Taliban

‘পনেরো জন তালিবান, আমি একা মেয়ে!’ আফগানিস্তানের সোলো ট্রিপে আশ্চর্য অভিজ্ঞতা ইনফ্লুয়েন্সারের

ইনস্টায় প্রায় ৬ লক্ষ ফলোয়ার ভারতীয় তরুণী অঙ্কিতা কুমারের। 'কাবুলিওয়ালার দেশ' ঘুরে এসে জানালেন নিজের অভিজ্ঞতা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৮, ২০২৬, ২৩:৪২

options
link
‘পনেরো জন তালিবান, আমি একা মেয়ে!’ আফগানিস্তানের সোলো ট্রিপে আশ্চর্য অভিজ্ঞতা ইনফ্লুয়েন্সারের
ছবি: অঙ্কিতার ইনস্টাগ্রাম।

তাঁর ভালো নাম অঙ্কিতা কুমার। যদি মাঙ্কি আইএনসি নামেই তিনি পরিচিত ইনস্টায় তাঁর প্রায় ৬ লক্ষ ফলোয়ারের কাছে। বেড়াতে গিয়ে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে যেমন থেকেছেন, তেমনই তুষারাচ্ছন্ন হিম প্রদেশেও ঘুরে বেরিয়েছেন অনায়াসে। এবার সেই অঙ্কিতা ১৩ দিনের সোলো ট্রিপে ঘুরে এসেছেন আফগানিস্তান। এবং জানিয়েছেন তাঁর আশ্চর্য অভিজ্ঞতার কথা।

Advertisement

বারবার আফগানিস্তান যাওয়ার পরিকল্পনাও করলেও সেটা হয়ে উঠছিল না। এই পরিস্থিতিতে মাত্র ১৩ দিন যখন বাকি ভিসার মেয়াদের, তখনই সুযোগ এল। আর সেটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন অঙ্কিতা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগে, তালিবান অধ্যুষিত আফগানিস্তানে তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা কেমন? তালিবানরা যে মহিলাদের উপরে কতটা নির্দয়, তার প্রমাণ বারবার মিলেছে। কিন্তু এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে অঙ্কিতা জানাচ্ছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা সেরকম নয়। এমনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পনেরো জন তালিবানের মধ্যে একাই থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কোনও রকম নির্যাতনের মুখে পড়তে তো হয়ইনি। বরং তালিবানরা তাঁকে চা বানিয়ে খাইয়েছে!

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

অঙ্কিতা দেখেছেন রেস্তরাঁয় মহিলাদের নিয়ে গেলে আলাদা পর্দা ঢাকা অংশেই খেতে বসতে হয় পুরুষদের। কেবল পুরুষদের জন্য বরাদ্দ অংশে মহিলাদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আফগানিস্তানের বিখ্যাত ‘বন্দ-এ-আমির’-এ সকাল ৮টার পর নারীদের প্রবেশের অধিকার নেই। নারীদের প্রবেশের ওপর এই বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে অঙ্কিতা এমন এক উত্তর পান যা তাঁকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। “ছ’টার পর মেয়েদের পড়াশোনা করারই অনুমতি নেই, তাহলে ওরা (তালিবান) বন্দ-এ-আমিরে নারীদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে আদৌ কি ওদের কোনও মাথাব্যথা আছে বলে মনে করেন?” অঙ্কিতা জানাচ্ছেন, নারীদের পুরুষদের সঙ্গে গাড়ির সামনের আসনে বসারও অনুমতি নেই। এমনকী কোনও পুরুষ গাড়ি চালালে সেই গাড়ির ভিতরে বসারও অনুমতি দেওয়া হয় না। গাড়িটি খালি থাকলেও পেছনের অংশে (ট্রাঙ্কে) বসতে হয়, তাও আবার ট্রাঙ্কের ডালা খোলা অবস্থায়!

তালিবানরা যে মহিলাদের উপরে কতটা নির্দয়, তার প্রমাণ বারবার মিলেছে। কিন্তু অঙ্কিতা জানাচ্ছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা সেরকম নয়। এমনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পনেরো জন তালিবানের মধ্যে একাই থাকতে হয়েছিল তাঁকে।

এহেন দেশে তালিবানের সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতা ভুলতে পারছেন না অঙ্কিতা। জানাচ্ছেন, ”একটা গাছের নিচে বসেছিল প্রায় ১৫ জন তালিবান। সেখানে আমিই ছিলাম একমাত্র নারী! চা চেয়েছিলাম। আমার জন্য চা বানিয়ে দিল তালিবানরা। আমরা রীতিমতো খোলামেলা পরিবেশে বসে বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ এবং ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা করলাম। পুরো বিষয়টাই ছিল একটা অবাস্তব অভিজ্ঞতার মতো!” অবশ্য অঙ্কিতা জানাচ্ছেন, ”আমি বিদেশিনী বলেই ওরা কিছু করেনি। নইলে নিজেদের মেয়েদের প্রতি ওরা সাংঘাতিক নির্দয়।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.