চারুলতা থেকে বিনোদিনী, পর্দায় ফুটে ওঠা রবীন্দ্রনাথের নারী চরিত্র আজও মগ্ন করে দর্শককে
রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে তৈরি এই অসামান্য ছবিগুলি দেখেছেন?
তিনি চিরকালীন। রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর কবিতা কিংবা গদ্য, এবং অবশ্যই গান... বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহৃত হয় আজও। তাঁর জীবনের একেবারে সায়াহ্নে এদেশে চলচ্চিত্রের রমরমা শুরু হয়। না হলে তিনি এই ফর্মেও সৃষ্টি করতেন নিশ্চিত ভাবেই। তবে তাঁর লেখা থেকে তৈরি হয়েছে অসামান্য সব ছবি। ফিরে দেখা যাক কয়েকটি কালজয়ী সৃষ্টি।
১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষ উপলক্ষে সত্যজিৎ রায় তৈরি করেছিলেন 'তিন কন্যা'। তাঁর তিনটি অসামান্য ছোটগল্প নিয়ে তৈরি হয়েছিল সেই ছবি। গল্পগুলি পরস্পরের থেকে একেবারেই আলাদা। প্রথম অংশে 'পোস্টমাস্টার' গল্পের মূলরস মানব সম্পর্কের বাঁধন এবং বিচ্ছেদের অব্যক্ত যন্ত্রণা। 'মণিহারা' ভৌতিক রসের গল্প। অন্যদিকে 'সমাপ্তি'র বিষয় মূলত রোম্যান্স। এক বালিকার নারী হয়ে ওঠার অসামান্য আখ্যানও বটে।
আরও পড়ুন:
১৯৬৪ সালে রবীন্দ্রনাথের 'নষ্টনীড়' গল্প অবলম্বনে তৈরি হয় 'চারুলতা'। প্রধান চরিত্রে ছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়। এছাড়া ছবিতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শৈলেন মুখোপাধ্যায়। এই ছবিকে সত্যজিৎ রায়ের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি বলে ধরা হয়। শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য রাষ্ট্রপতির স্বর্ণ পদকও জিতেছিল 'চারুলতা'। ব্রিটিশ শাসিত কলকাতার এক অবহেলিত গৃহবধূর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এই কাহিনি নারীর নিজস্ব সত্তার চিরন্তন বিকাশের কাহিনি।
১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় 'ঘরে বাইরে'। ১৯১৬ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত রাজনৈতিক উপন্যাসকে সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তোলেন সত্যজিৎ রায়। অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। ছবিতে স্বাতী-সৌমিত্রর চুম্বন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। তবে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পালমে দ’অর-এর মনোনয়ন পেয়েছিল 'ঘরে বাইরে'। তবে অনেকেরই মতে, ছবি হিসেবে এই ছবি 'চারুলতা' হতে পারেনি।
আরও পড়ুন:
পূর্ণেন্দু পত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'স্ত্রীর পত্র' গল্পটি অবলম্বনে তৈরি করেন সিনেমা। সেটা ১৯৭২ সাল। মাধবী মুখোপাধ্যায় অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে জাতীয় পুরস্কার এবং বিএফজেএ পুরস্কার লাভ করেছিল। সমাজ ও সংসারের রক্তচক্ষুকে এড়িয়ে এক নারীর আত্মোপলব্ধিই এই ছবির মূল বৈশিষ্ট্য।
২০১১ সালে মুক্তি পেয়েছিল 'নৌকাডুবি'। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে ছিলেন যিশু সেনগুপ্ত, রাইমা সেন, প্রসেনজিৎ, রিয়া সেন। প্রযোজক সুভাষ ঘাই। রবীন্দ্রনাথের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে তৈরি ছবিটির চলন ধীরগতির হলেও শেষপর্যন্ত তা একটা রেশ রেখে যায়। তবে এর আগেও এই উপন্যাস নিয়ে ছবি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নীতীন বসু ‘ মিলন’ (১৯৪৬), রামানন্দ সাগর পরিচালিত ‘ঘুংঘাট’ (১৯৬০)।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর ছোটগল্প 'কাবুলিওয়ালা' অবলম্বনে ১৯৫৭ সালে তৈরি হয়েছিল এক কালজয়ী ছবি। রহমত ও ছোট্ট মিনির অসামান্য সম্পর্ক এই ছবির প্রাণ। ছবি বিশ্বাস ও টিঙ্কু ঠাকুরের অভিনয় আজও মানুষের মনের মণিকোঠায় রয়েছে। হিন্দিতেও এই গল্প অবলম্বনে ছবি হয়েছিল। তবে বলরাজ সাহানির অনবদ্য অভিনয়ের পরও মানতেই হবে বাংলা ছবিটি এগিয়ে থাকবে। পরবর্তী সময়ে সুমন ঘোষও 'কাবুলিওয়ালা' অবলম্বনে সিনেমা করেছিলেন।