KPP

বিজেপির দরজা বন্ধ, সতর্ক আরএসএসও! এবার কেপিপিতে ঢুকছে তৃণমূলের বেনোজল?

কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় জানান, প্রতিদিন কেপিপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচুর ফোন আসছে। তাদের মধ্যে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাধারণ সদস্য আছেন। প্রত্যেকে দলের সদস্য হতে চাইছেন।

Advertisement
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০২৬, ১৯:৫৯

options
link
বিজেপির দরজা বন্ধ, সতর্ক আরএসএসও! এবার কেপিপিতে ঢুকছে তৃণমূলের বেনোজল?
ফাইল ছবি।

মানুষের রায়ে বাংলার মসনদে এখন বিজেপি সরকার। এরপরেই তৃণমূলে ‘বিদ্রোহ’! দল ছাড়ার হিড়িক। বন্ধ বিজেপির দরজা। সতর্ক রয়েছে আরএসএসও। এই অবস্থায় কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড) অর্থাৎ কেপিপি-তে নাম লেখাতে শুরু করেছেন উত্তরের বিভিন্ন জেলার তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা। পৃথক রাজ্য ও ভাষার স্বীকৃতির দাবিতে সরব হচ্ছেন তারাও। যদিও কেপিপি-র তরফে রীতিমতো শিবির করে শুধুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগের বাইরে থাকা তৃণমূলের বাছাই করা কর্মীদেরই সদস্য করা হচ্ছে। 

Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে তৃণমূল নেতাদের দাপটে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেয়েছে তারাই এখন পালিয়ে থাকার জায়গা খুঁজছেন। দলের মাঝারি নেতা থেকে নিচুতলার সাধারণ কর্মীরাও স্বেচ্ছা ঘরবন্দি হয়েছেন। কয়েকদিন আগেও হুমকি দিয়ে বেড়ানো দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী জেলা অথবা ব্লক স্তরের নেতাদের দুর্দিনে পাশে না-পেয়ে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা রীতিমতো দিশাহারা। ভোটের ফলাফল বের হতে অনেকে গেরুয়া আবির মেখে দলের জার্সি পালটে ফেলার চেষ্টা করছেন ঠিকই কিন্তু লাভ হয়নি। অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের সঙ্গে গোপনে ফোনে কথাও বলছেন কিছু তৃণমূল নেতা। কিন্তু ডাল গলেনি! উলটে পদ হারানোর ভয়ে মাঝারি, ছোট বিজেপি নেতৃত্ব ‘ঝামেলা’ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন। তাই গেরুয়া শিবিরের রুদ্ধ দুয়ার কিছুতেই খুলছে না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ওই পরিস্থিতিতে উত্তরের গ্রামীণ এলাকার তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা কেপিপি-র দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ এলাকায় কেপিপি নেতৃত্বকে প্রায় প্রতিদিন দল বদলের সভা করতে হচ্ছে। তবে এখানেও যেসব তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে তাদের ঠাই মিলছে না। কামতাপুর পিপলস পার্টির (ইউনাইটেড) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় জানান, প্রতিদিন কেপিপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে প্রচুর ফোন আসছে। তাদের মধ্যে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সাধারণ সদস্য আছেন। প্রত্যেকে দলের সদস্য হতে চাইছেন। কিন্তু এভাবে দলের সদস্য করা সম্ভব নয়। তাই ওদের দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আসতে বলা হচ্ছে। 

Advertisement

উত্তরের গ্রামীণ এলাকার তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা কেপিপি-র দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ এলাকায় কেপিপি নেতৃত্বকে প্রায় প্রতিদিন দল বদলের সভা করতে হচ্ছে। তবে এখানেও যেসব তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং দাদাগিরির অভিযোগ রয়েছে তাদের ঠাই মিলছে না।

নিখিলবাবু বলেন, “প্রায় প্রতিদিন যোগদান সভা হচ্ছে। কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দলে নেওয়া হচ্ছে। যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগ রয়েছে তাদের এড়িয়ে চলা হচ্ছে।” এখানেই বিপাকে পড়েছেন বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা। অনুগামীরা কেপিপি-র ঝান্ডা হাতে পেলেও দুর্নীতিবাজ নেতারা ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়। কর্মফল ভোগের নিদানও শুনতে হচ্ছে।

এবার বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরের সমতলের ছয় জেলায় ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে কামতাপুর পিপলস পার্টি (ইউনাইটেড)। মালদহ থেকে কোচবিহার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা এবং কথা দিয়ে না-রাখার অভিযোগ তুলে প্রচারও করেছে দল। রাজ্যে পালাবদলের পর পৃথক কামতাপুর রাজ্য এবং ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতেই অনড় রয়েছে কেপিপি। দলের জলপাইগুড়ি জেলার নেতা বিশ্বনাথ রায় জানান, নতুন যারা দলে আসছেন তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, “পৃথক রাজ্য ও ভাষা স্বীকৃতির দাবি পূরণ ও শান্তি চুক্তির আশ্বাস দিয়ে কেএলও চিফ জীবন সিংহকে আত্মসমর্পণ করানোর পর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এবার রাজ্যে পালাবদল হয়ে ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠন হয়েছে। আর কোনও বাধা নেই। চিকেনস নেকের নিরাপত্তার প্রয়োজনেই উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্য ঘোষণা করা উচিত।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন