করা যায় না মামলা! সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমান বেতন, কী কী সুবিধা পান নির্বাচন কমিশনাররা?
কমিশনার হিসাবে কর্তব্য নির্বাহণে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করা যায় না। ২০২৩ সালেই কমিশনারদের জন্য এই ‘সুরক্ষা’ চালু করে মোদি সরকার।
নির্বাচন কমিশনে বিতর্ক। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের কথা রীতিমতো উপেক্ষা করেছেন। গত ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি জ্ঞানেশ। এই আপত্তির তালিকায় যেমন SIR রয়েছে, তেমন রয়েছে ভোটপ্রক্রিয়াও।
ওই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা একযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা একসুরে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। বিজেপির দিকে নিশানা করে বিরোধীদের বক্তব্য, গেরুয়া শিবির যে চুরি করেই ভোটে জিতছে, সেটা এবার প্রমাণিত হয়ে গেল। কমিশন অবশ্য অন্তর্কলহের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন:
বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগ যেমন চাইছেন, তেমনই সাংবিধানিকভাবে তাঁকে সরানোর চেষ্টাও শুরু করছে ইন্ডিয়া জোট। কেউ কেউ বলছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা উচিত। কেউ কেউ তাঁকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবিও তুলছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, জ্ঞানেশ কুমার বা কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এভাবে আদৌ আইনি পদক্ষেপ করা যায় কি? কীভাবে নিযুক্ত হন নির্বাচন কমিশনাররা?
২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করে ৩ সদস্যের এক নিয়োগ কমিটি। ওই কমিটিতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা এবং একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল এই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতার সঙ্গে থাকবেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু পরে সেই নিয়ম বদলে দেওয়া হয়। তা নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা। কমিশনারদের নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁদের কাজের মেয়াদ হতে পারে সর্বোচ্চ ৬ বছর। তবে ৬৫ বছরের পর ওই পদে থাকা যায় না। কেউ নির্বাচন কমিশনার থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে উন্নীত হলেও মোট কাজের মেয়াদ ৬ বছরই। ৩ জন নির্বাচন কমিশনার সম পদমর্যাদার। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার শুধু তাঁদের মুখ। কোনও বিষয়ে মতানৈক্য হলে ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই দস্তুর।
আরও পড়ুন:
নির্বাচন কমিশনার বা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার জন্য ন্যূনতম কেন্দ্রীয় সরকারের সচিব পদে কাজ করতে হয়। নির্বাচন কমিশনারের বেতন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমান। মাসিক আড়াই লক্ষ টাকা বেতন পান তাঁরা। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ৩৪ হাজার টাকা মেলে বিলাসিতা ভাতা হিসাবে। এর সঙ্গে যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মেলে। রেল-বিমানের টিকিটে ছাড়-সহ যাবতীয় সচিবদের যা সুযোগ সুবিধা সব পান নির্বাচন কমিশনাররা।
নির্বাচন কমিশনারদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু পদে থাকা অবস্থায় তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পরবর্তীকালে মামলা করা যায় না। অর্থাৎ কমিশনার হিসাবে কর্তব্য নির্বাহণে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা করা যায় না। ২০২৩ সালেই কমিশনারদের জন্য এই 'সুরক্ষা' চালু করে মোদি সরকার। তবে কমিশনার পদের বাইরে অন্য কোনও অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে মামলা করা যায়।