মালদ্বীপে সেনা পাঠালে ফল ভাল হবে না, নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারি বেজিংয়ের

ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, ভারত সেনা পাঠালে প্রতিরোধ করবে চিন ও সৌদি আরব।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮, ১৭:২৩

options
link
মালদ্বীপে সেনা পাঠালে ফল ভাল হবে না, নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারি বেজিংয়ের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত যদি অশান্ত মালদ্বীপে সেনা পাঠায়, তাহলে ফল ভাল হবে না। নয়াদিল্লিকে এই ভাষাতেই হুঁশিয়ারি দিল বেজিং। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মালদ্বীপের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে যেন না চায় ভারত। এই বলে সাউথ ব্লককে সতর্ক করেছে বেজিং।

Advertisement

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালদ্বীপের দখল নিয়েছে মহাশক্তি চিন। তবে সামরিকভাবে নয়, একটু অন্যভাবে। কম সুদে ঋণ দিয়ে, আবাসন, পরিকাঠামো নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগ করে, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের অংশীদার হয়ে মালদ্বীপের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতিকে কবজা করেছে বেজিং। ইউপিএ জমানা থেকে মালদ্বীপ নিয়ে চরম অবহেলা করার এবং উদাসীনতা দেখানোর মাসুল দিচ্ছে ভারত। যখন ঘুম ভেঙেছে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। এটাই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা। যার ফল, মালদ্বীপে অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীকে চূড়ান্ত প্রস্তুত রেখেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে নয়াদিল্লিকে। অর্থাৎ মালদ্বীপে গণতন্ত্র ফেরাতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালানোর তোড়জোড় করছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বাড়ানোর ও ক্ষমতা দেখানোর একটা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হতে চলেছে। কারণ ছোট্ট মালদ্বীপে ভারতের শমন এখন চিন। ভারত সেনা অভিযানের প্রস্তুতি নিতেই চিনা হুমকি, ভারত মালদ্বীপে সেনা পাঠালে একদমই ভাল হবে না। পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। কারণ চিন চুপ করে বসে থাকবে না। বুধবার চিনা কমিউনিস্ট পার্টির হুঁশিয়ারি, ভারত মালদ্বীপে হস্তক্ষেপ করলে চিনও কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করতে পারে। মালদ্বীপে ভারতের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।’ ফলে আপাতত হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়েছে দিল্লিকে। সবমিলিয়ে রক্তচাপ বেড়েছে ভারত সরকারের।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[সেনা পাঠাক ভারত, আরজি মালদ্বীপের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নাশিদের]

এদিকে, ক্ষমতাচ্যুত ভারতপন্থী প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ বার বার টুইট করে আরজি জানিয়েছেন, ‘ভারত বাঁচাক আমাদের। মালদ্বীপে গণতন্ত্র বন্দি। ভারত সেনা পাঠিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করুক। ভারত বরাবরই আমাদের বন্ধু। ১৯৮৮ সালে তামিল জঙ্গিদের অভ্যুত্থান থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মামুন আবদুল গায়ুমকে বাঁচিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। বিপুল সেনা পাঠিয়ে ‘অপারেশন ক্যাকটাস’ সফল করেছিলেন রাজীবজীও। এবারও সেনা পাঠিয়ে আমাদের দেশকে মুক্ত করুক ভারতীয় সেনা। না হলে রক্তক্ষয়, হিংসা অনিবার্য।’ পাল্টা হুমকি দিয়েছেন নাশিদের এক নম্বর শত্রু ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিন। তিনি বলেছেন, ভারত সেনা পাঠালে তা প্রতিরোধ করবে চিন ও সৌদি আরব। ভারতের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। এই অবস্থায় পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে ভারত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালদ্বীপের সংবিধান মেনে সে দেশে আইনের শাসন কার্যকর করতে আবেদন করেছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক বলেছেন, হিংসা, অশান্তি রুখতে মালদ্বীপকেই গণতান্ত্রিক উপায়ে সমাধান খুঁজতে হবে। সে দেশে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা তুলে নিতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার উপর জোর দিচ্ছে রাষ্ট্রসংঘ। মালদ্বীপ সরকারকে অনুরোধ তারা যেন অবিলম্বে প্রধান বিচারপতি, ও অন্য বিরোধী নেতাদের নিঃশর্তে মুক্তি দেয়। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী ১০ সদস্য দেশের মধ্যে এই বছর নির্বাচিত হওয়ার কথা মালদ্বীপের। ওই অস্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে নির্বাচিত হওয়ার কথা ইন্দোনেশিয়ারও। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আবদুল্লা ইয়ামিনের দমননীতি হয়তো মালদ্বীপের সেই সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। কারণ জরুরি অবস্থা না তুললে এবং ঘরোয়া অশান্তি না মিটলে মালদ্বীপের নিরাপত্তা পরিষদে ঢোকা মুশকিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

[সেনার দখলে মালদ্বীপের পার্লামেন্ট, ২ সাংসদের গ্রেপ্তারিতে অচলাবস্থা দ্বীপরাষ্ট্রে]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.