Maldah

মালদহে নৌকায় বজ্রপাত! মৃত ৪ যাত্রী, পুরুলিয়া ও নদিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত ৩

মালদহের দুটি পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে মোট ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

Advertisement ad
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুন ২৩, ২০২৬, ২১:৩৭

options
link
মালদহে নৌকায় বজ্রপাত! মৃত ৪ যাত্রী, পুরুলিয়া ও নদিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত ৩ zoom
২৩ জুন, মঙ্গলবার। নৌকায় বাজ পড়ে মৃত্যু ৪ জনের। নিজস্ব ছবি।

মঙ্গলবার বিকেলে দুর্যোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর খবর সামনে আসতে শুরু করেছে। মালদহের দুটি পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে মোট ৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে মালদহের পারলালপুর ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবাহী নৌকায় বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৪ যাত্রীর। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। বিকেলে গ্রামের পাশের পাটের জমিতে কাজ করার সময় বাজ পড়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও পুরুলিয়ায় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় ২ জনের। আহত হন ৩ জন। পাশাপাশি কাঁচরাপাড়ায় মাঠের মধ্যে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। বাঁকুড়ার খাতরায় বজ্রাঘাতে মত্যু হয় ২ জনের। কোচবিহারে দুটি পৃথক ঘটনায় বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতরা হলেন আসাদুল্লাহ শেখ (৮০), আনসার শেখ (৪৫), একরামুল শেখ (৮০) ও কোচি শেখ (২৫)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বিকালে প্রতিদিনের মতোই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রীকে নিয়ে ধুলিয়ান ঘাট থেকে একটি নৌকাটি গঙ্গা পেরিয়ে মালদহের পারলালপুর ঘাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাটে নামার কয়েক মুহূর্ত আগে আকাশ কালো করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে শুরু হয় তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ। হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই মুহূর্তের মধ্যে নৌকার মধ্যে লুটিয়ে পড়েন একাধিক যাত্রী। যাত্রীদের চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঘাট চত্বরে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহত কয়েকজনকে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হলেও অধিকাংশকেই সামশেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেশ কয়েকজনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। নিহতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বৈষ্ণবনগর থানার জয়েনপুরের আবু মোল্লাপাড়া এলাকায় বিকেলে পাটের জমিতে কাজ করছিলেন দুই ভাই সালেক মিঁয়া (৩৫) ও জাহাঙ্গির মিঁয়া (২৯)। তখনই বজ্রপাতে দু’জন গুরুতর আহত তাঁদের উদ্ধার করে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে, পুরুলিয়ায় তিনটি পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২ জনের, আহত ৩ জন। মৃতদের নাম প্রতিমা মাহাতো (৫৪), কেশব মাহাতো (৪৮)। মৃতদের দুজনের বাড়িই জয়পুর থানা এলাকায়। এছাড়াও পুরুলিয়া শহরের দুলমিতে বজ্রপাতে আহত হন এক যুবক। পুরুলিয়ায় বরাবাজার থানার গুসাইডি গ্রামে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত দুই কিশোরী বোন।

পাশাপাশি মঙ্গলবার দুপুরে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্য কলোনি মাঠে বজ্রাঘাতে বিবেকানন্দ সরকার (৩৯) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মাঠে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই প্রবল বজ্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজ্রাঘাত সরাসরি তাঁর শরীরে লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কোচবিহারে বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও অন্তত ৪ জন। শীতলকুচি ব্লকের বড় কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সাটিমারি গ্রামে মঙ্গলবার ভোরবেলা গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় এক গৃহবধূর। মৃতার নাম মেনকা বর্মণ (৫০)। অপরদিকে সুটকাবাড়ির এলাকায় কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আরমান হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। বাঁকুড়া জেলাতেই বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বজ্রাঘাতে রায়পুর ব্লকের দুন্দার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সিয়াড়বেদ্যা গ্রামের শংকর চালক (৪০) এবং মধুপুর গ্রামের বুদ্ধেশ্বর মান্ডি (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাঁদের রায়পুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন