যুদ্ধের ঘনঘটা
Pakistan

ইরানকে মারতে তৈরি হচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’! হঠাৎ সৌদি সফরে পাকিস্তানের মুনির

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এই দুই দেশের কারও উপর হামলা হলে সেই হামলাকে উভয়ের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৬, ১৮:২১

options
link
ইরানকে মারতে তৈরি হচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’! হঠাৎ সৌদি সফরে পাকিস্তানের মুনির

সুপ্রিম সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমেরিকা-ইজরায়েল তো বটেই, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়েছে ইরান। সৌদি আরব, আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, বাহরিনের পাশাপাশি আজারবাইজানও রেহাই পায়নি ইরানের হাত থেকে। ভয়ংকর এই পরিস্থিতিতে ইরানকে শিক্ষা দিতে গোপনে প্রস্তুতি শুরু করল ‘ইসলামিক ন্যাটো’! এই জল্পনাই এবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের সৌদি সফরে।

Advertisement

শনিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বিন সলমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আসিম মুনির। সেই সাক্ষাতের ছবি শেয়ার এক্স হ্যান্ডেলে সলমন লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের সেনা প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা সৌদি আরবের উপর ইরানের হামলা এবং আমাদের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এমন যে কোনও পদক্ষেপ রুখতে প্রয়োজনীয় আলোচনা করেছি। আশা করব ইরান বিচক্ষণতা দেখাবে এবং কোনওরকম ভুল পদক্ষেপ এড়াবে।’ এই বার্তায় সলমন ইসলামিক ন্যাটোর নাম না নিলেও তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল সেদিকেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আমরা সৌদি আরবের উপর ইরানের হামলা এবং আমাদের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এমন যে কোনও পদক্ষেপ রুখতে প্রয়োজনীয় আলোচনা করেছি।

কূটনৈতিক মহলের দাবি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠক কূটনৈতিকভাবে ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কয়েকমাস আগে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব মিলে একটি ত্রিভুজাকার ‘ইসলামিক ন্যাটো’-সদৃশ প্রতিরক্ষা জোট গঠনের চেষ্টা করেছিল। যার লক্ষ্য ছিল অস্থির মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরেও নিরাপত্তার এক বর্ম তৈরি করা। অনুমান করা হচ্ছে, অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে শিক্ষা দিতে গোপনে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এই জোট। সম্প্রতি সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে আক্রমণ করেছে ইরান। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল পাকিস্তান ও রিয়াদ, অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলিও এই হামলার নিন্দায় সরব হয়। এখন প্রশ্ন হল ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাঝে প্রতিরক্ষা জোটকে ধামাচাপা দিয়ে ইসলামাবাদ কী শুধুই মৌখিক নিন্দা করেই দায়িত্ব এড়াবে, না কি প্রতিরক্ষা জোটের মান রাখতে পালটা মারের পথে হাঁটবে? অনুমান করা হচ্ছে, দ্বিতীয় অবস্থানই নিতে পারে পাকিস্তান।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব এক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এই দুই দেশের কারও উপর হামলা হলে সেই হামলাকে উভয়ের উপর আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে। এই চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অনুরূপ একটি বিধান রয়েছে, যেখানে বলা
হয়েছে যে একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সকল সদস্যের উপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তিতে তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। ফলে চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, সৌদির উপর ইরানের হামলার জবাব দিতে বাধ্য পাকিস্তান।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.