Oman Ship Attack

‘৬০ বার সতর্ক করা হয়েছিল’, ওমানে তিন ভারতীয় নাবিক খুনে সাফাই আমেরিকার

মার্কিন আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, ওই জাহাজটিকে ৬০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকী হামলার আগে ১৫ মিনিট সময়ও দেওয়া হয় ইঞ্জিনরুম খালি করে দেওয়ার জন্য।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬, ১৫:১৬

options
link
‘৬০ বার সতর্ক করা হয়েছিল’, ওমানে তিন ভারতীয় নাবিক খুনে সাফাই আমেরিকার
ওমানে তিন ভারতীয় নাবিক খুনে সাফাই আমেরিকার।

ওমান উপকূলে বাণিজ্যতরীতে হামলা এবং ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ভারত। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছিল নয়াদিল্লি। বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুলল আমেরিকা। মার্কিন আধিকারিকদের তরফে জানানো হয়েছে, ওই জাহাজটিকে ৬০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকী হামলার আগে ১৫ মিনিট সময়ও দেওয়া হয় ইঞ্জিনরুম খালি করে দেওয়ার জন্য।

Advertisement

হামলার ঘটনার এক সপ্তাহ পর মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃতি তুলে ধরে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেল্লো’ নামের ওই জাহাজটিকে ৬০ বারের বেশি মৌখিক সতর্কতা দেওয়া হয়। দাবি করা হয়েছে, মার্কিন সেনা গত দুইসপ্তাহ ধরে সন্দেহভাজন জাহাজটিকে বারবার সতর্ক করেছিল। এরপর ৯ জুন চলে হামলা। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি ইরানের গোপন নৌবহরের অংশ ছিল। নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অবৈধভাবে ইরানের অপরিশোধিত তেল পাচার করা হচ্ছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন বিমানের তরফে প্রথমে ওই জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়। এরপর ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয় জাহাজের ইঞ্জিন রুম খালি করার জন্য। এরপরও জাহাজটি থামানো হয়নি, এরপর বাধ্য হয়ে জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। সেন্টকম জানিয়েছে, ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে অবরোধ চলছে। আমেরিকা যে কঠোরভাবে অবরোধ জারি রেখেছে তা নিশ্চিত করার দরকার ছিল।

Advertisement

সেন্টকম জানিয়েছে, ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে অবরোধ চলছে। আমেরিকা যে কঠোরভাবে অবরোধ জারি রেখেছে তা নিশ্চিত করার দরকার ছিল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে বুধবার ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেল্লো’ নামে একটি বাণিজ্যতরীতে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। অভিযোগ, বাণিজ্যতরীটিতে আছড়ে পড়ে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়। হামলার পরই জাহাজ থেকে আপৎকালীন বার্তা পাঠানো হয়। উদ্ধার করা হয় ২১ জন ভারতীয়কে। বাকি তিন ভারতীয়র মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন, আদিত্য শর্মা, শিবানন্দ চৌরাসিয়া এবং পাটনালা সুরেশন।

Advertisement

এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসে দিল্লি। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশমন্ত্রক দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেসন মিকসকে তলব করে। অন্যদিকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এই ধরনের হামলার তীব্র প্রতিবাদ করেন। এবং সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা অযৌক্তিক।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘আমাদের আপসপন্থী প্রধানমন্ত্রী একজন ‘আজ্ঞাবহ ভৃত্যের’ মতো সমস্ত আদেশ পালন করেন।’ পাশাপাশি তিনি লেখেন, ‘মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার পরও আমেরিকার কোনও অনুশোচনা নেই। কোনও ক্ষমা প্রার্থনা নেই। বরং, আমেরিকা আদেশ জারি করেই চলেছে।’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.