৭ ফাল্গুন  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য:  ফেলুদার ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট। বোঝাই যাচ্ছে, গভীর চিন্তায় মগ্ন। মগজাস্ত্রে শান দিচ্ছেন। আচমকা ফেলুদা বলে উঠলেন, “যারা কাগজ দেখতে চাইছে তারা পার পাবে না লালমোহনবাবু।” আবার মনে করা যাক, সবুজ দ্বীপের রাজার কাকাবাবুকে। কাকাবাবুও সরব হয়েছেন NRC’র বিরুদ্ধে। তিনিও বলছেন,“শোনো রাজকুমার, যারা ধর্মের নামে মানুষ ভাগ করে, কাগজ দেখতে চায়, বাঙালি তাদের ছেড়ে কথা বলবে না।”

জাতীয় নাগরিকপঞ্জি আইনের বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের মধ্যে জনমত তৈরি করতে সত্যজিৎ রায়ের কাল্পনিক আইকনদের এমনভাবেই পাথেয় করে তুলেছে সিপিএম। না, ঠিক পথে নয়। সিপিএমের স্যোশাল মিডিয়ায় ঢুকে পড়েছেন তাঁরা। এনআরসির বিরুদ্ধে এইসব চরিত্রদের হাজির করা হয়েছে ছাত্র-যুবদের মধ্যে জনমত তৈরি করতে। হাজির করা হয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে আরও মজবুত করতে। এটা যেমন একটা দিক। তেমনই এর উলটোদিকও রয়েছে। জয়বাবা ফেলুনাথ ছবিতে মগনলাল মেঘরাজকে মনে করুন। ফেলুদা তার ডেরায় ঢুকতেই মগনলালের সেই প্রচ্ছন্ন হুমকি। শুধু একটু শব্দ উলচে-পালটে দিয়ে মগনলালের মুখ বসানো হয়েছে, “কী ফেলুবাবু, কাগজ রেডি আছে তো? না হলেই কিন্তু ডিটেনশন ক্যাম্প।”

সোশ্যাল সাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিয় পাত্র বা পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম একযোগে বলেছেন, “প্রায় ৫০ বছর পার হতে চলল, এখনও ছাত্র-যৌবনের কাছে অন্যতম প্রিয় চরিত্র ফেলুদা। পাশাপাশি রয়েছেন কাকাবাবু, এঁদের সঙ্গেই রয়েছে লালমোহন গাঙ্গুলি বা জটায়ু এবং অবশ্যই অবিস্মরণীয় মগনলাল। যে চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আরেক কিংবদন্তি উৎপল দত্ত। তাই সমস্যা যখন দেশের তখন অকৃত্রিম দেশীয় চরিত্ররাই এখন NRC নিয়ে সরব হয়েছে।”

[আরও পড়ুন: CAA ও NRC নিয়ে টুইটারে ভুয়ো ছবি শেয়ার, অভিযোগ দায়ের অপর্ণা সেনের বিরুদ্ধে ]

কয়েকমাসের মধ্যেই রাজ্য সিপিএমের ডিজিটাল গ্রুপ নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। শুধু নেটিজেন কেন? দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বা মহম্মদ সেলিমও প্রতিদিন অন্তত একবার করে ডিজিটাল সাইটে চোখ রাখেন। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, সোশ্যাল মিডিয়া এতটাই জনপ্রিয় হয়েছে যে মাঝেমধ্যে প্রবীণ বিমান বসুও বসে পড়েন। দেখে নেন নতুন কী কী বিষয় আপলোড করা হয়েছে সোশ্যাল সাইটে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই ঘুরছে ফেলুদা বা মগনলালের কাগজ দেখানো বা না দেখানোর প্রসঙ্গ। এবার আসতে চলেছে ‘জবাব দেব না।’ বিষয়টি এমনই। জনগণনার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি NPR নিয়ে বেশকিছু তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কী ধরনের প্রশ্ন  জানতে চাওয়া হবে? তা যেমন লিফলেট করে বিলি করবে সিপিএম, তেমনই সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেও বিষয়টি প্রচার করা হবে। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমেও প্রচার করা হবে। 

[আরও পড়ুন:‘মোদি নিজেই জানেন না CAA, NRC কী!’, উলটো সুর গায়ক অভিজিতের গলায় ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং