২০২৬-এর ভোটে (Assembly Elections 2026) প্রার্থী হতে চেয়ে বহু আগে থেকে তদ্বির করেছিলেন। ঝাড়াই-বাছাই করে সুযোগ্য প্রার্থী যাতে খুঁজে নেয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, তার জন্য বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে জমা দিয়েছিলেন নিজের জীবনপঞ্জি। দীর্ঘদিন ধরে দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে এটুকু আশা তো ছিলই যে ভোট ময়দানে এবার তাঁকে সৈনিক করবে গেরুয়া শিবির। কিন্তু দু’দফায় বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর তাঁর হাতে রইল স্রেফ পেন্সিল! নিজের পছন্দমতো আসন তো নয়, ঘোষিত ২৫৫ আসনের কোথাও প্রার্থী করা হয়নি বঙ্গ বিজেপির ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারকে।
আরও পড়ুন:
রিঙ্কুদেবীর গলায় আক্ষেপ, ”এটাও বুঝতে পারলাম যে উনি (সুনীল বনশাল) মুখে যা-ই বলুন, আমাকে টিকিট দেবে না। তাহলে এতক্ষণে প্রার্থী বদলে দিত। তাহলে এতগুলো বছর ধরে কোন দল করলাম, কাদের জন্য করলাম?”
আর তারপরই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটালেন তিনি। ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে তিনি ফোনে জানালেন, ”রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কুকাজে যুক্ত। আমি সুনীল বনশালজিকে একথা জানিয়েছি। জানি না,দল কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে এঁদের প্রার্থী করল, কিন্তু দলের এসব লোকজনের আসল পরিচয় শীর্ষ নেতাদের জানানো আমার কর্তব্য। তাই ওঁকে বলেছি।” রিঙ্কুদেবীর (Rinku Majumder) গলায় আক্ষেপ ঝরে পড়ল। জানালেন, ”এটাও বুঝতে পারলাম যে উনি (সুনীল বনশাল) মুখে যা-ই বলুন, আমাকে টিকিট দেবে না। তাহলে এতক্ষণে প্রার্থী বদলে দিত। তাহলে এতগুলো বছর ধরে কোন দল করলাম, কাদের জন্য করলাম?”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী পীষূষ কানোরিয়া। রিঙ্কুদেবীর অভিযোগ, তিনি আর্থিক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। অন্যদিকে, বীজপুরের প্রার্থী সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাকে খুনের অভিযোগ আছে। আপাতত তিনি জামিনে মুক্ত। এমন দু’জনকে ‘দাগি’কে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করা নিয়ে দলের অন্দরে সামান্য ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল। সেই স্ফুলিঙ্গ আরও উসকে দিল রিঙ্কুদেবীর বক্তব্য। রিঙ্কু মজুমদার নিজে এই দুটি কেন্দ্রের মধ্যে যে কোনও একটিতে প্রার্থী হওয়ার কথা তাঁর জীবনপঞ্জিতে উল্লেখ করেছিলেন। তার কোনওটাই মান্যতা পায়নি। উপরন্তু স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নয়, এমন নেতাদের টিকিট দিয়ে বিজেপি বড়সড় ভুল করেছে বলে মনে করছেন দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মী রিঙ্কু মজুমদার।
রিঙ্কুদেবীর কথায়, ”আমাকে টিকিট দিতে হলে পরিবারতন্ত্রের কথা আসছে! আমাকে বলা হচ্ছে, আমি যেন স্বামীকে জেতানোর জন্য প্রচার করি। কেন? বীজপুরের যিনি প্রার্থী, তিনি তো অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ। এমনকী ওখানেও বাবা-ছেলে (অর্জুন সিং-পবন সিং) প্রার্থী হয়েছেন। শুধু আমার বেলায় পরিবারতন্ত্র?”
‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’কে তিনি এও জানিয়েছেন যে বঙ্গ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশালকে যখন তিনি প্রার্থীদের আসল পরিচয়ের কথা জানান, তখন নাকি বনশালজি জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি বা খুনে অভিযুক্ত বলে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারলে প্রার্থী বদলে দেবেন। কিন্তু পরেরদিনই প্রার্থী বদলের প্রসঙ্গ তিনি সম্পূর্ণত এড়িয়ে যান। আর এতেই রিঙ্কুদেবীর ধারণা, অভিযোগ যতই থাকুক, একবার প্রার্থী ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর তা আর বদলের পথে হাঁটতে চাইছেন না দলের শীর্ষ নেতারা। এই ভাবনার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেকে ‘ব্রাত্য’ মনে করছেন দিলীপজায়া।
তাঁর কথায়, ”আমি মিসেস ঘোষ হয়েছি তো কয়েকমাস আগে। কিন্তু দলের জন্য আমি কাজ করেছি দীর্ঘদিন ধরে। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, ভালোভাবে পালন করেছি। এখন হঠাৎ আমাকে টিকিট দিতে হলে পরিবারতন্ত্রের কথা আসছে! আমাকে বলা হচ্ছে, আমি যেন স্বামীকে জেতানোর জন্য প্রচার করি। কেন? বীজপুরের যিনি প্রার্থী, তিনি তো অর্জুন সিং ঘনিষ্ঠ। এমনকী ওখানেও বাবা-ছেলে (অর্জুন সিং-পবন সিং) প্রার্থী হয়েছেন। শুধু আমার বেলায় পরিবারতন্ত্র?”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সন্তান হারানোর তিনদিন পরেই শেষ বিশ্বকাপ স্বপ্ন! নিয়তির পরিহাসে কান্নায় ভাঙলেন গাকপো
-
‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে হুমায়ুনকে হাজিরার নির্দেশ পুলিশের, কী বলছেন বিধায়ক?
-
তহবিল মামলায় ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
-
বেতনের নথি সইয়ে অনীহা প্রশাসকদের! পরিচালন সমিতি ভাঙায় সমস্যায় স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকরা
-
রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে! অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করল যোগীর পুলিশ