৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: পাহাড়–জঙ্গলে ঘেরা দুর্গম অযোধ্যা পাহাড়ে ‘অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম’–এর জন্য সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন চালু করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। পুজোর আগেই অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটনে এই নয়া নির্দেশিকা চালু হচ্ছে।

শুক্রবার এই বিষয়েই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ বাঘমুন্ডির পুরুলিয়া পাম্পড স্টোরেজ প্রেজেক্ট (পিপিএসপি)–র ভবনে বাঘমু্ন্ডি ব্লক প্রশাসন, বনদপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে বৈঠক করে। সেই বৈঠকেই পাহাড়ের পর্যটনে আট দফা গাইডলাইন চূড়ান্ত হয়। সমগ্র পাহাড়জুড়ে একাধিক জায়গায় ‘নো গো জোন’, ‘রেস্ট্রিক্টেড জোন’ এমনকি ‘সেলফি পয়েন্ট জোন’ও তৈরি করে দেবে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। এদিন বৈঠক শেষে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়া বলেন, “রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে অযোধ্যা পাহাড় এখন একেবারে প্রথম সারিতে। বলা যায় ফি দিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এই পাহাড়ে বেড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও গাইডলাইন ছিল না। আমরা এই পদক্ষেপ নিলাম। আপাতত আট দফা পদক্ষেপের উপর আমরা কাজ করছি।”

পুরুলিয়ার সৌন্দর্যরানি অযোধ্যা পাহাড়ের পর্যটন এখন আর শীত নির্ভর নয়। এখন প্রায় সারাবছরই এই পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় থাকে। তাই এই পাহাড়ের একাধিক দুর্গম জায়গাকে ‘নো গো জোন’ করছে পুলিশ। সেইসঙ্গে ‘রেস্ট্রিক্টেড এনট্রি জোন’–এ ভোর পাঁচটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত যাতায়তে অনুমতি দেবে প্রশাসন। কোন এলাকাকে ‘নো গো জোন’ ও ‘রেস্ট্রিক্টেড এনট্রি জোন’ করা হবে সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) ধৃতিমান সরকার বলেন, “আগামী সপ্তাহে আমরা বাঘমুন্ডি ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে পাহাড়জুড়ে পরিদর্শন করব। তারপরই এই আট দফা পদক্ষেপের বিষয়ে বেশ কয়েকটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।” তবে ‘রেস্ট্রিক্টেড এনট্রি জোন’–এর মধ্যে উসুলডুংরী সানরাইজ স্পট ও ডাউরি খাল থাকছে বলে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ‘নো গো জোন’, ‘রেস্ট্রিক্টেড এনট্রি জোন’, ‘সেলফি পয়েন্ট জোন’ ছাড়াও বেশ কিছু সাইট সিয়িংয়ে সাবধানবানী সহ নানান তথ্য তুলে ধরা থাকবে।

যেমন– একনাগাড়ে পাহাড়ে বৃষ্টি হলে এখানে যে হড়পা বান হয় তা জানেন না পর্যটকরা। কয়েকদিন আগে এই পাহাড়ের সাইট সিয়িং ‘বামনি ফলস’–এ হড়পা বানে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তাছাড়া গত মাসেই ঝাড়খণ্ডের এক পর্যটক অযোধ্যা পাহাড়ের আপার ড্যামে জলে ডুবে মারা যান। তাই এই সাইটসিয়িং গুলিতে সাবধানবানী-সহ নানান তথ্য তুলে ধরবে প্রশাসন। সেইসঙ্গে ‘পিপিএসপি’ এলাকায় গাড়ি ঢুকলেই সতর্কতা হিসাবে ‘অডিও রেকর্ড’ শোনাবে পুলিশ। এই পদক্ষেপেই পাহাড় জুড়ে সতর্কতা বোর্ডও লাগাবে প্রশাসন। এছাড়া পাহাড়ের একাধিক সাইটি সিয়িংয়ে ইয়োলো ও রেড লাইন দেবে। ইয়োলো লাইনের অর্থই হল সাবধানতা অবলম্বন করে যাওয়া। আর রেড লাইন অতিক্রম করলেই পুলিশ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এই সাইটি সিয়িংগুলিতে এবার একটি করে কমিটিও তৈরি করে দিচ্ছে প্রশাসন। তারাই এই সাইট সিয়িংগুলি দেখভাল করবে। ফলে এবার অযোধ্যা পাহাড়ের সমস্ত সাইট সিয়িংয়ে প্রায় এক টাকা করে প্রবেশমূল্য ধার্য হতে চলেছে। এই টাকাতেই ওই সাইট সিয়িং গুলিকে কমিটিগুলি পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রেখে ‘পরিবেশবান্ধব পর্যটন’ বার্তা তুলে ধরবে।

এছাড়া অযোধ্যা পাহাড় জুড়ে হাতিদের বিচরণক্ষেত্র হওয়ায় এই পাহাড় এলাকায় থাকা সমস্ত বনাঞ্চলেই স্থায়ীভাবে হুলা পার্টিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাঠা ট্রেকিং স্পট হাতিদের করিডর হওয়ায় সেখানে চালু হচ্ছে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা। যাতে ওই পর্বতারোহণের পথে আচমকা বুনো হাতি এলে মাইকে করে যাতে ট্রেকারদের সাবধানবানী শোনানো যায়। শুক্রবার থেকেই পিপিএসপি এলাকায় পঁচিশ জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে মোতায়েন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের এই স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাকৃতিক বির্পযয় বিষয়ে প্রশিক্ষনও দেবে। যাতে তারা এই দুর্গম পাহাড়–জঙ্গলে বিপদে পড়া পর্যটকদের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

ছবি: অমিত সিং দেও

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং