Russia

ইরান যুদ্ধে ‘মেঘনাদ’ রাশিয়া, আমেরিকাকে জব্দ করতে কোন পথে আসছে বিপুল অস্ত্র?

শুধু রাশিয়া নয়, ইরানকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চিনও। ইরানকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সাহায্য দিচ্ছে বেজিং।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:০৩

options
link
ইরান যুদ্ধে ‘মেঘনাদ’ রাশিয়া, আমেরিকাকে জব্দ করতে কোন পথে আসছে বিপুল অস্ত্র?
ছবি এআই দ্বারা তৈরি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে অস্ত্র ভাণ্ডারে টান পড়েছে আমেরিকার। কয়েকমাস আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ইরানের সামরিক ক্ষমতা ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। তারপরও অবশ্য সমান তালে প্রতিবেশী দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার চোখে চোখ রেখে ইরান যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রয়েছে রাশিয়ার। গোপন পথে মস্কো থেকে তেহরানে আসছে বিপুল অস্ত্র।

Advertisement

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সামরিক অস্ত্র ভাণ্ডার শক্তিশালী করতে গোপনে সাহায্য করে চলেছে রাশিয়া। পুতিনের দেশ থেকে আসছে বিপুল পরিমাণ টিএনটি বিস্ফোরক, ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদ। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে ইরানকে যে অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে তাতে ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও পাঠানো হতে পারে। যার জেরে আমেরিকার অস্ত্রের ভাণ্ডারে টান পড়লেও ইরানের অস্ত্রের মজুতে কোনও খামতি নেই। কিন্তু আমেরিকার নজর এড়িয়ে কোন পথে আসছে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র?

Advertisement

কাস্পিয়ান সাগরের আইনি মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক থাকলেও, ২০১৮ সালে ‘কাস্পিয়ান সাগরের আইনি মর্যাদা বিষয়ক সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী পাঁচটি দেশ এর সম্পদ ও নিরাপত্তার অধিকার পায়।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার তরফ থেকে ইরানকে অস্ত্র পাঠাতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরকে। এই সাগরের সিমানায় পড়ে রাশিয়া, ইরান কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও আজারবাইজান। ইউরোপের নজরদারি এড়াতে এই সমুদ্রপথ হয়ে উঠেছে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের প্রধান পথ। এই পথে চলাচলকারী জাহাজগুলি নিজেদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিলে, জাহাজের গতিবিধি অনুসরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নজরদারি এড়াতে সুরক্ষিত, কৌশলগত এই সমুদ্র পথ ব্যবহার করা হচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরের আইনি মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক থাকলেও, ২০১৮ সালে ‘কাস্পিয়ান সাগরের আইনি মর্যাদা বিষয়ক সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী পাঁচটি দেশ এর সম্পদ ও নিরাপত্তার অধিকার পায়। যার জেরে এখানে বিদেশি সামরিক বাহিনীর প্রবেশ নিষেধ। ঠিক সেই সুযোগকে ব্যবহার করে রাশিয়ার থেকে অফুরন্ত অস্ত্র পাচ্ছে ইরান। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান রাশিয়াকে শাহেদের মতো ড্রোন সরবরাহ করেছিল। এখন রাশিয়া ইরানের সামরিক ভাণ্ডার পূরণে সাহায্য করছে।

Advertisement

তবে শুধু রাশিয়া নয়, ইরানকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে চিনও। ইরানকে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সাহায্য দিচ্ছে বেজিং। যার মধ্যে রয়েছে বেইডু নেভিগেশন সিস্টেম, রাডার ও নজরদারি প্রযুক্তি এবং কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ। স্বদেশী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে রাশিয়া ও চিনে তৈরি যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়াচ্ছে ইরান। অস্ত্রের পাশাপাশি রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্রও সরবরাহ করছে, যা সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। যদি চিন ও রাশিয়া দুই দেশই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.