২২ আষাঢ়  ১৪২৭  মঙ্গলবার ৭ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

লকডাউনে কন্ডোম কিনতে বেরিয়ে বাধার মুখে, যুবকের যুক্তিতে তাজ্জব পুলিশ

Published by: Sayani Sen |    Posted: April 23, 2020 8:15 pm|    Updated: April 23, 2020 8:37 pm

An Images

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: লকডাউনে বেশিরভাগ মানুষকে যেতে হচ্ছে না অফিস। বাইরের কাজও পুরোপুরি বন্ধ। তাই এই পরিস্থিতিতে ঘরেই রয়েছেন সকলে। অফিস, ফাইল সামলানো কেরিয়ারের ইঁদুর দৌড়ে অনেক দম্পতিরই খাবার টেবিল কিংবা এক বিছানায় ঘুমনো ছাড়া সুখ-দুঃখের গল্প বিশেষ ভাগ করা হত না। সেই দম্পতিই এখন দু’জনে মিলে ভাসছেন প্রেমের জোয়ারে। বন্ধ ঘর, অবসর আর যৌনতা হবে না তা কি হয়? সুরক্ষিত যৌনজীবনের জন্য প্রয়োজন কন্ডোম। এদিকে, লকডাউনের কথা মাথায় রেখে বেশি করে চাল, ডাল কিনেছেন অনেকেই। কিন্তু কন্ডোম কি আর বেশি করে কেনা আছে? তার উপর আবার কন্ডোম ছাড়া যৌনতায় একেবারে নারাজ সঙ্গিনী। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন। পুলিশের সঙ্গে দেখা হওয়া মাত্রই কী কাণ্ডই না ঘটালেন তিনি!

প্রায় মাসখানেকের লকডাউন শেষে একাধিক ক্ষেত্রেই ছাড় দিয়েছে সরকার। তাই হাতে থলি, ব্যাংকের পাশবুক, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখলে বাধা দেওয়া তো দূর। মুখে রা পর্যন্ত কাড়ছে না পুলিশ। এমনকি দোকানে যাতে ভিড় না হয় তাই পুলিশ নিজেই সেই প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনে আমজনতার হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু ওষুধের দোকানে কন্ডোম কিনতে গেলে তো আর হাতে প্রেসক্রিপশন থাকে না! এদিকে সঙ্গীনিও জানিয়ে দিয়েছে, প্রোটেকশন জরুরি। তাই যুবক ভরদুপুরে মোটরবাইক নিয়ে ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ বিধি মেনে হন্তদন্ত হয়ে ওষুধের দোকানে ছুটেছিলেন। কিন্তু থমকে যেতে হয় পুলিশি বাধায়। স্বাভাবিকভাবেই টহল দেওয়া পুলিশকর্মীরা জিঞ্জাসা করেন, রাস্তায় বেরনোর কারণ কী?

[আরও পড়ুন: লকডাউনে বেড়েছে পর্নের আসক্তি, বাকি দেশকে হার মানাচ্ছে ভারত]

যুবকের উত্তর, “ওষুধের দোকানে যাচ্ছি।” ফলে দেখতে চাওয়া হয় প্রেসক্রিপশন। তা না থাকায় বলেন, সেলফ প্রেসক্রিপশন। জরুরি পরিষেবা! কিন্তু কিছুতেই আর ভেঙে বলছিলেন না জরুরি পরিষেবাটা কি? তখন খানিকটা মেজাজ হারানো পুলিশ কর্মীরা লাঠি উঁচিয়ে জরিমানা করতে যাচ্ছিলেন। ক্ষুব্ধ যুবক পালটা পুলিশকেই প্রশ্ন করে বসেন, “আপনি কন্ডোম কিনতে গেলে কি প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধের দোকনে যান? সেলফ প্রেসক্রিপশনে কন্ডোম জরুরি পরিষেবা।” বাইক আরোহী যুবকের এমন কথা শুনে ভ্যাবাচাকা খেয়ে যায় পুলিশ। হেলমেট বিধি, বাইকের কাগজপত্র সব ঠিক থাকায় যুবককে ছেড়েই দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

পুরুলিয়ার কোটশিলার টালি সেন্টার এলাকায় এই ঘটনা এখন পুলিশকর্মীদের মুখে মুখে ফিরছে। লকডাউনে এমন সব অজুহাত পুরুলিয়া জেলা পুলিশ কীভাবে সামাল দেবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে বলেই জানান পুলিশ সুপার এস সেলভামুরুগন।

[আরও পড়ুন: লকডাউনে ভালবাসারও পরীক্ষা! সম্পর্ককে সাবলম্বী হতে শেখাচ্ছে করোনা]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement