Ashoknagar

কাপড়ের ব্যবসার আড়ালেই অস্ত্র ব্যবসা! বিহার থেকে আনতেন গোলাবারুদ, কে এই রিভলবার লেডি?

নিতান্ত ছাপোসা চেহারা। তিনিই এখন সিআইডি আধিকারিকদের জালে। বিপুল সংখ্যায় বন্দুক ও কয়েকশো কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে মাঝবয়সি ওই মহিলার থেকে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকায় তাঁকে নিয়ে চলছে চর্চা।

অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১৭:২৮

options
link
কাপড়ের ব্যবসার আড়ালেই অস্ত্র ব্যবসা! বিহার থেকে আনতেন গোলাবারুদ, কে এই রিভলবার লেডি?
অস্ত্র-সহ পাকড়াও ওই মহিলা। নিজস্ব চিত্র

নিতান্ত ছাপোসা চেহারা। তিনিই এখন সিআইডি আধিকারিকদের জালে। বিপুল সংখ্যায় বন্দুক ও কয়েকশো কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে মাঝবয়সি ওই মহিলার থেকে। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকায় তাঁকে নিয়ে চলছে চর্চা। কে এই ‘রিভলবার লেডি’? সাধারণ মাঝবয়সি ওই চেহারার আড়ালে রয়েছে কোন পরিচয়? রবিবার সকালে অশোকনগর রোড এলাকায় এক মহিলাকে পাকড়াও করা হয়। ব্যাগ তল্লাশি করতেই বেরিয়ে পড়ে বন্দুক, বিপুল সংখ্যায় কার্তুজ।

Advertisement

ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ধৃতের নাম পূজা বিশ্বাস। কিন্তু কে এই মহিলা? প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, তিনি হাবরা পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পুলিশের তদন্তেই উঠে আসতে থাকে একাধিক তথ্য। জানা গিয়েছে, তাঁদের কাপড়ের ব্যবসা রয়েছে। স্বামী নীলরতন বিশ্বাস ওই ব্যবসা দেখেন। অভিযোগ, ওই ব্যবসা আসলে সামনে। পিছনে স্বামী-স্ত্রী মিলে অস্ত্রব্যবসা চালান! স্বামী নীলরতনের কথামতো বিভিন্ন সময় অস্ত্র নিয়ে যাওয়া-আসার কাজ করতেন পূজা। এদিনও সম্ভবত সেই অস্ত্রই নিয়ে আসা হচ্ছিল। তখনই বমাল ধরা পড়লেন ওই মহিলা।

Advertisement
Arms trafficking under the guise of the textile business, Who is this Riverbal Lady in Ashoknagar
ধৃত মহিলার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হওয়া পিস্তল-কার্তুজ।

বাজেয়াপ্ত হয়েছে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি ৭ এমএম এবং দু’টি ৯ এমএম পিস্তল রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ১২টি ম্যাগাজিন, প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ হাজার টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন। অভিযোগ, বিহার থেকে ওই বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ নিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু কোথায়, কার কাছে সেসব হাতবদল হত? সেই বিষয় তদন্ত করে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কয়েক বছর ধরেই অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে এই মহিলা। তদন্তকারীদের দাবি, বিহারের মুঙ্গের থেকে অস্ত্র এনে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছে দিতেন তিনি। সেই অস্ত্রের কোনও অংশ বাংলাদেশে পাচার হত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রের দাবি, পূজা এই অস্ত্রপাচার চক্রের অন্যতম ক্যারিয়ার। তাঁর কাছ থেকে বিহারের জামালপুরগামী একটি ট্রেনের টিকিটও মিলেছে। সেই সূত্র ধরে মুঙ্গেরের অস্ত্রচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের হদিশ খোঁজা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এটিই পূজার প্রথম গ্রেপ্তার নয়। ২০২৩ সালে দত্তপুকুর থানা এলাকায় বাস থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ-সহ ধরা পড়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর সাজা পাওয়ার পর তিনি ছাড়া পান। তবে পেশা বদল করেননি তিনি! জেল খাটার পর ফের একই চক্রের হয়ে কাজ শুরু করেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। গোপালনগরে কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে অস্ত্র কারবার চালানোর অভিযোগে তাঁর স্বামীরও খোঁজ চলছে। পাশাপাশি সীমান্ত লাগোয়া এলাকার এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গেও এই চক্রের যোগ মিলেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.