১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 

মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও দীপাবলি ২০১৮ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৫  রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮ 

BREAKING NEWS

ইংল্যান্ড: ৩৩২ ও ৪২৩/৮ ডিঃ
ভারত: ২৯২ ও ৩৪৫
(লোকেশ রাহুল ১৪৯, ঋষভ পন্থ ১১৪, অ্যান্ডারসন ৪৫/৩, রশিদ ৬৩/২)

দীপ দাশগুপ্ত: ১-৪! ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে বিরাট কোহলিদের উপরের চূড়ান্ত স্কোরলাইন দেখলে একজন ভারতীয় হিসাবে দুঃসহই লাগবে। চারদিকে দেখছি, লোকে উত্তেজিত বলাবলি করছে, রবি শাস্ত্রীকে ভারতীয় কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। রাহুল দ্রাবিড়কে কোচ করে আনা হোক। আমার প্রশ্ন হল, তাতেই কি সব সমস্যা মিটে যাবে?
আমার মতে, না। মিটবে না। সবচেয়ে বড় কথা হল, দ্রাবিড় কি আদৌ ভারতীয় টিমের কোচ হতে চান? ক্রিকেট জনতা দাবি তুললেই তো আর হবে না। যাকে চাইছে, সে চাইছে কি না সেটাও দেখা দরকার। তা ছাড়া শাস্ত্রীকে সরিয়ে দিলেই যে ভারতীয় ক্রিকেটের খোলনলচে পাল্টে যাবে কে বলল? ব্যাটসম্যানরা যে গোটা টেস্ট সিরিজে রান পায়নি, সেটার কারণ শুধুমাত্র শাস্ত্রী হতে পারে না। কোচ মাঠে নেমে খেলে না। খেলে ক্রিকেটাররা। কোচ বড়জোর প্ল্যানিং করতে পারে। কিন্তু সেটাকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব ক্রিকেটারদের। শিখর ধাওয়ান থেকে চেতেশ্বর পুজারা-সবার চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটা টেস্ট খেলা হয়ে গিয়েছে। ওদের নতুন করে সব বোঝানোর কিছু নেই। বড়জোর বলা যেতে পারে, কী করা উচিত নয়। কিন্তু চূড়ান্ত দায়িত্বটা ওদের।

[বিদায়বেলায় সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই সারপ্রাইজ গিফট পেলেন কুক!]

মানছি, ১১৮ রানে ওভাল টেস্ট হেরে এবারের মতো ইংল্যান্ড সফর শেষ করল ভারত। সেই গর্বের ওভাল যেখানে ’৭১-এ ৪ উইকেটে টেস্ট জয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রথমবার ইংল্যান্ড থেকে টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছিল অজিত ওয়াদেকরের ভারত। সেই ওভাল যেখানে ’৭৯ সালে সানিভাইয়ের (সুনীল গাভাসকরকে আমরা যে নামে ডাকি) ২২১ অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়ের সামনে এনে ফেলেছিল ভারতকে। ৪৩৮ রান তাড়া করে। পঞ্চম দিনের খেলা সে দিন যখন শেষ হয়, ভারত জয় থেকে মাত্র ন’রান দূরে!
সেই গর্বের ওভালে এ দিন ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন এক লজ্জার ইতিহাস লেখা হল। ছাব্বিশ বছর পর পাঁচ টেস্টের সিরিজের চারটেয় হেরে সিরিজ শেষ করার লজ্জা। ’৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় শেষ বার পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে গিয়ে চারটেয় হেরেছিল ভারত। ২০১৮-য় ফের সেই জিনিস ঘটল।
অথচ এক সময় কমেন্ট্রি বক্সে আমরা আলোচনা করছিলাম, ’৭৯-এর ওভালে ভারতের কীর্তির মতো কিছু এ দিন দেখব কি না। কেএল রাহুল আর ঋষভ পন্থ মিলে তখন ২০৪ রানের পার্টনারশিপ করে ফেলেছে। চা বিরতির সময়ও ভারতের হাতে পাঁচ উইকেট। সবচেয়ে বড় কথা, সেঞ্চুরি করে ফেলা দুই ব্যাটসম্যান ক্রিজে। ওভার পিছু পাঁচ রান করে উঠছে। ইংল্যান্ড বোলারদের দিশেহারা লাগছে। তেত্রিশ ওভারে একশো ষাট মতো তুলতে হবে। আমরা আলোচনা করছিলা, ভারত কতটা ক্লোজ করতে পারবে ম্যাচ? কতটা কাছাকাছি এসে ড্র করতে পারবে?

[বিশ্বজয়ী ঈশানের বোনকে বিয়ে করতে হাজির যুবক, চন্দননগরে শোরগোল]

কিন্তু আদিল রশিদের একটা অবিশ্বাস্য ডেলিভারি সব পাল্টে দিল। লেগস্টাম্পের বাইরে পড়ে কেএলের অফস্টাম্পের বেল নিয়ে চলে গেল রশিদের বল! অনেকটা শেন ওয়ার্নের করা ‘বল অব দ্য সেঞ্চুরি’-র মতো। কিন্তু কেএলকে দোষ আমি দেব না। রশিদের ডেলিভারিটার সামনে ওর কিছু করার ছিল না। বরং বলব, ভারত ওভাল টেস্ট ড্র করার যাবতীয় সম্ভাবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত পারল না দু’জনের জন্য। অজিঙ্ক রাহানে আর ঋষভ পন্থ। মঙ্গলবার যে শটে রাহানে আউট হয়েছে, তা অভাবনীয়। ৩৭ করে ফেলার পর, ক্রিজে জমে যাওয়ার পর, মইন আলিকে সুইপ মারতে গিয়ে টাইমিংয়ের গণ্ডগোলে আউট! ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভাল ব্যাটিং সারফেস ওভাল। এখানে বল বেশি মুভ করে না। তাই খেলতে অসুবিধে হয় না। সেখানে ৩৭ রানে টিমের সহ অধিনায়ক মিসটাইমড শটে আউট হবে? যেখানে টেস্ট বাঁচানোর জন্য খেলছে টিম?
ঋষভ পন্থ নিয়ে আনন্দ-দুঃখ- দু’টো প্রতিক্রিয়াই হচ্ছে। ভাল লাগছে ওর অসাধারণ সেঞ্চুরিটার জন্য। আবার রাগ হচ্ছে, সেঞ্চুরির পর আদিল রশিদকে উইকেট দিয়ে আসার ধরন দেখে। ঋষভকে বুঝতে হবে, নিজের সেঞ্চুরিতেই ওর কাজটা শেষ হয়ে যায় না। টিম আগে। টিমের দিক থেকে প্রয়োজন ছিল ঋষভের শেষ পর্যন্ত থাকা। রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে টেস্ট ড্র’য়ের চেষ্টা করা। কেএলকে আউট হতে দেখেও আদিল রশিদকে ও ভাবে চালাতে যাওয়ার দরকার ছিল কি? যেখানে রশিদের গুগলি ও বুঝতে পারছিল না। বারবার মিস করছিল। সেখানে প্রয়োজন তো ছিল না চোখ-কান বন্ধ করে রশিদকে মারতে যাওয়ার। জাদেজাকে দেখে শিখতে পারত ঋষভ। মারতে জাদেজাও জানে। কিন্তু নেমে তিন-চারটে ওভার স্রেফ বল ছেড়ে গেল জাদেজা। আসলে ততক্ষণে সবাই বুঝতে পারছিল, ভারত এখন একটা কাজই করতে পারে। টেস্টটা ড্র করতে পারে। সেটা আমরাও বুঝতে পারছিলাম। জাদেজা পেরেছিল। শুধু ঋষভ পারল না।
খারাপ আরও বেশি লাগছে কেএল রাহুলের কথা ভেবে। ওকে যে কেন অসামান্য প্রতিভা বলা হয়, এ দিন বুঝিয়ে গেল । কাট, পুল, ড্রাইভ, স্টেপ আউট করে মার-সব মারল কেএল। আক্ষেপ একটাই। ওর ব্যাট থেকে এই অসামান্য ইনিংসটা এল, ন’টা ইনিংস পরে। তবে কী জানেন, এ রকম ইনিংস অনেক সময় ক্রিকেটারের কেরিয়ার পাল্টে দেয়। ২০০০ সালে সিডনিতে ভিভিএস লক্ষ্মণের ১৬৭ ওর কেরিয়ার গ্রাফই পাল্টে দেয়। সম্পূর্ণ অন্য এক ভিভিএস লক্ষ্মণকে এনে উপস্থিত করেছিল। কে বলতে পারে, ওভালের দুর্ধর্ষ ১৪৯ কেএল রাহুলকেও অন্য এক ব্যাটসম্যান হিসেবে এরপর পেশ করবে না? হাজারো দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার মধ্যে ওটাই একমাত্র আশা।

 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং