২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সমস্যা হয় নানারকম। বিছানায় প্রয়োজন পড়তেই পারে শক্তিবর্ধকের। ভায়াগ্রার মতোই বহু কাম উদ্দীপক রয়েছে আয়ুর্বেদ জগতে। শিথিল যৌন জীবনে আনন্দ আনতে জেনে নিন কোনটি নিরাপদ, কার সাইড এফেক্ট বেশি? খোঁজ নিলেন সৌন্দর্য দাস

“ভায়াগ্রা নেওয়া ভাল? না কি হার্বালের উপরে ভরসা করা উচিত?” মর্নিং ওয়াকে গিয়ে এক আইনজীবী বন্ধুকে প্রশ্নটা ছুড়েছিলেন সরকারি অফিসের শীর্ষ আধিকারিক সোমু চট্টরাজ (নাম পরিবর্তিত)। হাফ সেঞ্চুরির কোঠায় থাকা বন্ধুটির উত্তর, “ভাল-বাজে সবেরই আছে। আমার হোমিওর গুলিদানা সুট করে।” জগিং করতে করতে আর এক ব্যবসায়ী বন্ধু বললেন, “ভায়াগ্রা ভাল, আয়ুর্বেদিকেও সাইড এফেক্ট নেই। তবে নিজে না কিনে একজন স্পেশালিস্ট  দেখিয়ে নিস।” পার্কের আড্ডায় পুরুষদের এমন আলোচনা বিরল কিছু নয়। কারণ, বয়স পঞ্চাশ পেরনোর আগে পরেই পরিবর্তনটা বেশি হয়। কারও সমস্যা শীঘ্রপতনে, কেউ বিরক্ত লিঙ্গের উত্থান না হওয়ায়। তবে ৩৫-৪৫ বছর বয়সিদেরও হতে পারে। আবার আরও তরুণ বয়সেও সমস্যা আসতে পারে। এই সব সমস্যার সমাধান করে যৌনশক্তিবর্ধক। 

তৈল শক্তি

লিঙ্গ দৃঢ় হওয়া বা না হওয়ার সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু তেল ব্যবহার করা যায়। এগুলির বেশিরভাগই আয়ুর্বেদিক, প্রাণীজ ও ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণত এই ধরনের যৌন উত্তেজনাবর্ধক তেলে থাকে আকরকরা শিকড়, জলপাই তেল, গোলমরিচ, সরিষা ও চামেলি তেল, হিং, কেশর, কস্তুরী, হরতাল ভস্ম, জাফরান, কার্পাস বীজের তেল। তবে বাজারচলতি জনপ্রিয় এমন তেল আদৌ কতটা বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় এবং তাতে কতটা সঠিক পরিমাণে উপরোক্ত উপাদানগুলি থাকে তা নিয়ে যথেষ্ট ধোঁয়াশা আছে। তাই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়েই এই ধরনের তেল ব্যবহার করা উচিত।

বাজিকরণে ফিরবে শক্তি

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে যৌনশক্তি বৃদ্ধির পদ্ধতিকে বলা হয় বাজিকরণ। এর উপাদানকে বলে বাজিকারক। মূলত দু’টি উদ্দেশ্যে এই চিকিৎসা করা হয়। এক) পরবর্তী প্রজন্মের জন্ম দেওয়ার জন্য ভাল মানের শুক্রাণু বহন করা। অর্থাৎ ভাবী সন্তান যাতে সুস্থ, সবল হয় তার জন্য যৌবনশক্তি ধরে রাখা ও শুক্রাণুর মান ভাল করা। দুই) যৌনক্রীড়া সক্রিয় রেখে আনন্দ উপভোগ।
একটু বয়স বাড়লে নানা রোগভোগে শরীর জর্জরিত হয়। তাই এই সময় যৌনক্ষমতা বাড়াতে চাইলে হঠাৎ কামবর্ধক কোনও ওষুধ সেবন করা উচিত হবে না। 

ক্ষমতা বাড়াতে রসায়ন থেরাপি ও বাজিকারক
একটু বয়স বাড়লে কামশক্তি বৃদ্ধির ওষুধ প্রথমেই দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির হাই ব্লাড প্রেশার, হাই ব্লাডসুগারের মতো সমস্যা থাকলে কামশক্তি বেড়ে শরীরের ক্ষয় হয়। তাই প্রথমে রসায়ন থেরাপি করা দরকার। যাতে জরা, ব্যাধি তাড়াতাড়ি না আসে, বার্ধক্য রোধ হয়। এতে আপনা থেকেই যৌনক্রীড়ার শক্তি কিছুটা বৃদ্ধি পায়। 

ঠিকমতো বীর্যপাত না হলে-  প্রথমে কিছুদিনের জন্য একটি তেল পুরুষাঙ্গে লাগানোর জন্য দেওয়া হয়। তারপর আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার জরুরি।

অতি দ্রুত বীর্যপাত হলে – অশ্বগন্ধা চূর্ণ ৩ গ্রাম করে দিনে দু’বার খেতে হবে। দুধের সঙ্গে খেলে ভাল। এতে স্পার্ম গাঢ় হয়। যৌন মিলনের আগে যে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা হয় তা কমে যাবে। মুসলিও ৩ গ্রাম করে দিনে দু’বার খাওয়া যায়। এছাড়ার সুপারিপাক বলে একটি ওষুধ আছে।

যৌন চাহিদা বাড়ায় – মুরগি, চড়াই পাখির মাংস, পাঁঠার মাংসের অণ্ড, রসুন, মৃগনাভিকস্তুরী ও শিলাজিৎ। শিলাজিৎকে পাহাড়ের ঘাম বলে। এতে থাকে প্রচুর খনিজ, তেল, ঘি, সোনা, রুপো, টিন, মৃগনাভিকস্তুরী। দ্রুত কাম উত্তেজনা বাড়ায় শিলাজিৎ, মৃগনাভিকস্তুরী, স্বর্ণ ও রৌপ্য ভস্ম।

নিষেধ যখন
সত্তরোর্ধ্বদের কখনওই বাজিকারক দেওয়া হয় না।  ৫০-৬০ বছর বয়সিদের অন্যান্য শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করে বাজিকারক দেওয়া হয়। ষাটোর্ধ্বদের দেওয়া হবে কি না তা নানা দিক পর্যালোচনা করে ঠিক করা হয়। এই ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধ নিজের মতো করে বেশি বেশি খেয়ে নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে খেলে চটজলদি উপকার মেলে না।

[ সংক্রমণ থেকে সচেতন থাকুন হবু মায়েরা, নাহলে প্রভাব পড়তে পারে শিশুর উপরও]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং