৭ ফাল্গুন  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

বাবুল হক, মালদহ: মালদহের এই কালীপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের  উপন্যাসের নায়িকা দেবী চৌধুরানির নাম। জনশ্রুতি, জলপথে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার সময় মালদহের  গোবরজনা গ্রামে রাত্রিযাপন করেছিলেন দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠক। কালিন্দ্রী নদীতে তাঁদের বজরা বাঁধা হয়েছিল। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে নদীর চরে আটকে গিয়েছিল বজরাটি। অনেক সাধ্যসাধনা করেও কোনও লাভ হয়নি। সেদিন রাতে ভবানী পাঠক স্বপ্নাদেশ পেলেন। মায়ের মূর্তি গড়ে পুজো করলেই ফের চলবে বজরা। সকাল হতেই অক্ষরে অক্ষরে স্বপ্নাদেশ পালন করেন ভবানী পাঠক। 

৩৫০ বছরের এই পুজো মালদায় বেশ জনপ্রিয়। শুধু  জেলাই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী, বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকেও মায়ের টানে ভক্তরা গোবরজনায় আসেন। পাঁঠাবলির জন্যও এই পুজোর বিশেষ নামডাক। পুজোর সময় অন্ততপক্ষে ৪০-৫০ হাজার বলি হয় এখানে। মন্দির থেকে পশুবলির রক্তস্রোত গিয়ে মেশে মরা কালিন্দ্রীর জলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, বলির রক্ত যতক্ষণ না কালিন্দ্রীতে মিশছে ততক্ষণ দেবী তুষ্ট হবেন না। এই পুজো ঘিরে রীতিমতো মেলা বসে যায় গোবরজনায়। মালদহ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রতুয়া দুই নম্বর ব্লকের আড়াইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গোবরজনা গ্রাম। একটা সময় ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল গোটা এলাকা। তবে গ্রাম লাগোয়া কালিন্দ্রী নদী এখন শীর্ণকায়া। এদিকে অনেকেই দেবী চৌধুরানির পুজোর আখ্যা মানতে রাজি নন। তাঁদের মতে এটি ডাকাতদের পুজো। সেই সময় কালিন্দ্রী ছিল গঙ্গা ও মহানন্দা নদীর সঙ্গে যুক্ত। বজরা চলাচল করত এই পথে। প্রবীণদের অনেকেরই বিশ্বাস, বহু আগে ঘনজঙ্গলে ঘেরা আড়াইডাঙায় হিংস্র পশুও ছিল। সেই সময় বিহার থেকে একদল ডাকাত নদীপথে এসে এই জায়গায় বসবাস শুরু করে। জঙ্গলে ডেরা বেঁধেছিল তারা। জলপথে ঘুরে ঘুরে ডাকাতি করত। লুটপাট করে সাফল্য এলে এখানে মায়ের পুজো করত।

[অমাবস্যা ছাড়া যে কোনওদিন আপনার হাতেও পুজো নেবেন এই ‘বড় মা’]

মা এখানে ভয়ঙ্করী। আগে পুজোর দিন মোষ বলি দেওয়া হত। এখন কালীপুজোর পরিবর্তে বৈশাখ মাসে মোষ বলি দেওয়া হয়। এত জনশ্রুতির পরেও দেবী চৌধুরানির নামের সঙ্গেই জড়িয়ে গিয়েছে গোবরজনার কালীপুজো। তাই ডাকাতরা এলাকা ছাড়ার পর স্থানীয় চৌধুরি পরিবার ওই পুজো শুরু করে। পারিবারিক হলেও এই পুজো এখন সর্বজনীন। কালিন্দ্রী নদীর পাড়ে আমবাগান ঘেরা গোবরজনা মন্দির এলাকায় এখনও তেমন জনবসতি নেই। পাকা রাস্তা থেকে এক কিলোমিটার হেঁটে মন্দিরে পৌঁছাতে হয়। আর দেবী প্রতিমা গড়া হয় দেড় কিলোমিটার দূরের চৌধুরি বাড়িতে। রীতি মেনে পুজোর সন্ধ্যায় আজও শূন্যে গুলি ছুঁড়ে দেবীকে নিয়ে মন্দিরের উদ্দেশ্যে বিরাট শোভাযাত্রা হয়। গোবরজনার কালীমাতা জাগ্রত দেবী হিসেবেই পরিচিত। তাই মায়ের কাছে মনস্কামনা পূরণের আশায় পুজোর কটি দিন দর্শনার্থীদের ঢল নামে গোবরজনায়।

[কলকাতার প্রাচীন কালীবাড়ি গুলির অজানা ইতিহাস, আজ শেষ পর্ব]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং