সাইবার প্রতারণার (Cyber Fraud) ফাঁদ পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ। বর্ধমান সাইবার থানার পুলিশের জালে চার প্রতারক। গত কয়েকদিন আগে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের জেরা করে ইতিমধ্যে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, সন্দেহজনক ২৮টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। যেখানে সাইবার প্রতারণার প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ঢুকেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলি কার নামে খোলা হয়েছিল, কারা ভাড়া নিয়েছিল, টাকা কোথায় পাচার হয়েছে তা সমস্ত বিষয়ে ধৃত চারজনকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, বড়সড় এই চক্রে আরও কারা জড়িত তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:
রাজ্য সাইবার ক্রাইমের তরফে এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরেই শুরু তদন্তে নামে বর্ধমান সাইবার থানা। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেন আধিকারিকরা।
ধৃত চারজনের নাম বিজয় দেবনাথ, শিবম বিশ্বাস, তরুণজিৎ দেবনাথ ও শুভ বালা। ধৃতদের বাড়ি নাদনঘাট থানার চম্পাহাটি ও হাটশিমলা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান সাইবার থানাকে রাজ্য সাইবার ক্রাইমের আধিকারিকরা একটি রিপোর্ট পাঠান। যেখানে বেশ কিছু তথ্য দেওয়া হয় তদন্তকারীদের। বলা হয়, নাদনঘাট থানার সমুদ্রগড়ের নসরৎপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের রেলবাজার শাখার কয়েকটি অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ২৮টি অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ঢুকেছে। এমনকী ৬০টিরও বেশি সাইবার প্রতারণার সঙ্গে অ্যাকাউন্টগুলির যোগ রয়েছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়।
রাজ্য সাইবার ক্রাইমের তরফে এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পরেই শুরু তদন্তে নামে বর্ধমান (Bardhaman) সাইবার থানা। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেন আধিকারিকরা। তদন্তে ছ’জন পয়েন্ট অব সেল(পিওএস) এজেন্টের নাম সামনে আসে। এমনকী ২৬৮টি সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরও পান আধিকারিকরা। ভুয়ো নথি দিয়ে এই এজেন্টরা সিমকার্ড দিত। আর তা দিয়েই ভুয়ো কল, এসএমএস, ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড ও ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারণা করা হয়। তদন্তের সূত্রে পৌঁছাতেই ধৃত ওই চারজনের নাম সামনে আসে। এরপর তদন্তের গভীরে গিয়ে তদন্তকারীরা টেলিকম সংস্থাগুলির কাছ থেকে সন্দেহজনক মোবাইল নম্বরগুলির কাস্টমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম ও কল ডিটেলস রেকর্ড সংগ্রহ করে। এমনকী ব্যাঙ্কে গিয়ে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলির কেওয়াইসি ও অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হয়। সবক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ওই চারজনের নাম সামনে আসে। এরপরেই চম্পাহাটি ও হাটশিমলা এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নিরাপদে তামিলনাড়ুর ২১, শুধু চিনেই আটকে দু’শো ভারতীয়! নেপালে নাগরিকদের সুরতেহাল জানাল দিল্লি
-
ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে ভিডিও! ৫০ টাকার দুল, ১০০ টাকার হারে মেটার মঞ্চে চমক গ্রামের বউ পূজারিণীর
-
‘আমার জন্য প্রার্থনা করুন’, নেপাল থেকে নিরাপদে ছেলের কাছে ফিরতে চান বাংলাদেশি নায়িকা অপু
-
‘নিরাপদে থাকুন…’, দেশের বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে মন কাঁদছে নেপাল ক্রিকেটারদের
-
বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ বাংলার বহু, বসিরহাট-শিলিগুড়ির উদ্বিগ্ন পরিবারে হাহাকার