দু’সপ্তাহেরও কম সময়। মাত্র ১২ দিনে ১০ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজি চিনির দাম। এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকার শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির পথ খুলে দিয়েছে। আর সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছেন পাকিস্তানের চিনি ব্যবসায়ীরা। উদ্বৃত্ত চিনি বিক্রির সম্ভাব্য বাজার হিসেবে ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন:
কিন্তু কেন বাড়ছে চিনির দাম? আসলে চলতি বছরে বর্ষা একেবারে অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আখের উৎপাদন বেশ খানিকটা মার খেয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি আরেক সমস্যা হল ইথানল কারখানায় চাহিদা বৃদ্ধি। দেশে ইথানলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছরে ইথানল কারখানা বাড়াতে উৎসাহ দিয়েছে কেন্দ্র। ইথানল তৈরিতে প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ আখের রস প্রয়োজন। বিপুল চাহিদা মেটাতে এই কারখানাগুলি কৃষকদের কাছে কিছুটা বেশি দামে আখ কিনছে। যার ফলশ্রুতিতে এই মুহূর্তে চিনি মিলগুলিতে আখের সরবরাহ কম।
পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, চিনি ব্যবসায়ীরা পাক সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সীমান্তের ওপারে তাদের উদ্বৃত্ত চিনির কিছু অংশ রপ্তানির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার ‘ট্যারিফ রেট কোটা’-র আওতায় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড জানিয়েছে, দেশের বাজারে চিনির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় চিনির বাজারে আচমকাই বড়সড় পরিবর্তন তৈরি হয়ে গিয়েছে। বহু বছর ধরেই ভারতকে চিনি আমদানি করতে হয়নি। আপাতত এহেন পরিস্থিতির ফায়দা তুলতে চাইছে পাকিস্তান। পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, চিনি ব্যবসায়ীরা পাক সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে সীমান্তের ওপারে তাদের উদ্বৃত্ত চিনির কিছু অংশ রপ্তানির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের কাছে মজুত রয়েছে ১২ লক্ষ টন উদ্বৃত্ত চিনি। আর এই অতিরিক্ত চিনির একাংশ ভারতের বাজারে রপ্তানি করতে চাইছে ইসলামাবাদ।
তবে সেক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আর তা মাথায় রেখেই বর্তমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারতে চিনি পাঠানোর কোনও প্রস্তুতি পাকিস্তান নেয়নি এখনও। বরং দেশটির চিনি ব্যবসায়ীরা এমন ধরনের রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে। বাস্তবে কোনও চালান পাঠাতে হলে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য একটি কার্যকর ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পারিবারিক বিবাদের জেরে পাহাড় থেকে ঝাঁপ ছেলের, বাঁচাতে গিয়ে খাদে তলিয়ে গেলেন বাবা-মাও
-
আফগানদের ‘অনুরোধে’ খুলবে ভারতের বাংলাদেশ সফরের জট? কার হাতে ঝুলে শ্রেয়সদের ভবিষ্যৎ!
-
৬ মাস উর্দু শিখে পাক জাতীয় সঙ্গীত গাইলেন ব্রিটিশ গায়িকা, ভারতের ‘জন গণ মন’ নিয়ে কী বললেন?
-
বাঁকুড়ায় সিজেপি কর্মীর বাবা ‘খুনে’ ধৃত এফআইআরে থাকা ৫, কোন পথে এগোচ্ছে তদন্ত?
-
জীবসেবাই শিবসেবা! সঞ্চয়ের দেড় লক্ষ টাকা অসমের বন্যাদুর্গতদের দান, ভাইরাল ১০৩ বছরের মহিলা