পরকীয়া

পরকীয়ার জেরে সালিশি সভায় বোনকে ‘হেনস্তা’, অপমানে আত্মঘাতী দাদা

নিজের ঘর থেকে ওই যুবকের দেহ উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৪, ২০২০, ১৯:০৮

options
link
পরকীয়ার জেরে সালিশি সভায় বোনকে ‘হেনস্তা’, অপমানে আত্মঘাতী দাদা

বাবুল হক, মালদহ: বোনের প্রেমের ‘শাস্তি’ জরিমানা। কারণ, প্রতিবেশী এক বিবাহিত যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছে সে। আর তার জেরেই সালিশি সভায় উভয়পক্ষকেই শাস্তি দিতে জরিমানা করে গ্রামের মোড়লরা। এমনকী সেই সালিশি সভার হাজির ছিলেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের এক সদস্যও। সালিশি সভায় জরিমানা এবং বোনের পরকীয়া সম্পর্কের অপমান সহ্য করতে না পেরে শুক্রবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন দাদা। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের (Maldah) রতুয়া থানার ফরিদপুর গ্রামে। মৃতের পরিবারের তরফে গ্রামের কিছু মোড়ল এবং অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবকের বিরুদ্ধে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে শনিবার সন্ধে পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Advertisement

মৃত যুবক  মোবারক হোসেন, পেশায় দিনমজুর। তাঁর বোনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ওই গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে। এই সম্পর্কের বিষয়টি গোটা গ্রামে জানাজানি হয়ে যায়। মৃতের বোনও বিবাহিত। কিন্তু তারপরেও কেন পরপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠল, এনিয়ে দু’দিন আগেই গ্রামে সালিশি সভা হয়। সেই সালিশি সভায় দু’পক্ষকেই জরিমানা করে গ্রামেরই কিছু মোড়ল। অভিযোগ, সেই সালিশি সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নুরুল ইসলামও। মৃতের ভাই মুকলেশুর রহমান বলেন, “পরকীয়া সম্পর্কের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাও বোনকে সালিশি সভায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক মুরশেদ রহমানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে গ্রামের মাতব্বররা। গরিব বলে দাদা মোবারক হোসেনের পক্ষে এক হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তবু সেই টাকা মাতব্বরদের দেওয়া হয়। তারপরেও নানা কুকথা শুনতে হয়।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: ভাড়াবাড়িতে করোনা রোগীকে ‘হেনস্তা’, আশ্রয় না পেয়ে বালি থানার সামনেই বসে রইলেন যুবক]

তাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মোবারক। পরিবারের দাবি, তাই নিজের শোওয়ার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরকীয়ার জেরে সালিশি সভা ডাকা এবং জরিমানার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “দু’জনেই বিবাহিত। তবু তাঁদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তারই জেরে দু’দিন আগে গ্রামের কিছু মানুষ সালিশি সভা বসায়। সেখানে দু’পক্ষকে জরিমানা করা হয়। আর তারপরে এই আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। এতে আমার কোনও অন‍্যায় নেই।” রতুয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement

[আরও পড়ুন: তাজপুরে সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যু ১ পর্যটকের, নিখোঁজ আরও এক যুবক]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.