প্রবল গরমে মে মাস পড়ার আগে থেকেই হাঁসফাঁস দশা গোটা দেশে। শুকোতে শুরু করেছে বিভিন্ন নদনদী। জলের অভাবে ত্রাহি মধুসূদন দশা উত্তর ভারতের। আর রাজনৈতিক সীমারেখা না মেনে একই অবস্থা ভারত সংলগ্ন প্রতিবেশী দেশগুলিতেও। ঘরের পাশের পাকিস্তানও তার ব্যতিক্রম নয়। তার উপর সিন্ধুর জল বন্ধ করে রেখেছে ভারত। ঠিক এক বছর আগে পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলার ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি হওয়ায় সিন্ধুর জল বন্ধ করেছে ভারত। তাতেই অবস্থা আরও করুণ হয়েছে ইসলামাবাদের। প্রতিবেশী দেশে ঢুকে জঙ্গি হামলা করানোর বদলে এমন ‘জলে মরতে হবে’, তা বোধহয় পাকিস্তান (Pakistan) কল্পনাও করতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
গত এপ্রিলে বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল ‘রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।’ তবে গত এক বছর ধরেই পাকিস্তান বাকি দুনিয়ার কাছে নিজেদের অবস্থান নিয়ে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলে চলেছে। ভারত কেন তাদের ‘জল দিচ্ছে না’ এই অভিযোগ তুলে নানাভাবে অন্যান্য দেশের থেকে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, আপাতত সাময়িকভাবে তা স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা চুক্তির বিধিভঙ্গ হিসাবে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও এ বিষয়ে এক বৈঠক ডাকেন। যেখানে সিন্ধুর জল নিয়ে কথা হলেও সন্ত্রাসে মদত দেওয়া নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের বিষয়টি উহ্য রাখা হয়েছে সযত্নে। গত সপ্তাহেই দেশের জল পরিস্থিতি নিয়ে এই আলোচনা রেখেছিলেন জারদারি।
কিছুদিন আগেই বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রসংঘে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ বলেছেন, “চুক্তির পবিত্রতা রক্ষার কথা বলার আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই মানবজীবনের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। যতক্ষণ না ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু’ পাকিস্তান তার আচরণ শুধরে নেয়, ততদিন সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনও কথা হবে না।” পি হরিশ বলেছেন, “ভারত বরাবরই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র। কিন্তু দায়িত্ববোধ দ্বিমুখী। পাকিস্তানকে অবশ্যই তার রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসাবে সন্ত্রাসবাদকে নিঃশর্তভাবে পরিহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক জল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের আচরণ ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে বলেও দাবি করে ভারত। যে অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল সকলের জন্য নিরাপদ জল ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা। কিন্তু পাকিস্তানের কৃষি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন দুটোই সিন্ধুর জলের উপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল যা ধাক্কা খেয়েছে গত এক বছরে। তবে পাকিস্তান সন্ত্রাস প্রসঙ্গ সযত্নে সরিয়ে রেখে নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বলে দাবি করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করে চলেছে সমানে। যার মূল্যও কড়ায়গন্ডায় দিতে হচ্ছে তাদের।
সর্বশেষ খবর
-
ডুরান্ডে হজম ১০ গোল, নিজের ক্লাবের সম্মানরক্ষায় মাঠে নামবেন টাইগার? মুখ খুললেন বলিতারকা
-
‘জেন জি’-র মন বুঝেছেন ভাগবত, ‘গণতান্ত্রিক অধিকারে’র স্বীকৃতি দিয়েই পাশে থাকতে চান আরএসএস প্রধান
-
‘অপদার্থ সন্তান’, বাদশাকে খোঁচা হানি সিংয়ের, ‘বাদশাহী’ জবাবে বাজিমাত র্যাপারের
-
বন-মানুষের শত্রুতা! মধ্যপ্রদেশে বন্যপ্রাণীর হানায় মৃত ৫০, আট মাসে ৪৫টি বাঘের মৃত্যু
-
‘এখনই কোনও পদক্ষেপ নয়’, ১৬টি এফআইআরে অভিষেককে সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়ে জানাল হাই কোর্ট