BREAKING NEWS

১৯ আষাঢ়  ১৪২৭  রবিবার ৫ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

ঘরোয়া উপায়ে স্ক্রাবিং, ময়শ্চারাইজিংয়ে ঋতু বদলের মরশুমে নাকের যত্ন নিন

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: March 17, 2019 8:56 pm|    Updated: March 17, 2019 9:14 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখের ত্বকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নাক। মুখের হাই এরিয়া বা উঁচু পয়েন্টগুলো যত বেশি উজ্জ্বল থাকবে, গোটা মুখও যেন তত উজ্জ্বল লাগবে। যেমন, গালের উঁচু হাড় অংশ, চিবুক, কপালের দু’পাশে দুটো পয়েন্ট আর বিশেষ করে নাক। কিন্তু নাকের উপরিভাগ এবং নাকের দু’পাশের দুই কোণের ত্বকে কালো প্যাচ, ফাটা ত্বক, ছোট ছোট চামড়া ওঠা, ব্ল্যাকহেড্‌স, হোয়াইট হেড্‌স থাকলে মুখের সৌন্দর্য বৃথা। যা যা ত্বকের সমস্যা হিসেবে আমরা চিহ্নিত করি, তার বেশ কয়েকটা নাকেও আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। নাকের কোণের বা চারপাশ ঘিরে যে একটা ড্রাইনেস, ফাটা চামড়া ওঠা, লালচে ভাব দেখা যায়, তার মূল কারণ আবহাওয়া। শীত বা ঠান্ডায় এই ধরনের সমস্যা বাড়ে। শুষ্ক নাক খুব সাধারণ একটা সমস্যা, যা বহু মানুষের শীতকাল এমনকী সারাবছর জুড়ে দেখা যায়। সিজনাল চেঞ্জের সময় আরও বাড়ে। কীভাবে নাকের যত্ন নেবেন, রইল কয়েকটা টিপস৷

nose-make-up

[ট্রেন্ডি রঙের পোশাকে সাজুন, ফ্যাশনে মাতুন]

১. প্রথমে একটু উষ্ণ জল নিয়ে নাকটা ভিজিয়ে রাখুন অন্তত দশ মিনিট। এবার একটা ভিজে নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষুন। শুধু হাতে যেমন ঘষতে পারেন কোনও স্ক্রাবার আঙুলে নিয়ে ঘষা যেতে পারে।

২. চালের গুঁড়ো অথবা দানা চিনি, সঙ্গে পাকা কলা চটকে নিয়ে ঘষতে পারেন। বাজার চলতি স্ক্রাবার নিতে পারেন।

৩. কোনও কড়া সাবান মুখে বা নাকের অংশে না ব্যবহার করাই ভাল। তার পরিবর্তে মাইল্ড ফেসওয়াশ বা ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ, চড়া সুগন্ধী বা অ্যালকোহল যুক্ত ক্লেনজারও এড়িয়ে চলুন। নাক টাওয়েল দিয়ে চেপে চেপে কমপ্রেস করার মতো করে মুছুন।

৫. এবার একটা বরফের ছোট টুকরো নিয়ে পাতলা কাপড় মুড়ে নাক এবং চারপাশটা আলতো হাতে বুলিয়ে নিন। সরাসরি বরফ নাকে দেবেন না।এরপর ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে। একটু ঘন এবং হাইপো অ্যালার্জেনিক লোশন ব্যবহার করুন। এএইচএ যুক্ত বা অ্যালকোহল রয়েছে, সুগন্ধ যুক্ত ময়েশ্চারাইজার না ব্যবহার করাই ভাল। প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ভাল ত্বকের জন্য। সূর্যমুখী বীজের তেল, সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভিতরে রস মিশিয়ে নাক মাসাজ করলে ভাল ফল মিলবে।

৬. খাঁটি মধু খুব ভাল নাকের ড্রাই স্কিনের জন্য। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি, যা নাকের ত্বকের ময়েশ্চারকে লক করে রাখতে সাহায্য করে।

৭. ময়েশ্চারাইজার দিনে ২,৩ বার লাগাতে হবে যতদিন অবধি ত্বকের ড্রাইনেসটা চলে না যায়।

[ফ্যাশন যখন সাদা-কালোয়, হয়ে উঠুন অনন্যা]

৮. রাতে ঘুমনোর আগে পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় ঘন কিছু লাগিয়ে নিলে উপকার মিলবে।

৯. নাকের ত্বক যদি ভীষণ শুষ্ক হয়, ফাটা হয়, তাহলে ল্যাকটিক অ্যাসিড ও ইউরিয়া যুক্ত ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

১০. বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে নিতে ভুলবেন না কারণ খুব ড্রাই নাকের ত্বকের কারণটা সোরিয়াসিস অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসও হতে পারে। তাই জেনে নিন।

১১. নাকের শুষ্ক ত্বক থেকে লালচে ভাব, লাল ফুসকুড়ি, ফোড়া এগুলো হচ্ছে কি না লক্ষ রাখুন। এগুলো একধরনের স্কিন ইনফেকশন, তাই সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।নাক খুব বেশি ড্রাই হলে বেশিবার মুখ ধোয়া বা ওই অংশে জল দেওয়া উচিত নয়। এতে ত্বকের উপরিভাগের তেল নিঃসরণ আরও হ্রাস পায় এবং আরও ড্রাই হয়ে যায়। খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না।নাকের ত্বকের জন্য এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ভাল।

১২.যাঁরা মুখের রোম তোলেন, তাঁদের নাকের ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রোম তোলার পর নরম তোয়ালে উষ্ণ জলে ভিজিয়ে হালকা কমপ্রেস করুন। হাইপো অ্যালার্জেনিক জেল লাগিয়ে নিন।

১২. নাকের গোড়ায় ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস বড় সমস্যা। নাকের রোমকূপের মুখে তেল, ময়লা জমে ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়। সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হলেও ব্ল্যাকহেডস হয়। ব্রন হলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়, তার থেকেও হতে পারে। মৃতকোষ রোমকূপে রয়ে গেলে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস হয়। পিরিয়ডের সময় হরমোনাল চেঞ্জ হলেও হয় ব্ল্যাকহেডস। বার্থ কন্ট্রোল পিল নিয়মিত খেলে অনেক সময় তেল নিঃসরণ বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রেও ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস হতে পারে।কোনও বিশেষ গ্রুপের ওষুধ থেকে নাক তথা মুখের ত্বকে ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস হয়।

কীভাবে দূর করবেন 

বাড়িতে ব্ল্যাকহেড্‌স তুলতে দুটো ডিমের সাদা অংশ, লেবুর রস ২ চা চামচ নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে নাকের চারপাশে ভাল করে লাগিয়ে ওপরে একটা টিস্যু পেপার চেপে সেঁটে দিন। এবার টিস্যুর  ওপর থেকে আবার ডিম আর লেবুর একটা লেয়ার দিন। উপরে আর একটা টিস্যু চেপে আটকে দিন। শুকিয়ে গেলে টিস্যু ধরে টেনে তুলে ফেলুন।

[গলা-পিঠের অনুজ্জ্বলতা দূর করতে ঘরোয়া টোটকা আপনার কাজে লাগবেই]

নাক বিঁধানোর পরের যত্ন

নাক বিঁধনোর পরদিনে দু’বার উষ্ণ জলে তুলো ভিজিয়ে পরিষ্কার রাখুন ওই অংশ। ১/৪ চামচ নুন ১ কাপ গরম জলে দিয়ে ওই জল দিয়ে নাকের ওই অংশে কমপ্রেস করুন ৩-৪ মিনিট। চেপে রেখে সরিয়ে দিন। নোংরা, অপরিষ্কার হাত ছোঁয়াবেন না।

ল্যাভেন্ডার অয়েল নাকের ব্যথা একটু ফোলা বা লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করবে। তাই অল্প তুলোয় ১ ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল নিয়ে নাকের বিঁধানো অংশে লাগাতে থাকুন। নাকছাবি হাত দিয়ে ঘোরানোর চেষ্টা করুন। নাক যতক্ষণ না পুরো শুকোচ্ছে মেকআপ না করাই ভাল। বাথ টাব বা পুলে স্নান করবেন না এই সময়। যে বালিশ মাথায় নিয়ে শোবেন, তার ওয়ারটা যেন পরিষ্কার হয়।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement