নিজে হাতে চা বানান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এতটা জনতার ভিড়ে মিশে যেতে আগে কেউ কখনও দেখেনি, অন্তত বাংলার মাটিতে তো নয়ই।তাই ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেতে খেতে তাঁর জনসংযোগ স্বভাবতই বেশ হইহই ফেলেছে জনমনে। 

Advertisement

এদিকে মোদির এই ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছে তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, ঝালমুড়ি খেয়ে আদিবাসীদের প্রতি সমবেদনা জানানো যায় না। তিনি ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য ওখানে ছিলেন। একই  সময়ে আদিবাসীদের পাশে থেকে প্রচারের জন্য এসেছিলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ঝাড়গ্রামে থাকার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু মোদির কর্মসূচির জন্য সেই অনুমতি মেলেনি। এই দ্বিচারিতা কেন? সেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। ওয়াকিবহাল মহলের মত, বাংলা জিততে হলে  মেকি আবেগ নয়, সত্যিই বাঙালি হয়ে ওঠা জরুরি, তা বোধহয় এতদিনে বুঝেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভোটের মুখে মোদির এই ‘আমজনতা’ ইমেজ কি নির্বাচনী যুদ্ধে কোনও প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্নও থাকছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.