BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

আরও একটা জন্মদিন, কেমন আছেন ভারতীয় রাজনীতির ‘ভীষ্ম’?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 25, 2017 8:13 am|    Updated: September 18, 2019 2:14 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: একেধারে কবি এবং শিল্পী। মানুষটি শুধু রাজনীতির জন্য বিয়ে করেননি। ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে অটল বিহারি বাজপেয়ি তাই এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। যিশুর আর্বিভাবের দিনে তাঁর জন্ম। দেখতে দেখতে ৯৩ বছরে পা দিলেন মানুষের প্রধানমন্ত্রী।

atal-bihari-vajpayee-recent-pictures-cover

[মদ-মাংসের ‘টোপে’ ভোট দেয় গরিব মানুষ, বিতর্কিত মন্তব্য মন্ত্রীর]

৯৩ তম বসন্তে কেমন আছেন অটলজি? এখন তাঁর ঠিকানা কৃষ্ণমোহন মার্গ। জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতি-সহ দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। তাঁর জন্মদিনকে গুড গর্ভন্যান্স ডে হিসাবে পালন করা হয়। তবে এই খোঁজখবর, আগ্রহ বোধহয় একদিনের জন্য। শেষ জীবনে ক’জন আর তাঁর খোঁজ রাখে! এখন সঙ্গী হাতে গোনা কয়েকজন। এই মুহূর্তে তিনি এক চলচ্ছক্তিহীন মানুষ। সব কিছু দেখেন, বুঝতে পারেন। কিন্তু কথা বলতে পারেন না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। বুড়ো বন্ধুকে এখনও নিয়মিত দেখতে যান ছয় দশকের বন্ধু এন এম ঘাটাটে, লালকৃষ্ণ আদবানি এবং বি সি খাণ্ডুরি। পালিতা কন্যা নমিতার থেকে বাজপেয়ির স্বাস্থ্যের বিষয়ে খবর নেন বন্ধুরা। আরও একজন আছেন তিনি মনমোহন সিং। প্রাক্তনের জন্মদিনে নিয়ম করে কৃষ্ণমোহন মার্গের বাড়িতে যান মনমোহন। অন্য সময়েও দেখা করেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মনমোহন এবং বাজপেয়ির রসায়ন ছিল দুরন্ত। এই নিয়ে বাল্যবন্ধু ঘাটাটে স্মৃতির পাতা উলটে বলেন, নরসিমা রাওয়ের সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। সেই সময় সংসদে মনমোহনের একটি বক্তব্য যুক্তি দিয়ে সমালোচনা করেছিলেন অটলজি। কিন্তু এই ঘটনায় খুব ব্যথিত হন মনমোহন। ইস্তফা পর্যন্ত দিতে চেয়েছিলেন। বন্ধুর মান ভাঙাতে এগিয়ে আসেন অটলজি। মনমোহনকে জানান ব্যক্তি আক্রমণের জন্য তিনি কিছু বলেননি।

vajpayee_manmohan-_122513122827

[নোটার থেকেও কম ভোট, উপনির্বাচনের ফল নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ স্বামীর]

প্রথমবার মাত্র ১৩ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ঘোড়া কেনাবেচা করলে হয়তো গদিতে টিকে যেতেন। তিনি যে অটল। হার নিশ্চিত জেনেও আস্থা ভোটে গিয়েছিলেন। পরের নির্বাচনে জিতে এসে সরকার গড়েন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে বিরোধী বেঞ্চে। কিন্তু কখনও কাউকে ব্যক্তি আক্রমণ করেননি। শুধু কী তাই, এখন সংসদ মানে হট্টগোল, বক্তব্য বলতে বাধা। অথচ তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য সংসদের দুই কক্ষ অপেক্ষা করত।

5

[দিল্লির পর এবার উত্তরপ্রদেশ, ভণ্ড বাবার আশ্রম থেকে উদ্ধার বহু মহিলা]

১৯২৪ সালে বড়দিনে গোয়ালিয়রে তাঁর জন্ম। স্কুলশিক্ষকের সন্তান অটলজির ছেলেবেলা থেকে পড়াশোনার আগ্রহ ছিল। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এমএর পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ছিল আগ্রহ। বাবার সঙ্গে কানপুরের ডিএভি কলেজে আইন নিয়ে পড়াশোনা। একই হস্টেলে রাত্রিবাস। পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিতেও ছিল উৎসাহ। ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে যোগ দেন এবং দেশের স্বাধীনতার বছরে তিনি আরএসএসের পুরোদস্তুর সদস্য হন। সেই সময় যুবক অটলের বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে যেতেন সাধারণ মানুষ। তাঁর গুণমুগ্ধের তালিকায় ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুও। একবার এলাহাবাদে অটলের বক্তৃতা শুনে নেহরু জানিয়েছিলেন এই ছেলেটি অনেক দূর যাবে। তাঁর পূর্বাভাস ভুল ছিল না। ১৯৬২ সালে তিনি প্রথমবার সাংসদ হয়ে রাজ্যসভায় আসেন। এর ৯ বছর পর লখনউ থেকে সাংসদ। তারপর রেকর্ড ওই কেন্দ্র থেকে সাতবার সংসদে আসেন বাজপেয়ি। ১৯৭৫-এ জরুরি অবস্থার সময় বাজপেয়িকে অবশ্য জেলে যেতে হয়েছিল। তবে দুঃসময় বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জেল থেকে মুক্তির পর জিতে এসে ১৯৭৭ সালে জনতা সরকারের বিদেশমন্ত্রী হয়েছিলেন। বাজপেয়ির রাজনৈতিক জীবনে সবথেকে খারাপ সময় ছিল ১৯৮৪ সাল। সেবছর সাধারণ নির্বাচনে গোটা দেশে বিজেপি মাত্র ২টি আসন পায়। নিজের জন্মস্থান গোয়ালিয়রেও হারতে হয়েছিল এই রাজনীতিককে। তবে এরপর সহযোদ্ধা লালকৃষ্ণ আদবানিকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন। ১৯৯৮ সালে দিল্লিতে এনডিএ সরকার তৈরি হয়য়। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। বাবরি ধ্বংসকে কখনও মেনে নিতে পারেননি। একইভাবে গোধরা কাণ্ডের পর গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাজধর্ম পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। মোদিকে সরিয়ে পর্যন্ত দিতে চেয়েছিলেন।

[মহার্ঘ হচ্ছে রেলের খাবার, দাম বাড়তে পারে ৫০%]

কংগ্রেসের বাইরে তিনিই একমাত্র রাজনীতিক যিনি প্রধানমন্ত্রী পদে পুরো পাঁচ বছর ছিলেন। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হতেন না। আমেরিকা, জাপানের চোখারাঙানি উপেক্ষা করে ১৯৯৮ সালে পোখরানে পরমাণু বোমা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তাঁর উদ্যোগে লাহোর চুক্তি হয়েছিল। যার সুবাদে দু দেশের মধ্যে শুরু হয় বাস ও ট্রেন পরিষেবা। ২০০৯ সালে স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে কার্যত চলশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ২০১৪ সালে তাঁর জন্মদিনে মোদি সরকার অটলজি ভারতরত্নে সম্মানিত করে। কিন্তু ওই সম্মান বা তা গ্রহণ করার যে তার উপায় ছিল না! বর্তমান ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তি আক্রমণ ক্রমশ কদর্য আকার নিয়েছে। এসব দেখে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা ভারতীয় রাজনীতির ভীষ্ম বোধহয় দীর্ঘশ্বাসই ফেলেন।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement