Malaysia

কাজের চাপেই মানুষ সমকামী হয়ে যাচ্ছে! মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রীর ‘আজব’ দাবিতে হাসির রোল

মালয়েশিয়ায় এখনও সমলিঙ্গ সম্পর্ক আইনত অপরাধ। সেই কারণেই এলজিবিটি ‘প্রবণতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্য তলব করেছিল দেশটির সংসদ। উত্তর দিতে গিয়ে আজব মন্তব্য করে বসলেন মন্ত্রী।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ১৬:২০

options
link
কাজের চাপেই মানুষ সমকামী হয়ে যাচ্ছে! মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রীর ‘আজব’ দাবিতে হাসির রোল

অতিরিক্ত কাজের চাপেই নাকি মানুষ সমকামী হয়ে যাচ্ছে। এমনটাই দাবি করলেন মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান। সে দেশের সংসদে লিখিত জবাবে তিনি বলেছেন, “কাজের চাপ মানুষকে এলজিবিটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে প্রভাবিত করছে।” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সমালোচনার পাশাপাশি মন্ত্রীকে নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ।

Advertisement

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী ইসলামপন্থী দল পাস-এর সাংসদ সিতি জাইলাহ মোহদ ইউসুফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজের চাপ, সামাজিক প্রভাব, যৌন অভিজ্ঞাতা আর ধর্মাচরণের ঘাটতি, এই তিনের কারণে মানুষ এলজিবিটি সম্প্রদায়ে জড়িয়ে পড়ে।”

Advertisement

নেটাগরিকদের বক্তব্য, মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে বিজ্ঞান তথা বাস্তবতার কোনও সম্পর্ক নেই।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় এখনও সমলিঙ্গ সম্পর্ক আইনত অপরাধ। সেই কারণেই এলজিবিটি ‘প্রবণতা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্য তলব করেছিল দেশটির সংসদ। বয়স, জাতিগত পরিচয় এবং তথাকথিত ‘কারণ’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এর উত্তরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এলজিবিটি-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে মোট গ্রেপ্তার ও মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ১৩৫টি। যদিও মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় হাসির রোল উঠেছে।

Advertisement

নেটাগরিকদের বক্তব্য, মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে বিজ্ঞান তথা বাস্তবতার সম্পর্ক নেই। তিনি হাস্যকর মন্তব্য করেছেন। এক নেটিজেনের বক্তব্য, এই যুক্তি মানলে মন্ত্রীও বিপদে পড়তেন। “সংসদে এত কাজের চাপ, মন্ত্রী নিজে এখনও ‘গে’ হয়ে যাননি কী করে!” আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, এমনটা হলে “আমার অফিসের সবাই এতদিনে সমকামী হয়ে যেত।” জাস্টিস ফর সিস্টার্সের মতো মানবাধিকার সংগঠন এই মন্তব্যকে সরাসরি “ভ্রান্ত তথ্য” বলেছে। সংগঠনের প্রতিনিধি থিলাগা সুলাথিরেহ বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সহ আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি বহু আগেই স্বীকার করেছে, যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক পরিচয়ের অংশ, এর সঙ্গে কাজের চাপের কোনও সম্পর্ক নেই।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.