ভোট প্রথমা
West Bengal Assembly Election

ভোট ‘প্রথমা’ শান্তিপূর্ণ, কমিশনকে একসুরে ফুল মার্কস দিল তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস!

নির্বাচন রক্তপাতহীন করতে গোড়া থেকে কমিশনের কড়াকড়িতে বিরক্ত ছিল অনেক রাজনৈতিক দলই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১৪:৩৪

options
link
ভোট ‘প্রথমা’ শান্তিপূর্ণ, কমিশনকে একসুরে ফুল মার্কস দিল তৃণমূল-বিজেপি-কংগ্রেস!
কমিশনের প্রশংসায় একযোগে সব রাজনৈতিক দল।

বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ভোটের (West Bengal Assembly Election) দিন তুমুল সংঘর্ষ নেই, বোমাবাজি-গুলিচালনা নেই, একফোঁটা রক্ত ঝরেনি – বঙ্গে এমন পরিবেশ কে, কবে দেখেছেন, স্মরণও করতে পারেন না হয়তো। আর সেই সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই বদ্ধপরিকর ছিল নির্বাচন কমিশন। ছাব্বিশে বঙ্গের বিধানসভা ভোট সুসম্পন্ন করতে দেড় মাস আগে থেকে রাজ্যকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। জায়গায় জায়গায় সেনাবাহিনীর বুটের শব্দে ভোটের ঢের আগেই যেন ভোট এসে পড়েছিল। রাস্তাঘাটে কড়াকড়ি, একের পর এক চেকিংয়ে বিরক্ত হয়ে উঠেছিল আমজনতা। কিন্তু ভোটের প্রথম দিন দেখা গেল, যতটা আশঙ্কা ছিল, সেই তুলনায় অনেক কম অশান্তি। রাজনৈতিক সংঘর্ষ হলেও সঙ্গে সঙ্গে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হয়েছে। দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর বাহবাই পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। একযোগে তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থীরা কমিশনকে প্রায় ফুল মার্কস দিয়ে দিল।

Advertisement

ভোটের প্রথম দিন দেখা গেল, যতটা আশঙ্কা ছিল, সেই তুলনায় অনেক কম অশান্তি। রাজনৈতিক সংঘর্ষ হলেও সঙ্গে সঙ্গে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হয়েছে। দিনের অর্ধেকটা সময় কেটে যাওয়ার পর বাহবাই পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। একযোগে তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থীরা কমিশনকে প্রায় ফুল মার্কস দিয়ে দিল।

সাতসকালে দুই মেদিনীপুরের ভোটার হিসেবে নিজেদের কেন্দ্রে ভোট (West Bengal Assembly Election) দিয়েছন গেরুয়া শিবিরের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী। দু’জনেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে খোশমেজাজে বুথ পরিদর্শনে বেরন। কোথাও কারও ভোট দিতে সমস্যা হচ্ছে কিনা, কোথাও অশান্তি হচ্ছে কিনা, এসব খতিয়ে দেখেন। সর্বত্র প্রায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখে দুই নেতাই কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। দিলীপ ঘোষের কথায়, “আপাতত আমি বাড়িতেই থাকব। কোথাও সমস্যা হলে, তখন আমি যাব। আমার মনে হয় না বেশি মুভমেন্ট করার দরকার আছে। কারণ, লোকে শান্তিতেই ভোট দিচ্ছে। পরিবেশও ঠিক আছে।” নির্বাচন কমিশনের কাজে সন্তোষপ্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারীও। বৃহস্পতিবার সকালে শান্তিকুঞ্জের বাড়ি থেকে ভোট দিতে বেরনোর সময় তিনি বলেন, “পরিবর্তন আনুন। বিজেপির হাতে দায়িত্ব দিন। শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রার্থনা করুন। খুব একটা উৎপাত করতে পারেনি। পারবেও না। প্রাথমিকভাবে ভোটের আগের রাতটা খুব গুরুত্বপূর্ণ থাকে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতেই পারে।”

Advertisement

বহরমপুরে নিজের বুথে ভোট দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, “এবার বহুস্তরীয় নিরাপত্তার ব‍্যবস্থা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ঢুকে গিয়ে ছাপ্পা দেওয়া, বুথ দখল করা, এসব এবার হবে না। বাইরে থেকে বা দূর থেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা এখনও করছে কেউ কেউ। কিন্তু বুথে এসে ভোটারদের ধাক্কা মেরে বার করে দেওয়ার যেসব ছবি অন‍্যান‍্য বার দেখা যায়, তা এবার করতে পারবে না।”

Advertisement

রাজগঞ্জে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন অ্যাথলেট স্বপ্না বর্মন। এদিন নিজের বুথে তিনি ছিলেন প্রথম ভোটার। স্বপ্নার বুথেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হয়েছে। তার জন্য কমিশন এবং প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। নিজের কেন্দ্র রাজগঞ্জের ভোটারদের কাছে স্বপ্নার আবেদন, “আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। আমাকে সকলে আশীর্বাদ করবেন। একটাই অনুরোধ করব, সকলে আশেপাশের পরিস্থিতি দেখে তারপরে ভোট দেবেন।” এ থেকেই স্পষ্ট, রাজনৈতিক বিরোধিতা নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ ভোট করতে কমিশনের ভূমিকায় সন্তুষ্ট সবাই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.