টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়! মনের জোর থাকলে অসাধ্য সাধন অসম্ভব, তা প্রমাণ করে দিলেন বাঁকুড়ার শুভজিৎ মণ্ডল। কীভাবে? দুটো পা অকেজো, তা সত্ত্বেও হুইল চেয়ারে ডেলিভারি বয়ের কাজ করছেন তিনি। নিজে উপার্জনে চালাচ্ছেন সংসার।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার নিত্যানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সারঙ্গপুরের বাসিন্দা শুভজিৎ মণ্ডল। বাবা সুখময় মণ্ডল পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বর্তমানে বিকলাঙ্গ তিনি। সেই থেকে ছেলে শুভজিৎই চালাতেন সংসার। মেকানিকের কাজ করতেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের ফের! ২০১৮ সালে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একতলা থেকে সটান নিচে পড়ে যান তিনি। তারপর থেকে শুভজিৎও প্রতিবন্ধী। হাঁটাচলা আর পারেন না। প্রথম দিকে চিকিৎসার খরচ জুগিয়েছেন বন্ধুরা। কিন্তু এভাবে কতদিন? সংসার চলবে কীভাবে? চাইলেই হাল ছেড়ে দিতে পারতেন শুভজিৎ। কিন্তু তিনি কিন্তু তা করেননি। অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জীবনযুদ্ধে শামিল হয়েছেন।
এরপর বাঁকুড়া থেকে মা-বাবাকে নিয়ে কলকাতার পর্ণশ্রীতে থাকতে শুরু করেছেন শুভজিৎ। কাজ শুরু করেছেন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে। তবে প্রতি মুহূর্তে পাশে ছিলেন বন্ধুরা। জানা গিয়েছে, বন্ধুরাই শুভজিৎকে কিনে দিয়েছেন ট্রাই সাইকেল। সেই সাইকেলকে সঙ্গী করেই দিনভর ফুড ডেলিভারির জন্য তিলোত্তমার বুকে ছুটে বেড়ান শুভজিৎ। সময় মতো গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেন খাবার। বাকি জীবনটা এভাবেই কেটে যাক, উপার্জন সীমিত হলেও শান্তি থাকুক জীবনে, এটুকই চান শুভজিৎ।
সর্বশেষ খবর
-
‘যে খেলবে, তার উন্নতি হবে’, কমনওয়েলথ পদকজয়ীদের সঙ্গে সাক্ষাতে মোদির মুখে ‘ফ্রেন্ডস’ বার্তা
-
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধের বদলে গরম জল! সত্যিই কি কাজ করে এই ঘরোয়া টোটকা?
-
গসিপের দাম ৩০০ টাকা! পরনিন্দা-পরচর্চা থেকে আয় করেই জোড়া বাড়ির মালকিন বৃদ্ধা
-
৯ জেলা পরিষদ সদস্যকে ঘাড়ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! সোশাল মিডিয়ায় মহুয়া লিখলেন, ‘স্বার্থপর গদ্দার’
-
বাঘের সঙ্গে লড়াই অমিতাভের! অভিষেকের জন্মের পরই কেন এমন ‘চ্যালেঞ্জ’ নেন বিগ বি?