৫ মাঘ  ১৪২৭  মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

এবার ‘বেসুরো’ অতীন ঘোষও, দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করায় চিন্তার ভাঁজ শীর্ষ নেতাদের কপালে

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: December 5, 2020 11:21 am|    Updated: December 5, 2020 4:01 pm

An Images

কৃষ্ণকুমার দাস: কলকাতা পুরসভার (KMC) অন্দরেই এবার অসন্তোষের সুর। শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে এবার মুখ খুললেন পুরসভার বিদায়ী ডেপুটি মেয়র তথা প্রশাসকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য অতীন ঘোষ (Atin Ghosh)। তাঁর মতে, শুভেন্দুর মতো ‘জননেতা’ দল ছাড়লে দলের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি তিনিও যে দলে ক্রমশ কোণঠাসা হচ্ছেন, সেই অনুভূতির কথা রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছেন। তৃণমূলের নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েও নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন অতীন ঘোষ।

এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় – শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)। গত সপ্তাহে তিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগের পর থেকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি নিজে। বিভিন্ন অরাজনৈতিক সভা, সমাবেশে হাজির হলেও এ নিয়ে একটি কথাও বলছেন না। আর তাঁকে নিয়েই এই মুহূর্তে যত আলোচনা, গুঞ্জন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের পর দলের অন্দরে বিক্ষোভ, অসন্তোষের সুর যেন বেড়েই চলেছে। কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, বারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত শুভেন্দুকে সমর্থন জানিয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দলের নানাস্তরের নেতারাও একইভাবে সমর্থন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীকে।

[আরও পড়ুন: ‘অনেকে আমার মৃত্যু চায়’, মমতার কথা শুনেই কেঁদে ফেললেন সুব্রত বক্সি]

তবে এবার একেবারে কলকাতার পুরসভার অন্দরেই শোনা গেল দলবিরোধী কথাবার্তা। বিদায়ী ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের ইঙ্গিতবাহী বক্তব্য, ”বিভিন্ন সময়ে যাঁরা দলকে, দলনেত্রীকে চূড়ান্ত আক্রমণ করেছেন, তাঁরাও দলে এসে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন৷ এগুলো যন্ত্রণা দেয়৷ আমাদের মতো যাঁরা দলটা শুরু থেকে করছেন, তাঁদের অনেকেই দলের কাজকর্মে হতাশ। অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছি। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে, পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে এত বছর দলের মধ্যে কখনও মুখ খুলিনি।” শুভেন্দু প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ”জনভিত্তি আছে, এমন নেতার সংখ্যা দলে খুবই কম। শুভেন্দু তাঁদের অন্যতম। ও দল ছাড়লে তৃণমূলের ক্ষতি হবে।” টিম পিকে’কে নিশানা করে অতীন ঘোষের কটাক্ষ, ”কোনও পেশাদারির আওতায় থেকে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা নেই। রাজনীতিতে পথপ্রদর্শক ছিলেন দলের সিনিয়র নেতারা।” মিহির গোস্বামী দল ছাড়া নিয়েও তাঁর প্রশ্ন, ”কেন এত ভাল একজন সদস্য দল ছেড়ে দিলেন? দলই বা তাঁকে আটকাল না কেন?” 

[আরও পড়ুন: রাজভবনে শোভন-বৈশাখী, কলেজের সমস্যায় ফিরহাদের ‘সাম্প্রদায়িক’ মন্তব্য নিয়ে নালিশ]

তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে অতীন ঘোষ দলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর এই ‘বেসুর’ কলকাতার তৃণমূল নেতাদের কপালে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ ফেলছে। তবে পুরসভার বিদায়ী মেয়র তথা মুখ্যপ্রশাসক, অতীন ঘোষের দীর্ঘদিনের বন্ধু ফিরহাদ হাকিম বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। স্বাস্থ্য পরিষেবায় অতীনের ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতেও উভয়ে একসঙ্গেই কাজ করবেন।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement