US-Iran Talks

শেষ পর্যায়ে ভেস্তে যায় ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি, নেপথ্যে কোন কারণ? জানাল তেহরান

আঘাচি দাবি করেছেন, ইরানি প্রতিনিধিদল যুদ্ধ শেষ করার 'সদিচ্ছা' দেখিয়েছিল। মার্কিন পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন, বারবার শর্ত বদল এবং অনমনীয় মানসিকতার কারণে ইসলাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ১৮:১০

options
link
শেষ পর্যায়ে ভেস্তে যায় ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি, নেপথ্যে কোন কারণ? জানাল তেহরান
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া বিশেষ লাভ হয়নি আমেরিকার।

ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করলেন ইরানের (US-Iran Talks) বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার স্বৈরাচারী মানসিকতার জন্যই শেষ মুহূর্তে শান্তিচুক্তি ভেস্তে গিয়েছে। রাষ্ট্র হিসাবে ইরানের অধিকারকে গুরুত্বই দিতে চায়নি ওয়াশিংটন। স্বভাবতই যা মেনে নিতে পারেনি তেহরান।

Advertisement

আঘাচি দাবি করেছেন, ইরানি প্রতিনিধিদল যুদ্ধ শেষ করার ‘সদিচ্ছা’ দেখিয়েছিল। মার্কিন পক্ষের শক্তিপ্রদর্শন, বারবার শর্ত বদল এবং অনমনীয় মানসিকতার কারণে ইসলাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হয়। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে আঘাচি লিখেছেন, “৪৭ বছর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যুদ্ধাবসানে আমেরিকার সঙ্গে সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনার টেবিলে বসেছিল ইরান। কিন্তু ‘ইসলামাবাদ মউ’-এর শেষ মুহূর্তে আমরা শক্তির উগ্র প্রদর্শনী, শর্ত পরিবর্তন এবং অনমনীয় মানসিকতার কাছে আটকে যাই।” এখানেই না থেমে হুঁশিয়ারির সুরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, “কোনও শিক্ষাই হয়নি। সদিচ্ছা সদিচ্ছার জন্ম দেয়। শত্রুতা শত্রুতারই জন্ম দেয়।” আঘাচির সুরেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও টুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, মার্কিন সরকার যদি স্বৈরাচারী মনোভাব ত্যাগ করে এবং ইরানের অধিকারকে সম্মান করতে শেখে, তবে একটি (শান্তি) চুক্তিতে পৌঁছানো অবশ্যই সম্ভব।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে অর্থের শ্রাদ্ধ ছাড়া বিশেষ লাভ হয়নি আমেরিকার। উলটে হরমুজে পড়েছে তালা। এই অবস্থায় শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সে বৈঠকও ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায় ইরানের ঘাড়ে চাপিয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমেরিকা কী চায় এবং কী চায় না তা পরিষ্কারভাবে বৈঠকে আমরা জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও কোনও সমঝোতায় আসা যায়নি। সমাধান সূত্র ছাড়াই আমরা ফিরে আসছি।” ভ্যান্স আরও বলেন, “পারমাণবিক বোমা তৈরি না করা নিয়ে আমরা ইরানের কাছ থেকে আশ্বাস চেয়েছিলাম। ওদের বলতে হবে যে, ওরা বোমা বানাবে না এবং পরমাণু বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা উপাদানও হাতে রাখবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টও চাই চেয়েছিলেন। কিন্তু তা-নিয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছতে পারিনি।”

অন্যদিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রশাসন সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বিশ্বের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে এই আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা। এই বৈঠক ছিল শুধুই দেখনদারি। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা নিজেদের দাবি থেকে পিছু হটতে চাইছে না। আলোচনার টেবিলে শর্ত আরোপ ছাড়া আর কোনও কথাই বলা হয়নি। ইরানের পক্ষে তা মেনে নেওয়া যে সম্ভব নয়, আমেরিকা সেটা জানে। ওরা শুধু অজুহাত খুঁজছিল যাতে এই আলোচনার ব্যর্থতার দায় পুরোটাই ইরানের ঘাড়ে ঠেলা যায়। এই ডামাডোলের মাঝেই এবার ইরানের উদ্দেশ্য ফের হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.