Bangladesh Presidential Election

শাসকের ইচ্ছাই শেষ কথা ছিল গত তিন দশকে! ১৯৯১-এর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, চলছে ভোট

হাসিনা ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মহম্মদ সাহাবুদ্দিন গত মাসে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়েন। এর ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২০, ২০২৬, ১৭:১৮

options
link
শাসকের ইচ্ছাই শেষ কথা ছিল গত তিন দশকে! ১৯৯১-এর পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, চলছে ভোট
দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের (Bangladesh Presidential Election) জন্য শুরু হয়েছে ভোটাভুটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই ঘটনা ঐতিহাসিক। কারণ ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এর আগে বিগত কয়েক দশকে মূলত শাসক দলের ইচ্ছায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি বাছাই হয়েছে।

Advertisement

পদ্মাপাড়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবারে দুই প্রার্থী, বিএনপির সমর্থিত ৭৮ বছরের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির এবং জামায়াতে ইসলামির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ৮৪ বছরের কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ বীর বিক্রম। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ অধিবেশন কক্ষে বেলা ২টো থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, ভোটাভুটি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। একাধিক প্রার্থী থাকায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট হবে। ভোটগ্রহণ শেষে সেখানেই গণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে। জানা গিয়েছে, পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন পদ্মাপাড়ের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

Advertisement

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মহম্মদ সাহাবুদ্দিন গত মাসে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়েন। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশন ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করে। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় সেই ভোটপর্ব শুরু হয়েছে। নিয়ম মেনে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য।

Advertisement

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। এরশাদ সরকারের পতনের পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেটিই ছিল বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট। সেবার শাসক দল বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামি লিগ-সমর্থিত প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। ৩৩০ সদস্যের সংসদে ভোট পড়ে ২৬৪টি। আবদুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট, আর বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। ফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোট দেননি। ওই নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক দানা বেঁধেছিল।

ফলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। এবার সেই ধারায় ছেদ পড়ল। কাকতালীয়ভাবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ফের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। বলা বাহুল্য, যে কোনও পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের সাক্ষ্য দেয়। যদিও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে বিএনপি সমর্থিত মির্জা ফখরুলের জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.