তৃণমূলের ‘অত্যাচার’ থেকে প্রাণে বাঁচতে বিজেপি কর্মী ও তাঁর ছেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পরে সুন্দরবণের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে গভীর রাতে দু’জনে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। মানত করেছিলেন তৃণমূল রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে মাথা মুণ্ডন করবেন। এবারের ভোটে পর্যুদস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বাংলায় প্রথমবার সরকার তৈরি করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের মানত পূরণ হল। মাথা নেড়া করলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবনের হেমনগর ও হিঙ্গলগঞ্জ এলাকার।
এই বিষয়ে আরও খবর
বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র এখানে জয়লাভ করেছেন। সেই জয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। জয় ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় আবির খেলা, মিষ্টিমুখ, বাজি ফাটানো এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা যায় দলীয় কর্মীদের। বসিরহাটের সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার কালীতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারঘুমটি এলাকার ২৫০ নম্বর বুথে এই জয় উদযাপন ঘিরে এক ব্যতিক্রমী ছবি সামনে আসে। স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ মাথা মুণ্ডন করে কালীপুজো দেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অশান্তি, ভয় ও সংঘর্ষের আবহের মধ্যে মানত করেছিলেন। পছন্দের প্রার্থী জয়ী হলে পুজো দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে বহু বছর আগের এক তিক্ত স্মৃতি। ২০১১ সালের ২ জুলাই, তৎকালীন ২৪৯ নম্বর (বর্তমানে ২৫০ নম্বর) বুথের পঞ্চায়েত সদস্য নিতাই পদ রায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। সেই সময় তাকে বাঁচাতে গেলে তার ছেলে দীনবন্ধু রায়ও হামলার মুখে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে বাবা-ছেলে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং পরে সুন্দরবনের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাত গভীর হলে তারা বাড়ি ফিরেছিলেন। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই নিতাই পদ রায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন অসুস্থতার মধ্যে কাটান।
প্রাণ বাঁচাতে বাবা-ছেলে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং পরে সুন্দরবনের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাত গভীর হলে তারা বাড়ি ফিরেছিলেন। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকেই নিতাই পদ রায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন অসুস্থতার মধ্যে কাটান।
সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশায় মানত করেছিলেন নিতাইপদ রায়। তার কথায়, “দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লড়াই, ভয় আর চাপের মধ্যে দিন কাটিয়েছি। আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমাদের পছন্দের সরকার এলে কালীপুজো দেব এবং মাথা মুণ্ডন করব। আজ সেই মানত পূরণ করলাম।” পারঘুমটি মিতালী সংঘের মাঠে আয়োজিত এই পুজো ও মাথা মুণ্ডন অনুষ্ঠানে বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি রাজনৈতিক আবেগও ছিল স্পষ্ট। উপস্থিত কর্মীরা জানান, এই জয়কে তারা শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য হিসেবে দেখছেন না, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফল হিসেবেই দেখছেন।
নিতাই পদ রায় আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করেছি। সাধারণ মানুষ ভয় ও সন্ত্রাসের মধ্যে ছিলেন। এই জয়ের ফলে মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখছেন। আগামী দিনেও ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা চলবে।” কালীতলা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
ব্রাজিল ম্যাচের আগেই পানামার বিরুদ্ধে নামবে ভারত, দিনক্ষণ জানিয়ে দিল ফেডারেশন
-
ঠিকভাবে উল্লেখ নেই রাস্তার নাম! কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড বিন্যাস নিয়ে ৭ দফা আপত্তি সিপিএমের
-
হাসপাতালে থাকতে নারাজ বিমান বসু, ফিরতে চাইছেন কলকাতায়! কবে ছুটি?
-
দার্জিলিঙে রোপওয়ে, সুন্দরবনে প্রমোদতরী! পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে মাস্টার প্ল্যান রাজ্যের
-
আচমকা মস্কোয় অবতরণ করল মার্কিন সেনার বিমান! ঘনাচ্ছে রহস্য, কী বলল ক্রেমলিন?



