১ শ্রাবণ  ১৪২৬  বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার রাতে প্রাক্তন ‘মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া’ উষসী সেনগুপ্তের সঙ্গে ঘটে এক অপ্রীতিকর ঘটনা। শ্লীলতাহানির শিকার হন উষসী। ফেসবুকে এই ঘটনার বর্ণনা করেছেন তিনি। যার জেরে নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশ। ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে চারু মার্কেট থানার পুলিশ। তবে, সেই রাতে পুলিশি পরিষেবা পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল খ্যাতনামা এই মডেল তথা অভিনেত্রীকে। এমনটাই অভিযোগ উষসীর। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিশন।  

[আরও পড়ুন: ফের রাতের কলকাতায় আতঙ্ক, শ্লীলতাহানির শিকার প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ]

উষসী জানান, সেই রাতে কয়েকজন বাইক আরোহীর সঙ্গে বচসার পর ময়দান থানায় যান তিনি। তবে, তাঁর অভিযোগ দায়ের করতে অস্বীকার করেন সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকর্মীরা। অগত্যা তাঁকে দ্বারস্থ হতে হয় চারু মার্কেট থানার। সেখানেই ওই ৭ হামলাকারী বাইক আরোহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে উষসীর আক্ষেপ, তাঁর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগেই যদি পুলিশের তরফে চটজলদি পদক্ষেপ করা হত, তাহলে এতটা হয়রান হতে হত না তাঁকে। শহরের বুকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উষসী। তিনি বলেন, “আমি উষসী সেনগুপ্ত বলেই আমার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর এই বিষয়ে এত তৎপড়তা দেখিয়েছেন পুলিশ। আজকে এই পরিস্থিতিতে তো অন্য কেউও পড়তে পারতেন!” তিনি আরও বলেন, “ঘটনার সময়ে আমি অতটা ভাবার সময়ই পাইনি। আমার গাড়ির চালকের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেই কথাই ভাবছিলাম। আমি যদি ৩ টে থানায় যেতে পারি ১০টা থানাতেও যেতে পারতাম। একবার ময়দান থানা, একবার ভবানীপুর থানা, একবার চারু মার্কেট থানা… সেদিন গভীর রাতে এই করতে হয়েছে আমাকে। আমার ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগে এত তৎপরতা দেখালে ভাল হত।”

উষসী সেনগুপ্তের বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে। ডিসির নেতৃত্বে এই তদন্ত কমিটি কাজ করবে। সোমবার রাতে পুলিশি পরিষেবায় সত্যিই কোনও খামতি ছিল কি না, সেটাই খতিয়ে দেখা হবে এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে। সোমবার রাতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি। তাছাড়াও চারু মার্কেট থানায় উষসী ও তাঁর উবের চালকের রেকর্ড হওয়া বয়ান শুনবে তদন্ত কমিটি। খতিয়ে দেখা হবে সিসিটিভি ফুটেজও। এমনটাই জানা গিয়েছে লালবাজার সূত্রে। গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জনকে খুব শিগগিরিই তোলা হবে আলিপুর কোর্টে। পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি থাকলে ২০১৩ সালে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫৪ ধারায় কর্তব্যরত পুলিশদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হবে।

[আরও পড়ুন: দেশে ফিরেই জুহির সঙ্গে জুটি বাঁধছেন ঋষি কাপুর!]

১৭ জুন রাতে তিনি ও তাঁর এক সহকর্মী জে ডাব্লিউ ম্যারিয়ট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। কাজের সূত্রেই তাঁদের ফিরতে রাত হয়। এদিনও ব্যতিক্রম ছিল না। হোটেল থেকে উবের নিয়েছিলেন তিনি। এক্সাইড ক্রসিং পেরনোর পর কয়েকজন বাইকারোহী তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রায় জনা পনেরো ছেলে গাড়ির জানলায় আঘাত করতে থাকে। হঠাৎই গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারকে গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে তারা। চালককে বেধড়ক পেটাতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও করতে শুরু করেন উষসী। এরপর তিনি কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের কাছে অভিযোগ জানাতে যান। কিন্তু কী আশ্চর্য! সেসময় কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের কেউই তাঁকে সাহায্য করেনি। রাতের কলকাতা শহর যে মেয়েদের জন্য এখনও সুরক্ষিত নয়, তা প্রমাণিত হল আরেকবার। এমনটাই মত, শহরবাসীদের।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং