Hilsa

নববর্ষে সোনার চেয়েও দামি ‘রুপোলি শস্য’, সাড়ে ৮ হাজারে বিক্রি পদ্মার ইলিশ

উৎসবে ইলিশের এত দাম দেখে মন খারাপ আম জনতার। 

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২৫, ১৭:৪৬

options
link
নববর্ষে সোনার চেয়েও দামি ‘রুপোলি শস্য’, সাড়ে ৮ হাজারে বিক্রি পদ্মার ইলিশ

সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে নববর্ষ মানে এক ধরণের উন্মদনা। দিনভর নানা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকে ইলিশ-পান্তার দোকান। কিন্তু নববর্ষে ঢাকায় রুপোলি ইলিশ সোনার চেয়েও দামি। পদ্মাপাড়ের জেলা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়াঘাটে পদ্মা থেকে ধরা ইলিশ বিক্রি হল সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। উৎসবে ইলিশের এত দাম দেখে মন খারাপ আম জনতার। 

Advertisement

কয়েকদিন ধরেই বড় সাইজের প্রতিমণ ইলিশের দাম লাখ টাকার বেশি ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তা দেড় লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যায়। ছোট সাইজের মাছের দামও আগের চেয়ে মণপ্রতি বেড়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পয়লা বৈশাখে চাহিদা বাড়লেও আমদানি কম, তাই মাছের দাম এভাবে বেড়ে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে আজ শনিবার বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড বাজারে খুব সামান্য পরিমাণ ইলিশ বাজারে ওঠে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এসেছিল মাত্র ৫০ মণের মত।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে শুক্রবার একটু বেড়েছিল। এ দিন ইলিশ মোকাম পোর্ট রোডে ৪০০ মণের মত মাছ বিক্রি হয়েছে। শনিবার সকালে পোর্ট রোড বাজারের খুচরো বিক্রেতা মাসুম মৃধা বলেন, “বাজারে দেড় কেজি সাইজের কোনও মাছ নেই অনেকদিন ধরে। এক কেজি ৩০০ গ্রামের উপরের মাছ কিছু পাওয়া যায়। তার দাম আকাশছোঁয়া।” তিনি বলেন, শুক্রবার এক কেজি ২০০ গ্রাম ও এক কেজি ১০০ গ্রাম সাইজের মাছের প্রতি কেজি পাইকারিতে তিন হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রতিমণ ছিল দেড় লাখ টাকা। শনিবার এই সাইজের প্রতি কেজির দাম চার হাজার হয়ে গিয়েছে, অর্থাৎ মণ ১ লাখ ৬০ হাজার। খুচরা বাজারে যা আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এই মাছ বিক্রেতা। তিনি বলেন, বাজারে এক কেজি সাইজের ইলিশের প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এক কেজির কম মানে ৮০০/৯০০ গ্রামের সাইজের মাছের মণ এক লাখ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।

Advertisement

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মহম্মদ নাসিরউদ্দিন জানান, “খোকা ইলিশ সংরক্ষণে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালীর মেঘনা, তেতুলিয়া, পদ্মা, কালাবদর ও গজারিয়া নদীতে অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষেধ ছিল। সাগরে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে ১৫ এপ্রিল থেকে। বিগত সময়ের চেয়ে এবার কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য করা হয়েছে। যার কারণে এখন ইলিশ মাছ কম। তবে এর সুফল আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে মিলবে। আগামী বছর থেকেও ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।”

এদিকে, রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়ায় পৌনে দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ টাকায়। আজ শনিবার সকালে জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে হালিম সরদারের আড়তে ইলিশটি বিক্রি হয়। পদ্মা নদী থেকে ধরা মাছটি প্রথমে কেনেন ফেরিঘাট এলাকার মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। পরে তিনি আরেক ক্রেতার কাছে ইলিশটি বিক্রি করেন। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবী বলেন, আজ সকালে বাজারের হালিম সরদারের আড়তে অন্য মাছের সঙ্গে নিলামে বিক্রির জন্য তোলা হয় বড় আকারের ইলিশটি। মাছটির ওজন প্রায় ১ কেজি ৮০০ গ্রাম।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.