১৬ চৈত্র  ১৪২৬  সোমবার ৩০ মার্চ ২০২০ 

Advertisement

পরীক্ষার্থীদের সাহায্যই লক্ষ্য, মাধ্যমিকের দিন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ পুলিশ

Published by: Bishakha Pal |    Posted: February 18, 2020 5:58 pm|    Updated: February 18, 2020 6:01 pm

An Images

অর্ণব আইচ: মনের ভুলে বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড রেখে দিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসেছিল ছেলেটি। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার মুখেই তার মাথায় বাজ। সময় আর আধঘণ্টা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করা ছাড়া আর উপায় ছিল না ছেলেটির। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে এলেন গড়ফা থানার ওসি। তাঁর গাড়ি করেই বাড়িতে গিয়ে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে এল পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা শুরুর দশ মিনিট আগে পুলিশ তাকে পৌঁছে দিল কেন্দ্রে। মঙ্গলবার একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিল উত্তর কলকাতার এক ছাত্রীও। শ্যামবাজার থেকে হেদুয়ায় কীভাবে যাবে, বুঝতে না পেরে ছোটাছুটি মেয়েকে নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন মা। শেষ পর্যন্ত শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের ওসি রাজকুমার সিংয়ের গাড়ি করেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছল ওই ছাত্রী। এদিকে, এদিন সকালেই শহরের একাধিক স্কুলে গিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের হাতে গোলাপ ফুল তুলে দেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। তিনি জানান, সারা শহরে ট্রাফিক ভালভাবে চালানোর চেষ্টা চলছে, যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা কোনও সমস্যায় না পড়ে।

[ আরও পড়ুন: আশঙ্কাই সত্যি, আসলের সঙ্গে হুবহু মিলে গেল মাধ্যমিকের ভাইরাল প্রশ্নপত্র ]

পুলিশ জানিয়েছে, গড়ফার পার্ক সার্কাস কানেক্টরের কাছে আর্য বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছলছল চোখে দাঁড়িয়েছিল ছেলেটি। তার সঙ্গে গৃহশিক্ষক। কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। তাকে দেখে সন্দেহ হয় গড়ফা থানার ওসি সত্যপ্রকাশ উপাধ্যায়ের। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করতেই সে বলে, বাড়ি থেকে শিক্ষকের সঙ্গে পড়তে পড়তেই আসছিল সে। কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার আগে ব্যাগ থেকে অ্যাডমিট কার্ড বের করার আগেই চমকে ওঠে সে। বুঝতে পারে যে, সে বাড়ি থেকে অ্যাডমিট কার্ড আনতেই ভুলে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই গড়ফা থানার ওসি তাকে গাড়িতে তোলেন। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নিতাইনগরে তার বাড়িতে নিয়ে যান। অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যখন সে স্কুলে ফেরে, তখন সময় বারোটা বাজতে আর দশ মিনিট বাকি।

এদিকে, এদিন সকালে উত্তর কলকাতার আর জি কর রোডের উপর ডিউটি করতে গিয়ে শ্যামবাজার ট্রাফিক গার্ডের ওসি রাজকুমার সিং দেখেন, রাস্তার উপর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছেন মা। ওই পুলিশ অফিসার গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে যেতেই ওই ছাত্রী ‘পুলিশকাকু’কে জানায়, সে হেদুয়ার রাস্তা চেনে না। কীভাবে যাবে বুঝতেও পারছে না। কিন্তু আধঘণ্টার মধ্যে তাকে পৌঁছতে হবে। পুলিশ অফিসার তাকে আশ্বাস দেন। তাঁর গাড়ি করেই ছাত্রী ও তার মাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করেন। পরীক্ষার্থী পরিবারগুলির পক্ষ থেকে পুলিশকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

[ আরও পড়ুন: পুরভোটের দিন স্থির করে ফেলল রাজ্য, ১০২ পুরসভায় এপ্রিলের মধ্যেই শেষ ভোটপর্ব ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement