সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ভিআইপি সংস্কৃতি বা বাবুগিরি নিয়ে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তাদের ক্ষমতার দম্ভে সাধারণ মানুষের যেন কোনও মর্যাদাই থাকে না। এই যেমন ছত্তিশগড়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিংয়ের বউমা সন্তানসম্ভবা। তাঁকে ভর্তি করা হয় একটি সরকারি হাসপাতালে। আর মুখ্যমন্ত্রীর বউমাকে ভিআইপি ট্রিটমেন্ট দিতে গিয়ে বাকি রোগীদের কার্যত ছুটি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
[ডিভোর্স চাই, টাওয়ারে চড়ে দাবি ডাক্তার স্বামীর]
রায়পুরের মহিলা ভীমরাও আম্বেদকর মেমোরিয়াল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। সেখানে ঐশ্বর্য সিং নামে এক মহিলা হাসপাতালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রবধূকে দেখভাল করতে গিয়ে ঐশ্বর্যর দিকে কেউ নজর দেননি। তাঁর বাচ্চাটি মারা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর বউমাকে পরিষেবা দিতে গিয়ে বাড়িতে যেতে বলা হয় অধিকাংশ রোগীকে। যারা হাসপাতালে ছিলেন, তাদের কার্যত গাদাগাদি করে কয়েকটি ওয়ার্ডে রাখা হয়। এমনকী ওই হাসপাতালের কর্মী অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদেরকেও রাতারাতি অন্যত্র সরানো হয়। রমন সিংয়ের পুত্রবধূর জন্য একটি বিশেষ ঘরের ব্যবস্থা করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থামেনি। তিনটি আলাদা ঘরে ৫০জন পুলিশ রেখে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। এসব দেখে শুধু রোগীর পরিবার নয়, বিরক্ত ডাক্তাররাও। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, বিশেষ কিছু ঘর আছে যেখানে রোগীদের পর্যন্ত ঢোকানো হয় না। সেখানে পুলিশ কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়। তবে হাসপাতাল সুপার অবশ্য দাবি করেন, সমস্যা থাকলেও রোগীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়। বিকল্প বলতে কি রোগীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া? এই প্রশ্নের অবশ্য জবাব দেননি সুপার।
[আধারের গেরোয় মিলল না রেশন, অনাহারে মহিলার মৃত্যুতে নিন্দার ঝড়]
এত কাণ্ডের পর নাতনির মুখ দেখতে হাসপাতালে যান রমন সিং। কংগ্রেসের অভিযোগ হাসপাতালটিকে ক্যান্টনমেন্টের মতো তৈরি হয়েছিল। এমনকী বহু সন্তানসম্ভবাকে ছুটি দেওয়া হয়। যাদের ভোটে এরা নির্বাচিত হন তাঁদের কাছ থেকে এমন আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। মুখ্যমন্ত্রীকে আড়াল করতে আসরে নেমে পড়েন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি কোনও রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়নি। উলটে তাঁর সওয়াল মুখ্যমন্ত্রী অন্য কোনও বেসরকারি হাসপাতালের কথা ভাবতে পারতেন। কিন্তু তিনি যা করেছেন এটা প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক।