২৭ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: নাককাটা কালী, অনেকেই হয়তো নামটি শুনলে চমকে উঠবেন। কিন্তু পুরুলিয়ার এক অঞ্চলে বহু বছর ধরে ঠিক এই নামেই পূজিত হয়ে আসছেন মা। প্রায় দু’শো বছর ধরে পাথরের মূর্তিকেই মাকালী হিসাবে পুজো করে আসছেন ভক্তরা। যে কালী নাককাটা নামে পরিচিত। পুরুলিয়া পুর শহরের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য পল্লীর পাঁড়ে গলির একেবারে শেষ প্রান্তে মায়ের এই মন্দির।

কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় দু’শ বছর আগে এই এলাকা ছিল জনমানবহীন। নির্জন। পা রাখলে যেন গা ছমছম করে উঠত। সারা শরীর কাঁটা দিত। তখন মায়ের এই মন্দির হয়নি। এলাকা জুড়ে ছিল বিঘের পর বিঘে ধানের জমি। কালীপুজোর আগে এক রাতে ডাকাত দল এই এলাকায় হামলা চালাতে জড়ো হয়। বিঘের পর বিঘে আমন ধান কেটে লুঠ করার ছক কষে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান মা শ্যামা। ডাকাত দল তখন ক্ষুব্ধ হয়ে তরোয়াল দিয়ে মায়ের নাক কেটে দেন। তারপর থেকেই টিলার ওপরে পাথরের মূর্তিকে পুজো করা হয়। পাথরের গায়ে মায়ের যে অবয়ব ফুটে উঠেছে সেখানে শ্যামার নাক কাটা। চারপাশে মন্দিরের চাতালে মায়ের শরীরের অংশ ছড়িয়ে রয়েছে। হাত, পা, জিভ, নাক। তাই আজও অতীতের রেওয়াজ মেনে মা এখানে পুজো পান। তবে কার্তিকের অমবস্যায় শুধু নয়। ফি সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার এই পাথরের মূর্তিতে পুজো হয়। হয় বলিও। কালীপুজোর রাতেও একাধিক পাঁঠা বলি হয়ে থাকে। মানত করে আসা ভক্তরা যেমন বলি দেন তেমনই কেউ কেউ আবার সোনার গহনাও দেন নাককাটা কালীকে। সেই গয়নায় মাকে সাজিয়ে তোলা হয়। পাথরের মূর্তির নাককাটা কালী সোনার অলংকারে অমাবস্যার রাতে যেন চোখ ঝলসানো রূপধারণ করে। মায়ের এমনই মাহাত্ম্য। জাগ্রতও বটে। এখানে মানত করলে তা সফল হয়। তাই পুজোর রাতে ভিড় উপচে পড়ে। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রদীপ মাহাতো বলেন, “নাককাটা কালী ভীষনই জাগ্রত। তাই পুজোর দিন ঢল নামে এই মন্দিরে।” 

[আরও পড়ুন: দেশকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করতে শুরু আরাধনা, আজও স্বমহিমায় ঝালদার এই কালীপুজো ]

মন্দিরকে ঘিরে থাকা একটি অশ্বত্থ গাছ যেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে আটকে রেখেছে এমন কথাই মুখে মুখে ফেরে। তবে অনেকে বলেন, এই পাথরের মূর্তি অষ্টাদশ শতাব্দীর। সেই সময় পুরুলিয়ায় আধিপত্য ছিল জৈনদের। এই পুজোকে ঘিরে দু’দিন পংক্তি ভোজন হয়। পুজো শেষে মধ্যরাতে খিঁচুড়ি প্রসাদ পেতে বহু মানুষের পাত পড়ে। সেই সঙ্গে পুজোর পরের দিন বলির মাংস দিয়ে খিঁচুড়ি হয়। যে প্রসাদ পাওয়ার জন্য রীতিমতো হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। শুধু এই পাঁড়ে গলি নয় ওই বলির মাংসের খিঁচুড়ি খেতে সাত নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষজনই ভীড় জমান নাককাটা কালী মন্দিরে।

[আরও পড়ুন: দেবীর স্বপ্নাদেশেই শুরু, রীতি মেনে আজও চলছে কুলেশ্বরী কালীবাড়ির পুজো ]

ছবি: সুনীতা সিং

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং