Nadia

‘পুরুষ লক্ষ্মী’র পর ‘পুরুষ বিধবা’! ৫ বছর ধরে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ভাতা

দুর্নীতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়েই স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাসের চরম রোষের মুখে পড়ল সংবাদমাধ্যম।

সুবীর দাস
সুবীর দাস

শেষ আপডেট: জুন ১৮, ২০২৬, ১৩:০৭

options
link
‘পুরুষ লক্ষ্মী’র পর ‘পুরুষ বিধবা’! ৫ বছর ধরে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ভাতা
প্রতীকী ছবি।

রাজ্যে পালাবদলের পর ধরা পড়েছে একের পর এক ‘পুরুষ লক্ষ্মী’। এবার পাওয়া গেল পুরুষ বিধবার হদিশ। নদিয়া জেলার সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের চরসরাটি এলাকার এক পুরুষ গত ৫ বছর ধরে প্রতি মাসে নিয়ম করে তুলছেন বিধবা ভাতা। ভাতা প্রাপকের নাম নরেন ঘোষ। আর এই নজিরবিহীন দুর্নীতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়েই স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য তথা উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাসের চরম রোষের মুখে পড়ল সংবাদমাধ্যম।

Advertisement

​এলাকার দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বৈদ্যনাথ দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করতেই রেগে আগুন যান তিনি। রীতিমতো সাংবাদিকে ‘দালাল’ বলে আক্রমণ করেন এবং নোংরা, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। গালিগালাজ করার পাশাপাশি অবশ্য নিজের ও পঞ্চায়তের পিঠ বাঁচাতে অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছেন উপপ্রধান। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় পঞ্চায়েতের কোনও ভুল নেই। যা ভুল হয়েছে, সব বিডিও অফিসের তরফে হয়েছে। আবেদনপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনি করার ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকদের গাফিলতি ছিল।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, আবেদনপত্র যখন জমা নেওয়া হয়েছিল, তখন থেকেই স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। তাঁদের দাবি, এই বিরাট ভুল চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান, উপপ্রধান এবং অঞ্চলের নেতারা পুরো বিষয়টি আড়াল করে রেখেছিলেন। এদিকে এই ঘটনায় সম্পূর্ণ উলটো সুর শোনা গেল খোদ নরেন ঘোষের পরিবারে। নরেনবাবুর স্ত্রী সুমতি ঘোষের দাবি, তাঁরা কখনও বিধবা ভাতার জন্য আবেদনই করেননি। বার্ধক্য ভাতার জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনিক কোনও ভুলের কারণে তা বিধবা ভাতা হিসেবে অনুমোদিত হয়ে যায়।

Advertisement

বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এই বিষয়ে বলেন, “তৃণমূল সরকারের আমলে সবকিছুতেই দুর্নীতি হয়েছে। তাই নিজেরা সচেতন হন। এখন তৃণমূল সরকার যে ভুল করে গেছে সেগুলি ঠিক করা আর সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়াই মূল কাজ।” তিনি আরও বলেন, “ভুল মানুষের হতেই পারে, কিন্তু সেই ভুল আড়াল করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ওপর চড়াও হওয়া এবং সাংবাদিকদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করা কোনও জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না। উপপ্রধানের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবই কিন্তু জনমনে সন্দেহের তীর আরও জোরালো করছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এই ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.