সাত পুরসভায় ভোট, পাহাড় ও সমতলে দুই ভিন্ন চিত্র দেখলেন রাজ্যবাসী

এই পুরভোটকে ছেলেখেলার ভোট বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির জাতীয় সচিব রাহুল সিনহা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৪, ২০১৭, ০৮:৩৪

options
link
সাত পুরসভায় ভোট, পাহাড় ও সমতলে দুই ভিন্ন চিত্র দেখলেন রাজ্যবাসী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যের সাত পুরসভায় ভোটে পাহাড় ও সমতলে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল রবিবার। একদিকে পাহাড়ের দার্জিলিং, মিরিক, কালিম্পং ও কার্শিয়াং এই চার জায়গায় উৎসবের মেজাজে ভোট দিলেন সাধারণ মানুষ। তখনই উল্টোদিকে সমতলের রায়গঞ্জ, ডোমকল এবং পূজালিতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে বিঘ্নিত হল শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ। পাহাড়ে তিন দশক পরে এই প্রথম মানুষ এত স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিলেন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া পাহাড়ে একেবারে শান্তিপূর্ণ মেজাজে ভোট পড়ল সকাল থেকে। চারটি পুরসভাতেই বোর্ড গড়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। অন্যদিকে, চার পুরসভাতেই জিতে নয়া ইতিহাস গড়তে চায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

Advertisement

মোর্চা সুপ্রিমো গুরুং অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। ভোটের পর এর ফল ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিনি। অন্যদিকে, মোর্চা প্রধানের অভিয়োগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল পাহাড়ে তিন দশকের ধারাবাহিক স্রোত ঘুরিয়ে দিতে মরিয়া। পাহাড়ে কখনওই ঘিসিংয়ের জিএনএলএফ বা মোর্চা ছাড়া সমতলের কোনও দল সুবিধা করতে পারেনি। সেই ট্রেন্ড বদলাতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে এবার পাহাড়ে ঝাঁপিয়েছে।

Advertisement

[‘ভারতীয় হিসেবে লজ্জিত হলে সমুদ্রে ঝাঁপ দিন মমতা’]

অন্যদিকে, উত্তেজনার মধ্যে ভোটগ্রহণ পর্ব চলল সমতলের তিন জায়গায়। রায়গঞ্জ, ডোমকল ও পূজালিতে একাধিক জায়গায় গণ্ডগোলের অভিযোগ ওঠে। রায়গঞ্জের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বারকানাথ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে পুলিশের সামনেই দুষ্কৃতী-তাণ্ডব। ভিতরে বহিরাগতরা ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে পুলিশকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে বুথে ঢুকে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। ততক্ষণে পিছনের দরজা দিয়ে বহিরাগতরা চম্পট দেয় বলে দাবি। ওই বুথেই ইভিএম ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রায়গঞ্জের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তুলসীতলায় ৭৯ ও ৮০ নম্বর বুথের বাইরে বাইক থেকে এলোপাথাড়ি গুলি দুষ্কৃতীদের। ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্যই গুলি, দাবি স্থানীয়দের। রায়গঞ্জের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে রায়গঞ্জ করোনেশন স্কুল বুথে বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জোট সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ শাসকদলের। এনিয়ে বুথের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। পরে রাস্তার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় এক দুষ্কৃতীকে। ধাওয়া করে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ ওই দুষ্কৃতীকে আটক করে পুলিশ। কালিয়াচক, হেমতাবাদ থেকে দুষ্কৃতীদের নিয়ে আসার অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে।

Advertisement

পূজালি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পূজালি-রামচন্দ্রপুর ওয়ার্ড অফিসের বুথের বাইরে গুলি। পালিয়ে যান বুথের নিরাপত্তারক্ষী। আতঙ্কে শৌচাগারের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন ভোটকর্মীরা। কিছুক্ষণের জন্য নিখোঁজ হয়ে যান ১৯ নম্বর বুথের সেকেন্ড পোলিং অফিসার। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার। বোমা-গুলিতে ভয় লাগে, দাবি পুলিশকর্মীর। পাশাপাশি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক বোমাবাজিও হয়। বাইকে চড়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করা হয় ইভিএম। কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে ভোটগ্রহণ।

ডোমকলের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণনগর গ্রামে বোমাবাজি। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জোট প্রার্থীর এজেন্টকে বুথ থেকে বার করে দেওয়ার প্রতিবাদে ডোমকল-বহরমপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ জোট সমর্থকদের। বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকেও বার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রঘুনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুথের মধ্যেই সংঘর্ষ। ডোমকলের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের লাইনে আক্রান্ত হন ভোটার। গিয়েছিলেন সুস্থ শরীরে ভোট দিতে। জোট সমর্থক হওয়ায় শাসকদলের লোকজন মারধর করে বলে অভিযোগ। আহত ভোটার ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। তবে এখনও ভোট দেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে জোট সমর্থক ওই ভোটারের।

প্রসঙ্গত, এই পুরভোটকে ছেলেখেলার ভোট বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির জাতীয় সচিব রাহুল সিনহা। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দাবি করেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন করাতে হবে। এবং তাঁর আরও দাবি, কয়েক দফায় পঞ্চায়েত ভোট করতে হবে কমিশনকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.