পার্থসারথি সিংহ: হাত মেলাচ্ছেন বৃহস্পতি-কুবের! ধনতেরসে দেবগুরু বৃহস্পতির সঞ্চারে এবার সামনে আসছে অতি সুসময়। আজ ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতি প্রবেশ করবেন কর্কটে। এই সহসা সঞ্চারকাল খুব সীমিত সময়ের জন্য। মাত্র ৪৮ দিন। কিন্তু বৃহস্পতির অতিচারী গতি চলবে আগামী পাঁচ বছর। আর তাই দীর্ঘস্থায়ী শুভ ফলের ইশারা পেতে চলেছেন বিশেষ কয়েকটি রাশির জাতকরা। তা ছাড়াও মোটামুটি প্রায় সব রাশির জাতক কিছু ভালো ফল পাবেনই।
তবে বিশেষ ফল পাবেন ৫টি রাশির জাতক। এই ফলাফল প্রত্যেক রাশির জাতকের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আলাদা হবে। গোচরকালে গ্রহের অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন রাশি বা লগ্নের জাতক-জাতিকাদের বিভিন্ন ফল দান করে। বৃহস্পতি শুভ গ্রহ। বৃহস্পতি যেখানেই অবস্থান করে বা যার উপর দৃষ্টিসম্পর্ক ফেলে, সেই স্থানের কিছু না কিছু শুভ প্রাপ্তি হয় এবং অশুভ ফলের পরিমাণ হ্রাস পায়। এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতার প্রখ্যাত জ্যোতিষী সমরেন্দ্র সরকার।
বৈদিক শাস্ত্রমতে বৃহস্পতি অতিচারী রাজযোগের নির্মাণ হতে চলেছে। অর্থাৎ এক বছরে ২ বার রাশি পরিবর্তন করে থাকে। তাই বৃহস্পতির অবস্থানের ফলে ১২ রাশির জাতক-জাতিকা বিরাট উন্নতিকর পরিস্থিতিতে যেতে পারেন। আজ কর্কটে প্রবেশ করছে বৃহস্পতি। তার প্রভাবে অভূতপূর্ব শুভ সময় হল, আজ ১৮ অক্টোবর থেকে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫। ঠিক কী বলছে জ্যোতিষশাস্ত্র?
এই আটচল্লিশ দিনের সময়টা আগামী পাঁচ বছর সময়কালকে দারুণ প্রভাবিত করবে। সমরেন্দ্রবাবু বুঝিয়েছেন, “এদিন থেকে বৃহস্পতির সরল গতিটা ২০৩২ অর্থাৎ সাত বছর একটানা চলবে। তাই আজ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুঙ্গে থাকবে বৃহস্পতির অবস্থান। অনেক শুভ খবর নিয়ে আসবে কোনও সন্দেহ নেই।” তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, দেবগুরু বৃহস্পতির গোচর আজ ধনতেরসের দিন হতে চলেছে। এদিন রাত ৯টা ৩৯ মিনিটে বৃহস্পতি গ্রহ কর্কট রাশিতে প্রবেশ করবে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই রাশি পরিবর্তনের ফলে দু’টি রাশির জাতকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের অর্থ ও স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই দুটি রাশি হল, কন্যা ও বৃশ্চিক।
গ্রহগুলোর মধ্যে বৃহস্পতি হল সবচেয়ে বেশি শুভ ফলদাতা। প্রত্যেক রাশিতেই বৃহস্পতি নানা দিক থেকে শুভ আশীর্বাদ দিয়ে যান। নানা দিক থেকে সুখ-সমৃদ্ধি, সুনাম, যশ, সাফল্য আসতে থাকে। প্রায় ১১ বছর ৩ মাস পরে এই বৃহস্পতির সঞ্চার হবে কর্কটে। জ্যোতিষী সমরেন্দ্র সরকারের মতে, এখন বৃহস্পতি রয়েছেন মিথুন রাশিতে। আজ, বৃহস্পতি প্রবেশ করবেন কর্কটে। এই সহসা সঞ্চারকাল মাত্র আটচল্লিশ দিন। তারপর আবার পশ্চাদমুখী গতি (retrograde motion) নিয়ে ফের মিথুনে আসবেন ৫ ডিসেম্বরের পরদিন। আগামী ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মিথুনে থাকবেন। এরপর থেকে আবার অতিচারী গতিতে বৃহস্পতি কর্কটে প্রবেশ করবেন। এই অতিচারী গতিটা আগামী পাঁচ বছর একটানা চলবে। সেই ২০৩২ সালের অক্টোবরে বৃহস্পতির সঞ্চার হবে ধনু রাশিতে।
শুক্রবার তাঁর জ্যোতিষ গণনা বলছে, কর্কট রাশি বৃহস্পতির তুঙ্গ শুভস্থানে। তাই ওই আটচল্লিশ দিন পর্যন্ত রাহু মুক্ত দেবগুরু বৃহস্পতির শুভ ফল অথবা দীর্ঘস্থায়ী শুভ ফলের ইশারা পেতে চলেছেন বিশেষ কয়েকটি রাশি ছাড়া। বিশেষ ফল পাবেন পাঁচটি রাশির জাতক। সেগুলি হল মেষ, মিথুন, কন্যা, বৃশ্চিক ও মীন।
মেষ রাশি: সর্বোচ্চ লাভ হবে কর্মজগতে। আইনি ঝামেলা মিটবে। গৃহ সংক্রান্ত সুখ সমৃদ্ধি অনেক বাড়বে। বন্ধুর থেকে লাভ।
মিথুন রাশি: আর্থিক প্রচুর উন্নতি। কনসালটেন্সিতে লাভ। বিদ্যা ও বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে লাভ। সন্তানের সাফল্য। শরীর খুবই ভালো থাকবে। সঙ্গে যশ।
কন্যা রাশি: আত্মপ্রত্যয় খুব বাড়বে। সঙ্গে দাম্পত্য সুখ ও সমৃদ্ধি। বিবাহের যোগ। প্রফেশনাল সাকসেস। সাংবাদিকতার পেশায় যাঁরা আছেন তাঁদের উন্নতি হবে ভালোই।
বৃশ্চিক রাশি: সন্তানদের জন্য গর্বিত হবেন। আর্থিক সমৃদ্ধি। পুরনো রোগ থেকে মুক্তি। চাকরিতে অভূতপূর্ব উন্নতি। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ভালো সময়, লাভ।
মীন রাশি: শরীর সুস্থ। তীর্থযাত্রার সুযোগ। উচ্চ বিদ্যায় সাফল্য। পার্টনারশিপ ব্যবসা ও বৈদেশিক বাণিজ্যে লাভ। পৈতৃক সম্পত্তিতে লাভ।
এছাড়াও বাকি সাতটি রাশির জাতকরা বৃহস্পতির কর্কট রাশির সঞ্চারে ওই আটচল্লিশ দিনের মধ্যে বিশেষ উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন জ্যোতিষীরা। যেহেতু দীপাবলির সময় অনেক গ্রহের গোচর হয়, তাই এটি অনেকের জন্যই অনেক উপকারে আসবে। তাই দীপাবলির আগেই ঘটবে চমৎকার! বৃহস্পতির কর্কটে প্রবেশের সুসময়েই পাঁচ রাশির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী হবে উন্নতির গ্রাফ।
সর্বশেষ খবর
-
চার্চিলে খেলতে চাইছেন না প্রণয়রা, জামশেদপুর ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন ফুটবলাররা
-
তদন্তে ‘অসহযোগিতা’ সুমিতের, অভিষেকের আপ্তসহায়ককে হেফাজতে চেয়ে ‘সুপ্রিম’ দরবারে রাজ্য
-
বামপন্থী ও ‘আরশোলা’দের মিছিলে পড়ুয়াদের ‘না’! বিতর্কে পড়ে পিছু হটল বিজয় সরকার
-
বেঁচে আছেন ইমরান! ‘সুপ্রিম’ নির্দেশের পরই বুশরা বিবি ও বোনের সঙ্গে সাক্ষাৎ কাপ্তানের
-
‘অনন্ত সিং’ জিতের ছবিকে হিন্দুত্ববাদী তোপ! চর্চার মাঝেই টলিউডের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন জীতুর