‘বাহুবলী’ থিমে সিদ্ধিদাতা গণেশের মণ্ডপ, পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ায় একটুকরো মুম্বই

কোলিয়ারি নিতুড়িয়ায় শুধুই ‘গণপতি বাপ্পা মোরেয়া’।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮, ১৪:০৭

options
link
‘বাহুবলী’ থিমে সিদ্ধিদাতা গণেশের মণ্ডপ, পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ায় একটুকরো মুম্বই

সুমিত বিশ্বাস, নিতুড়িয়া (পুরুলিয়া): এ যেন একটুকরো মুম্বই! অন্তত ৮০ ফুট উঁচু মণ্ডপ আর বাহুবলী থিমে সিদ্ধিদাতা গণেশের আগমন দেখে বাণিজ্য নগরী মুম্বইকেই মনে করাচ্ছে খনি অঞ্চল নিতুড়িয়া। আগামী বৃহস্পতিবার এই পুজো হলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই এই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। তার পরেই এই কোলিয়ারি নিতুড়িয়ায় শুধুই ‘গণপতি বাপ্পা মোরেয়া’। বাহুবলী ছবির চিত্রায়ণে পুরুলিয়ার খনি অঞ্চল নিতুড়িয়ার পারবেলিয়ার সরস্বতী ক্লাবের এই পুজোয় যে ভাবে গণেশের আরাধনা করা হচ্ছে তা পাল্লা দেবে মুম্বইয়ের সঙ্গেও! আসলে বাজেট যে ১৫ লক্ষ টাকা। তাই মণ্ডপও চোখধাঁধানো। মঙ্গলবার এই মণ্ডপের দরজা খুলে যেতেই ভিড় উপচে পড়ে। এদিন মণ্ডপের উদ্ধোধন করেন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো। তারপর গণেশের জন্ম বৃত্তান্তের কথা শোনান। পারবেলিয়া সরস্বতী ক্লাবের উদ্যোগে কোলিয়ারির ইসিএল ময়দানে এই পুজো হচ্ছে। এই পুজো এবার কুড়ি বছরে পা দিল। শহিদ শশীভূষন প্রসাদ যাদব এই পুজো শুরু করেছিলেন।

Advertisement

Advertisement

বর্তমানে এই খনি অঞ্চলে বেশ মন্দা চলছে। ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেডের পারবেলিয়া কোলিয়ারি প্রায় বন্ধের মুখে। সমস্যা দুবেশ্বরী কোলিয়ারিতেও। ফলে এই কোলিয়ারি এলাকার মন্দা কাটাতে গণেশের আরাধনাতেই ডুবে রয়েছেন এই এলাকার মানুষজন। এই উৎসব দশদিন ধরে চলবে। এই পুজোকে ঘিরে এলাকায় মেলা বসে। এমনকি রক্তদানের মত সামাজিক কর্মসূচিও হয়। এবার পুজো মণ্ডপ গুজরাটের স্বামী নারায়ণের মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের কালনার শিল্পী সঞ্জয় ঘোষ এই মণ্ডপ সাজিয়েছেন। এই গণেশের আরাধনা একটি ক্লাবের হলেও এই পুজো আসলে নিতুড়িয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা ওই ব্লক তৃণমূলের যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তিভূষন প্রসাদ যাদবের বলেই এই এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। তবে এর সঙ্গে কোনও রাজনীতির সম্পর্ক নেই। তিনি এই পুজো কমিটির সম্পাদক হয়ে জনসংযোগকে মজবুত করেন বটে। কিন্তু এখানে শুধুই সম্প্রতির বার্তা। আর উৎসব।

Advertisement

তাই তাঁর কথায়, “এই পুজো এখন মিলন মেলা। শুধু এই এলাকার মানুষ নন। আশপাশের গ্রাম এমনকি লাগোয়া আসানসোল, ঝাড়খণ্ড থেকেও এই পুজো দেখতে এখানকার মণ্ডপে ভিড় জমান। দশদিন ধরে মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। সিদ্ধিদাতার কাছে আমাদের প্রার্থনা এই খনি অঞ্চলের মন্দা যাতে দ্রুত কাটে।” এই ক্লাবের সম্পাদক সঞ্জয় যাদব ও সভাপতি মৃদুল সরকার বলেন, এই পুজো এবার মুম্বইয়ের সঙ্গে পাল্লা দেবে। এই খনি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নত হওয়ায় সব কিছুতেই জাঁকজমক যেমন বেশি তেমনই সৃষ্টিশীলতাতেও নজরকাড়া।

 

 

ছবি ও ভিডিও- অমিত সিং দেও

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.