১২ মাঘ  ১৪২৯  শুক্রবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ 

READ IN APP

Advertisement

‘শিল্পবান্ধব বাংলায় বিনিয়োগ করুন’, শিল্পপতিদের রাজ্যে আহ্বান শশী পাঁজার

Published by: Akash Misra |    Posted: November 26, 2022 10:15 am|    Updated: November 26, 2022 10:15 am

Bengal minister Shashi Panja invites industrialists to invest in the state | Sangbad Pratidin

বিশেষ সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শিল্পমেলায় শিল্প ক্ষেত্রে বাংলার সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে রাজ্যে বিনিয়োগের ডাক দিলেন শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা। বেসরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবদিক থেকেই পশ্চিমবঙ্গে যে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে সেই বার্তা দেওয়ার পাশাপাশিই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘মানবিক মুখের’ ছবিও তুলে ধরেছেন তিনি। আবার বাংলায় শিল্প অনুকূল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকারের যে অসহযোগিতার রাস্তাতেই হাঁটছে সেই অভিযোগও করতে ভোলেননি তিনি। শুক্রবার আন্তর্জাতিক শিল্পমেলায় পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এদিন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী যেভাবে বিশদে বাংলার শিল্প-বান্ধব পরিবেশ ও রাজ্য সরকারের শিল্প-বান্ধব মনোভাবের একের পর উদাহরণ তুলে ধরেছেন তা আগামী দিনে ‘বেঙ্গল গ্লোবাল সামিট’-এর জমি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কাজে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহালমহল।

দেশের বেকারত্বের হার যেখানে চড়চড় করে বাড়ছে। সেখানে বাংলায় তাজপুরের গভীর সমু্দ্র বন্দর তৈরি হওয়ার ফলে যে বহু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে সেই আশার বাণীও এদিন পাঁজার মুখে শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, “২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তাজপুরে যে গভীর সমুদ্র বন্দরে তৈরি হচ্ছে সেখানে সরাসরি ২৫ হাজার কর্মসংস্থান হবে, সঙ্গে আরও ১০ হাজার কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। তাজপুরের সমুদ্র বন্দরের জন্য পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের ব্যবস্থার কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়াতে স্বাভাবিকভাবেই সময় লাগছে। বন্দরের কাজের ক্ষেত্রে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে আমাদের কোনও রকম সাহায্য করা হচ্ছে না। পুরোটাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেই করছে।” পাশাপাশিই দেউচা-পাঁচামি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, “এই সরকার অত্যন্ত মানবিক সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কথা ভাবেন। সেই ভাবধারা নিয়েই আমরাও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। দেউচা-পাঁচামিতে পুনর্বাসন শুধু ব্যক্তি কেন্দ্রিকই নয়, সেখানে পুরো পুনর্বাসন প্যাকেজ– যাতে স্কুল, হাসপাতাল তৈরির মতো বিষয়ও রয়েছে। সেখানে উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছে।” পরপর তিনবার একই দল ক্ষমতায় আসার কারণে যে রাজনৈতিক স্থিরতার পরিবেশ রয়েছে তা শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আদর্শ বলেও দাবি করেছেন পাঁজা। তাঁর বক্তব‌্য, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইনক্লুসিভ গ্রোথ নিয়ে এগোচ্ছেন। সামাজিক প্রকল্পে জোর দিয়েছেন। কন্যাশ্রী বিশ্বের দরবারে পুরষ্কৃত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন মানুষের হাতে টাকা দেওয়ার কথা। তৃতীয়বার সরকারে আসার পরে তিনি লক্ষীর ভাণ্ডার চালু করেছেন। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজ্য সরকারে নজর শিল্পের পাশাপাশি কৃষিতেও রয়েছে তাই কৃষি জমিতে নয় শিল্পের জমিতে শিল্প, এই নীতিতেই তাঁরা বিশ্বাসী।

[আরও পড়ুন: দোষীদের শাস্তি দিতে হবে, ২৬/১১ হামলার বর্ষপূর্তিতে পাকিস্তানকে বার্তা জয়শংকরের ]

এদিন সাংবাদিক বৈঠকের আগেই মেলা প্রাঙ্গনে বাংলার প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। সেখানে বাংলার জিআই ট্যাগ সম্বলিত জিনিসপত্রের সম্ভার দেখে তিনি যে খুশি হয়েছেন তা জানিয়ে বলেছেন, “একটি রাজ্য থেকে ২১টি জিআই ট্যাগ সম্বলিত প্রোডাক্ট, বড় বিষয়। আর কোথায় এমন নেই। এতে যেমন আমাদের সম্মান বেড়েছে তেমনি কর্মসংস্থানও হচ্ছে। চা থেকে চাল। রসগোল্লা পর্যন্ত। আমরা মিষ্টি থেকে নোনতা সবেতেই আছি।”

সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই তিনি মনে করিয়ে দেন, গত দশ বছরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে একটিও বনধ হয়নি ও একটিও কর্মদিবস নষ্ট হয়নি। বলেন, বাংলায় আর লোডশেডিং-এর সরকার নেই বরং বাংলায় এখন বিদ্যুত উদ্বৃত্ত। তাজপুরের গভীর সমুদ্র বন্দর থেকে শুরু করে, দেউচা পাঁচামি কয়লা খনি, দেশের ১৪ শতাংশ ছোটো ও ক্ষুদ্র শিল্প যে বাংলাতেই রয়েছে সেকথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। দেশের জিডিপির-র তুলনায় রাজ্যের জিডিপির হার যে বেশি যে হিসেবও দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী। এদিন পশ্চিবঙ্গ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও কিছুক্ষণের জন্য হাজির ছিলেন পাঁজা।

[আরও পড়ুন: ভারত জোড়ো যাত্রায় ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান! বিজেপির দাবিতে শোরগোল, পালটা কংগ্রেসের ]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে