সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইউনুসের বাংলাদেশে ইতিহাস মুছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। এবার ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান তুলে ভিডিও তৈরির সময়েই হাতেনাতে পাকড়াও করা হল ১২ জনকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলি উপজেলায় এসব স্লোগান তুলে মিছিলের আদল দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করছিলেন সদ্য কৈশোর পেরনো কয়েকজন। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে। জানা গিয়েছে, সকলের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। শনিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পেশ করার পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরিদের সংরক্ষণ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগে ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পতন ঘটে বাংলাদেশের তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের। আপাতত তিনি ভারতের কূটনৈতিক আশ্রয় রয়েছেন। তাঁর পথ অনুসরণ করে আওয়ামি লিগের শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ নেতা বিদেশের নানা জায়গা গা ঢাকা দিয়েছেন। এরপর ৮ আগস্ট সে দেশের অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ডক্টর মহম্মদ ইউনুস। অন্তবর্তী সরকার আওয়ামি লিগ, ছাত্রলিগ, যুবলিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই থেকেই দলের সাধারণ নেতা-কর্মীরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। হাসিনার মৌখিক বার্তায় নিজেদের ফের লড়াইয়ে নামানোর অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন।
আর শুক্রবার কর্ণফুলিতে সেই কাজ করতে গিয়েই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেলেন ১২ সদ্য তরুণ। জানা যাচ্ছে, সদ্য কৈশোর পার করা এই ১২ জন তরুণ বন্ধু, তাঁরা সকলে একই এলাকার বাসিন্দা। কয়েকটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বানিয়ে সেসব ফেসবুকে আপলোড করা হয়। শুক্রবার বিকেলে তারা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিলের আদলে ভিডিও বানাচ্ছিল। ফেসবুক পেজে আপলোড তা করার আগেই খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের সকলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কর্ণফুলি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ শরিফ বলেন, ‘‘চলমান ডেভিল হান্ট অভিযানের আওতায় ১২ তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ওই মামলায় আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’’
এর আগে দেশের দক্ষিণের জেলা তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার জন্মস্থান গোপালগঞ্জে ছাত্রদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমাবেশ রুখে দেওয়ার চেষ্টা হয়। তাতে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় মহাসড়কের টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলিগ ও যুবলিগের কিছু নেতাকর্মী। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সরকারি কলেজ গেট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। এসময় তাঁরা শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনে বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে পড়ে। অপরদিকে, পদ্মাপাড়ের ঢাকা-শরিয়তপুর সড়কের নড়িয়া উপজেলার নশাসন মাঝিরহাট এলাকায় গাছ ফেলে ও আগুন জ্বেলে সড়ক অবরোধের চেষ্টা হয়।
সর্বশেষ খবর
-
বাংলা ভাগের আন্দোলনেই জননেতা শ্যামাপ্রসাদেরর উত্থান
-
চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার, তবু থামেনি লড়াই, স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন প্রাক্তন বাস্কেটবল খেলোয়াড়
-
‘সীমা পার করলে বুঝিয়ে দিতে হবে’, গুঁতো বিতর্কে হুমকি যশস্বীর, পড়লেন শাস্তির মুখে
-
কাঁধ পর্যন্ত ঝাঁকরা সোনালি চুল গায়েব হালান্ডের, নতুন রূপের জন্য ‘হুমকি’ও পেলেন নরওয়ে তারকা
-
পোড়ার ক্ষত শুকোলেও শেষ নয় লড়াই, অগ্নিদগ্ধদের পাশে ডিসানের ‘ফিনিক্স’