BREAKING NEWS

১ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘সামরিক অভিধান’ থেকে ‘মার্শাল ল’ শব্দটি বাদ দেওয়ার পরামর্শ শেখ হাসিনার

Published by: Paramita Paul |    Posted: September 8, 2020 9:13 pm|    Updated: September 8, 2020 9:13 pm

An Images

ফাইল ফটো

সুকুমার সরকার, ঢাকা: ‘সামরিক অভিধান’ থেকে ‘মার্শাল ল’ শব্দটি বাদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর্মড ফোর্সেস সিলেকশন বোর্ড মিটিং ২০২০-এর ভারচুয়াল বৈঠকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এদিন শেখ হাসিনা বলেন, “মার্শাল ল রক্তপাত ছাড়া দেশ ও সশস্ত্র বাহিনীর কোনও কল্যাণ করতে পারে না। তাই, ‘সামরিক অভিধান’ থেকে আমাদের ‘মার্শাল ল’ শব্দটি বাদ দেয়া উচিত।” এ প্রসঙ্গে তিনি জেনারেল জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন আমলের ১৯টি ক্যু-এর কথা উল্লেখ করেন। বলেন, “সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের আমলে সশস্ত্র বাহিনীর এতো বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও সেনাকে হত্যা করা হয়েছে যে যুদ্ধেও এতো বিপুল সংখ্যক সেনা নিহত হয়নি। আমরা (সশস্ত্র বাহিনীতে) আর কোনও ছেলেহারা পিতা বা পিতাহারা ছেলের কান্না শুনতে চাই না।”

এ দিন শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গন্ধু-সহ কয়েকটি পরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর সেনাশাসক জিয়ার আমলে একের পর এক ক্যুয়ের কারণে সশস্ত্র বাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই সব সেনাভ্যুত্থানের নামে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সশস্ত্র বাহিনীর অনেক সদস্যকে বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়”। তিনি আরও বলেন, “সেনা ও বিমান বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত হয় এবং আমাদেরকে বহু স্বামী হারা বিধবা ও পুত্র হারা বাবা-মায়ের কান্না শুনতে হয়েছে।”

[আরও পড়ুন ; চিনের ছক বানচাল! দূরত্ব কমিয়ে দ্রুত বৈঠকে বসছে ভারত-বাংলাদেশ, টুইট বিদেশমন্ত্রীর]

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা তাঁর সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আমাদের পরিবারের সম্মানিত সদস্য। তারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এই বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামরে রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। সরকার সশস্ত্র বহিনীকে আরো সুসজ্জিত করার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জে. মাহফুজুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

[আরও পড়ুন ; প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের জের, হাসিনাকে কটাক্ষ বিএনপি নেতার]

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনা সদর দপ্তর থেকে, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মহম্মদ শাহীন ইকবাল নৌবাহিনীর সদরদপ্তর থেকে এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত বিমান বাহিনীর সদরদপ্তর থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পরপরই বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনের পাশাপাশি আধুনিক ও সময়োপযোগী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ওই সময়ে জাতির পিতা সময়োপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করেন এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান এবং যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশের বিজয় মেনে নিতে পারেনি, তারা বঙ্গবন্ধুর উদার নীতির মূল্যায়ণ করেনি।”

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাযজ্ঞের পর স্বাধীনতা-বিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্রে ও কতিপয় উচ্চাকাক্সক্ষী ব্যক্তির কারণে দেশ ঘোর অন্ধকারে ঢেকে যায়। তারা শুধু রাষ্ট্রপতিকেই নয়, তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এবং সেই বছরই ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।” দেশের ইতিহাসে প্রথমবার সেনাবাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগে তাঁর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “নারীরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে খুবই ভাল করছেন এবং এভাবে সবার প্রশংসা অর্জন করছেন।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement