পাকিস্তানে ‘জেহাদি কারখানা’র ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস ফিদায়েঁর

সন্ত্রাসের 'ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন' তৈরি করে রক্তাক্ত পাকিস্তান।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৭, ১০:৫৯

options
link
পাকিস্তানে ‘জেহাদি কারখানা’র ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস ফিদায়েঁর

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসের ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ তৈরি করেছে পাকিস্তান। দানবের হাতে রক্তাক্ত হয়ে দিতে হচ্ছে খেসারত। সম্প্রতি, পাক ‘জেহাদি নেটওয়ার্কের’ ভয়ানক তথ্য তুলে ধরল ধৃত এক ফিদায়েঁ।

Advertisement

সম্প্রতি, একটি বিফল আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এক আত্মঘাতী জঙ্গি। উসমান নামের ওই কিশোরটিকে জেরায় উঠে আসে ভয়ানক তথ্য। তদন্তকারীদের সামনে উসমান তুলে ধরে পাকিস্তানের অন্দরে ফুলেফেঁপে উঠা জঙ্গি তৈরির ‘কারখানা’র ভয়াবহ চিত্র। পূর্ব আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশ পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে বোমা তৈরি কারখানা। রয়েছে বিস্তর মাদ্রাসা ও মৌলবাদীদের আস্থানা। সেখানে যুবকদের মগজধোলাই করে সন্ত্রাসের পথে ঠেলে দেওয়া হয়। পাকিস্তানে ক্রমশ বেড়ে উঠেছে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা। শুধুমাত্র হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী নয়, শিয়া সম্প্রদায়ও রক্তাক্ত হয়েছে একাধিক হামলায়। মৃত্যু হয়েছে কয়েক’শ মানুষের।

Advertisement

[আফগানিস্তানের মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, মৃত ২৯]

Advertisement

পাক পুলিশ সূত্রে খবর, ওসমানের মতো কিশোরদের জঙ্গিদলে যোগ দিতে মদত করে এক আন্তর্জাতিক ‘জেহাদি নেটওয়ার্ক’। ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে যুবকদের ‘জেহাদে’র জন্য আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে হামলা চালাতে প্ররোচনা দেয় তারা। আন্তর্জাতিক জঙ্গিসংগঠন ইসলামিক স্টেটের সঙ্গেও যোগ রয়েছে ওই জেহাদি নেটওয়ার্কের। ইরাক ও সিরিয়ার প্রায় পর্যুদস্ত হলেও, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জাল বিস্তার করার চেষ্টা করছে আইএস। উল্লেখ্য, যদিও প্রত্যক্ষভাবে পাকিস্তানে কার্যক্ষম নয় ইসলামিক স্টেট, অন্যান্য শাখা সংগঠনের মাধ্যমে নাশকতা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে ওই জঙ্গি সংগঠনটির। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন শাখার শীর্ষ আধিকারিক রাজা উমের খাটটাব। উল্লেখ্য, শিকারপুর এলাকায় জঙ্গি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল আঠারো বছর বয়সের উসমান। তখনই তাকে পাকড়াও করা হয়। শুনানির পর মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় তাকে। বর্তমান ওই এলাকার একটি জেলে রয়েছে সে।

পাকিস্তানের সোয়াট উপত্যকার বাসিন্দা উসমান। তার বাবা ছিল পাকিস্তান তালিবানের সদস্য। মার্কিন হানায় বাবার মৃত্যুর পর উসমান তার পরিবারের সঙ্গে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে পালিয়ে আসে। তারপরই এক জেহাদির সংস্পর্শে আসে ওই পাক কিশোর। তারপরই জঙ্গি ট্রেনিংয়ের জন্য বালোচিস্তানে রওনা দেয় সে। সেখানে আত্মঘাতী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেয় আল কায়দা, তালিবানের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি। ওই জঙ্গির স্বীকারোক্তিতে পাকিস্তানের মুখ পুড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসের চারণভূমি পাকিস্তানের মুখোশ খুলে গিয়েছে ওই ঘটনায়।

[ভারতে পরমাণু হামলার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে, মত পাক বিশেষজ্ঞদেরই]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.