টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: প্রথমবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট খুলতে গিয়ে বিপাকে বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা কৈলাসপতি আচার্য৷ অ্যাকাউণ্ট খোলার ফর্ম ফিলাপ করার পর দেখা যায় তাঁর প্যান নম্বর ব্যবহার করে আগেই রাজস্থানে খোলা হয়েছে অ্যাকাউণ্ট৷ আর ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট নম্বরে ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা৷ আর তা জানতে পেরে হতবাক হয়ে গিয়েছেন কৈলাসবাবু৷ কে, কীভাবে তাঁর নথি ব্যবহার করে অ্যাকাউণ্ট খুলল এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দিশাহীন হয়ে পড়ছেন তিনি৷ কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষও৷ তাই দফায় দফায় কৈলাসবাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ডেকে কথা বলছেন৷ যদিও এই বিষয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ মুখ খুলতে নারাজ৷ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি৷ তবে অভিযোগ দায়ের হলে নিশ্চয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা৷
বাঁকুড়া শহরের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কুচকুচিয়া রোডের বাসিন্দা কৈলাসপতি আচার্য৷ তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, গত তেরো বছর ধরে তিনি বাঁকুড়া শহরের একটি দোকানে কাজ করতেন৷ সম্প্রতি দুর্গাপুরে একটি সংস্থায় কাজে যোগ দেন৷ সেখান থেকেই তাঁকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট খুলতে বলা হয়৷ সেই মতো কয়েকদিন আগে বাঁকুড়া শহরের মাচানতলায় তিনি একটি রাষ্ট্রয়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় যান৷ সেখানে গিয়ে অ্যাকাউণ্ট খোলার জন্য ফর্ম ফিলাপ করে জমাও দেন৷ সঙ্গে দেন নিজের প্যান কার্ডের ফটোকপি৷ ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, ওই প্যান নম্বর ব্যবহার করে আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট খোলা রয়েছে৷ আর তাতে ১ কোটি ৮৩ লক্ষ জমা রয়েছে৷ এর পরই সন্দেহ হয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের৷ তাদের প্রাথমিকভাবে কৈলাসবাবুর উপরই সন্দেহ হয়৷ তাঁকে ডেকে বিষয়টি জানানো হয়৷ আর তার পরই তিনি আকাশ থেকে পড়েন৷ কৈলাসবাবুর কথায়, “নুন-আনতে পান্তা ফুরনোর সংসার৷ সামান্য দোকানে কাজ করে কোনওদিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্ট খোলার কথা ভাবিনি৷” এমনকী, বাঁকুড়া-দুর্গাপুরের বাইরে অন্য কোথাও তিনি যাননি বলে দাবি করেছেন কৈলাসবাবু৷
ব্যাঙ্কের চিফ ম্যানেজার অসিতরঞ্জন সিনহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়৷ তিনি দেখা করেননি৷ তবে ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷ বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখা করেন তাঁর স্ত্রী মৌসুমী আচার্য ও মা কৃষ্ণা আচার্য৷ তাঁরাও বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান৷ এ বিষয়ে এখনও কোনও পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেনি৷ বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি৷ ব্যাঙ্কের তরফেও এখনও কিছু জানানো হয়নি৷ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷”
এদিকে ব্যাঙ্কে বেতনের টাকা তুলতে পারলেন না পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার স্টেশনের এক অস্থায়ী শ্রমিক রণজিত্ দাস৷ তাঁর দাবি, টাকা তুলতে না পেরে তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউণ্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে৷ ওই অ্যাকাউণ্টে রয়েছে ৪৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯১৯ টাকা৷ এই টাকা কীভাবে তাঁর অ্যাকাউণ্টে এল, তা বুঝতেই পারছেন না ওই শ্রমিক৷ তিনি বিষয়টি নিয়ে কোলাঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন৷ পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি৷
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের